মুখের বিব্রতকর সমস্যা



দুর্গন্ধ বা দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস একটি বিরক্তিকর স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রায়শই আক্রান্ত ব্যক্তি তার এমন অবস্থা সম্পর্কে খুব একটা অবগত থাকেন না। তবে সমস্যাটি আশেপাশে অবস্থানকারীদের। কেননা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় যখন দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস বেরিয়ে আসে তখন গোটা পরিবেশকে অন্যদিক ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য। শুধু পার্শ্বব্যক্তিই যে এর নেতিবাচক প্রভাবে বিরক্ত হন তা কিন্তু নয়।

সংশ্লিষ্ট ভূক্তভোগী ব্যক্তিও নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হন দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস ও এর আনুষঙ্গিক কারণে। তাই কেউ কেউ হরেক ব্র্যান্ডের মাউথওয়াস/ সেপ্র ইত্যাদি ব্যবহার করে বিরক্তিকর অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় খুঁজেন তাতে ফলাফল কতদূর পাওয়া যায়- তা বলতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বসে নেই, একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তেমনি সমপ্রতি পরিচালিত সমীক্ষা শেষে একদল মার্কিন বিজ্ঞানী একটি নতুন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তাদের ভাষায় দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস দূরীকরণে এবং সুগন্ধী শ্বাসের জন্য মিন্ট বা পারফিউম এর চেয়ে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম ম্যাগনোলিয়া ফুল গাছের বাকল বা ছাল। এখন থেকে এই গাছের চারা লাগাতে পারেন আপনারাও। মুখের দুর্গন্ধ বা Bad Breath নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত্ গবেষকরা নানা ধরনের তথ্য সরবরাহ করছেন। এ নিয়ে আছে নানা মতবাদ।মুখের দুর্গন্ধ মুখের বিভিন্ন সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা, এই সমস্যা গুলো মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা ও মাড়ির রোগকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে চিহূিত করা যায়। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, এটা প্রধানত: মুখের খাদ্যকনা থেকে বিপাকিয় পদ্ধতির ফলে নির্গত জীবানুসমূহের থেকে এমাইনো এ্যাসিড এর কারণে হয়ে থাকে, এদের মধ্যে প্রধানত: মুখের গন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে ভেলোটাইল সালোফার কম্পাউন্ডস (VSCs) যেমন হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), মিথাইল মারকেপটেন (CH3SH) এবং ডিনিথাইল সালফাইড (CH3SCH3)। তবে এই ধরনের গবেষণায় তিন রকমের রোগীদের মুখের দুর্গন্ধ সনাক্ত করা হয়েছে যেমন (১) সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী। (২) কৃত্রিম/মেকি মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী ও (৩) মুখের দুর্গন্ধ সম্পর্কে আতঙ্কিত /ভীত রোগী। সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগীদের মুখ থেকে গবেষকরা VSC এর মাত্রা সমূহ পরিমাণ করার পর যারা সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী ছিলেন তাদের নিম্নের চিকিত্সা সমূহ প্রদান করেন
মাড়ির প্রদাহ সমূহের চিকিত্সা
মুখের ও দাঁতের অন্যান্য চিকিত্সা
মুখের যত্নের হাতে কলমে শিক্ষা
মুখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পরামর্শ দান।

সাধারনত:কৃত্রিম মুখের দুর্গন্ধ ও আতঙ্কিত রোগীদের মুখের দুর্গন্ধ এই দুই শ্রেণীর রোগীকে স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান দান ছাড়াও বিভিন্ন পরামর্শ ও উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। যে সমস্ত রোগীদের ভ্রান্ত ধারণা আছে যে তাদের মুখে দুর্গন্ধ আছে এটা তারাই বুঝতে পারে এবং অন্য কোন স্বাস্থ্য শিক্ষা বা পরামর্শ বা আস্বস্থতা তাদেরকে এই বিশ্বাস থেকে সরাতে পারে না বা কার্যকর হয় না তাদেরকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার জন্য পাঠানো হয়। এটা সত্য যে, মুখের দুর্গন্ধ এমনই একটি লক্ষণ যেটা মানসিক উদ্বেগেরও কারণ ঘটায়। মুখের এই দুর্গন্ধ কেন হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানের গবেষণা বহুকাল যাবত্ চলে আসছে। সে সব গবেষণা থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা গেছে, সেগুলোর মধ্যেঃ
প্রতিবার খাবার গ্রহণে মুখের ভিতরে খাদ্য আবরণ দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির ভিতর জমে থেকে ডেন্টাল প্লাক সৃষ্টি এবং তা থেকে মাড়ির প্রদাহ (পেরিওডেন্টাল ডিজিজ)
মুখের যে কোনো ধরনের ঘা বা ক্ষত
আঁকাবাঁকা দাঁত থাকার কারণে খাদ্য কণা ও জীবাণুর অবস্থান
দেহে সাধারণ রোগের কারণে মুখের ভিতরে ছত্রাক ও ফাঙ্গাস জাতীয় ঘা (ক্যানডিয়াসিস)
মুখের ক্যান্সার
ডেন্টাল সিষ্ট বা টিউমার
দুর্ঘটনার কারণে ফ্রেকচার ও ক্ষত
অপরিষ্কার জিহবা

তাছাড়া দেহের অন্যান্য রোগের কারণেও মুখের দুর্গন্ধ হতে পারে, যেমনঃ
পেপটিক আলসার বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ
লিভারের রোগ
গর্ভাবস্থা
কিডনি রোগ
রিউমেটিক বা বাতজনিত রোগ
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র
হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ
গলা বা পাকস্থলীর ক্যান্সার
এইডস রোগ
হূদরোগ
মানসিক রোগ
নাক, কান, গলার রোগ

প্রাথমিক পর্যায়ে মুখের স্থানীয় রোগ গুলোকে চিকিত্সা করানো প্রয়োজন। মুখের স্থানীয়ভাবে কারণগুলো দূর করার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায় তবে দেহের অন্যান্য সাধারণ রোগের উপস্থিতির পরীক্ষাগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দ্ব্বারা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো। তবে মুখে দুর্গন্ধ হলে ঘরে বসে

আপনি যা করবেন
একটি পরিষ্কার উন্নত মানের দাঁতের ব্রাশ ও পেষ্ট দিয়ে দাঁতের সবগুলো অংশ ভিতরে-বাইরে পরিষ্কার করুন (তিন বেলা খাবারের পর)।
জিহ্বা পরিষ্কারের জন্য জিবছলা ব্যবহার করুন। বাজারে স্টেনলেস ষ্টিল অথবা প্লাষ্টিকের জীবছুলা পাওয়া যায়।
যে কোনো ধরনের মাউথওয়াস (ক্লোরহেক্সিডিন জাতীয়) ২ চামচ মুখে ভিতরে ৩০ সেকেন্ড রেখে ফেলে দিয়ে আবার অল্প গরম লবণ পানিতে কুলিকুচি করুন প্রতিদিন অন্তত দু’বার সকালে ও রাতে আহারের পর।
সবসময় সময়ে মুখের ভিতরে একটি লং বা এলাচির দানা রাখুন।
মূল খাবারের আগে বা পরে প্রতিবার আহারের পর (যা কিছু খাবেন যেমন বিস্কুুট, ফলমূল ব্লাক জাতীয় খাবার) সম্ভব হলে দাঁত ব্রাশ করুন অথবা ভালোভাবে কুলিকুচি করে ফেলুন।
ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য জর্দ্দা, পান ইত্যাদি ত্যাগ করুন, তাতে শুধু যে মুখের দুর্গন্ধ দুর হবে তা নয় মুখের ক্যান্সার ও প্রতিরোধ হবে।

বিশেষভাবে যা করবেন

দাঁত ব্রাশ করলেই শুধু ময়লা বা খাদ্যকনা পরিষ্কার হয় না, কারণ দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে বা মাড়ির ভিতরে ভিতরে অনেক সময় খাদ্যকণা জমা থেকে পচন শুরু হয়। তাই যাদের দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে খাদ্য জমা হয় বুঝতে হবে তাদের ডেন্টাল ফ্লস (এক ধরনের পিচ্ছিল সূতা) বা ডেন্টাল টুথ পিকস (এক ধরনের জীবাণু মুক্ত শলাকা)-এর সাহায্যে খাদ্য কণা গুলো বের করা প্রয়োজন। এই ডেন্টাল ফ্লস বা সূতো এবং জীবাণু মুক্ত শলাকা ব্যবহার বিধি একজন ডেন্টাল সার্জনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। অনেক সময় এ ফাঁক গুলো ডেন্টাল ক্যারিজ বা মাড়ির রোগের কারণেও হতে পারে, তাই কোনো সিদ্ধান্তের আগে ডেন্টাল এক্স-রে করিয়ে নেওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

সবশেষে বলতে চাই দ’বেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ, বছরে দু’বার দাঁত ও মুখ পরীক্ষা এবং নাক, কান,গলা সহ পেটের স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে মুখের দুর্গন্ধ আপনার কাছেও আসবেনা।

মেয়েলী রোগ লিউকোরিয়া


লিউকোরিয়াকে বাংলায় শ্বেতপ্রদর বলে অভিহিত করা হয়। মাসিক হওয়ার রাস্তা দিয়ে যে সাদা স্রাব নিঃস্বরণ হয় তাই শ্বেতপ্রদর। আসলে এটা কোনো রোগ নয়, উপসর্গ মাত্র। মেয়েদের জীবনে কোনো না কোনো সময় এই লিউকোরিয়া সমস্যা হতে পারে। রস শ্লেষ্মা অথবা পুঁজযুক্ত সাদা স্রাব নিঃস্বরণ হয় বলেই এটাকে লিউকোরিয়া বলা হয়। মহিলাদের এটা মূলত স্বাভাবিক অবস্থা, কোনো রোগ নয়।
লিউকোরিয়ার কারণ দুটি:
ফিজিওলজিক্যাল বা সহজাত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন;
প্যাথলজিক্যাল বা রোগজনিত কারণ।

ফিজিওলজিক্যাল লিউকোরিয়া যেসব ক্ষেত্রে হতে পারে তা হচ্ছে:
জন্মগ্রহণের পর মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে আড়াই মাস বয়সী শিশুর
যৌবনকালে হরমোনের কারণে
ডিম্বাশয় হতে ডিম্বাণু নিঃস্বরণের সময়

প্যাথলজিক্যাল বা যেসব রোগের কারণে লিউকোরিয়া সমস্যা হতে পারে সেগুলো হলো, রুগ্ন স্বাস্থ্য, অপুষ্টি, অসুখী দাম্পত্যজীবন এবং সেই সঙ্গে কিছু মানসিক অসুস্থতা। এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্ব্বন; যেমন খাওয়ার বড়ি, কপারটি, রিং পেসাজ ইত্যাদি। অন্যদিকে এন্টিবায়োটিকের ব্যাপক ব্যবহারেও লিউকোরিয়া হতে পারে।

যেসব কারণ বা অবস্থায় এই সমস্যা হতে পারে সেগুলো হলো, রক্তশুণ্যতা, দীর্ঘকালীন কিডনি রোগ, যক্ষ্মা, পেটের অসুখ, ডিম্ব্বাশয়ের নিঃস্বরণ অভাব ইত্যাদি। ভিটামিন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রণ ইত্যাদির অভাবের কারণেও সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া হতে পারে।

জীবাণুঘটিত লিউকোরিয়া এবং তার লক্ষণ:

খুবই কমন যেসব জীবাণু দ্বারা লিউকোরিয়া হয় সেগুলোর মধ্যে ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজাইনালিস ক্যানডিডা এলবিকানস, গনোরিয়ার জীবাণু নাইসেরিয়া গনোরি গাডিনিরিলা ভ্যালাইনালিস অন্যতম। এসব জীবাণু দ্বারা লিউকোরিয়া হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো, প্রচুর যোনি স্রাব সাদা বা অন্যান্য রংয়ের নিঃস্বরণ, স্রাবের বিশ্রী গন্ধ, অনেক সময় মাছের আশটে গন্ধের মতো সঙ্গে চুলকানি থাকতে পারে। সেই সঙ্গে তলপেট, পিঠ ও মাজায় ব্যথা থাকতে পারে।

ট্রাইকোমোনাস জীবাণু দ্বারা সংঘটিত লিউকোরিয়ার লক্ষণ:

এই সমস্যা যুবতী বয়সে যারা গর্ভকালীন ও মেনোপজের সময় হয়ে থাকে। এই রোগের সুপ্তিকাল বার থেকে আঠাশ দিন। যোনিপথে হলুদাভ স্রাব ও প্রচুর সবুজাভ ক্ষরণ এবং কখনো বেশি পরিমাণ সাদা বা ক্রিম রঙের হতে পারে।

ক্যানডিডা জীবাণু দ্বারা সংঘটিত লিউকোরিয়ায় সামান্য চুলকানি অথবা প্রচণ্ড চুলকানি থাকে। সাদা দইয়ের মতো ছাকড়া ছাকড়া স্রাব দেখা দেয়। মাসিকের সময় গর্ভাবস্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এবং এন্টিবায়োটিক সেবনের সময় লিউকোরিয়া বেড়ে যেতে পারে।

গনোরিয়া জীবাণুঘটিত লিউকোরিয়া:
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াসহ বার বার প্রস্রাবের বেগ হয়
ক্ষণ বা স্রাব বেশি হয়ে জরায়ু গ্রীবা ও বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ দেখা দেয়। ফেলোপিয়ন টিউবে প্রদাহ হয়ে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।

চিকিত্সা:

প্রথমেই রোগীর অন্য কোনো শারীরিক ও মানসিক রোগ আছে কিনা তা নির্ণয় করে চিকিত্সা দিতে হবে। এমন কি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলেও তার চিকিত্সা করাতে হবে এবং পরে স্রাবের ওষুধ দিতে হবে। রোগীকে আশ্বস্থ করতে হবে।

মহিলাদের গর্ভকালীন যত্ন



একজন নারীর কাছে মা হবার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শত কষ্টের মাঝেও একজন নারী তার গর্ভকালীন সময়ে একধরনের সুখের অনুভূতি নিয়ে সময় পার করে। গর্ভকালীন সময়ে কিছু নিয়ম মেনে চললে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হয়।
প্রথম তিন মাস:
মাসিক বন্ধ হলে ডাক্তারের পরামর্শে প্রস্রাব এবং রক্ত পরীক্ষা করে আপনি সন্তান সম্ভবা কিনা তা নিশ্চিত করুন।
মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব হলে ঘাবড়ানোর কিছু নাই। বিশ্রাম নেবেন।
খাবার অরুচি হলেও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
ফলিক এসিড সেবণে বাচ্চার মস্তিষ্ক সুগঠিত হয়।

তিন থেকে সাত মাস:
প্রথম তিন মাসের উপসর্গ কমে আসে।
তিন থেকে পাঁচ মাসের ভেতরে বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করতে পারেন। এসময় একবার ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
পাঁচ মাসের পর পেট দ্রুত বাড়তে থাকে। এসময় আরামদায়ক ঢিলেঢালা কাপড় পড়বেন।
ক্ষুধা বাড়তে পারে। বেশী করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। স্বাভাবিক ও সহজে হজমযোগ্য সুষম খাবার খাওয়াই শ্রেয়।
তেলযুক্ত, ভাজা পোড়া খাবার বর্জন করুন।
শাক সবজি, ফলমূল বেশী খাবেন।
ছোটমাছ, হাড় খাবেন যা একসময় ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করবে।
দুঃচিন্তা করবেন না। ভাল করে ঘুমাবেন।
বাচ্চার নড়াচড়া হঠাত্ বন্ধ হলে দেরী না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
জরায়ু দিয়ে রক্ত বা পানি আসলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সাত থেকে নয় মাস:
পায়ে পানি আসলে, ফুলে গেলে ভয় না পেয়ে কোন স্বাস্থ্য কর্মী বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আরামদায়ক কাপড় এবং জুতা পরুন।
হাটাহাটি করতে পারেন কিন্তু ভারী কাজ করা যাবেনা।
রক্তের গ্রুপ করিয়ে নিন এবং আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু বান্ধবদের রক্তের সাথে গ্রুপ ম্যাচিং করিয়ে নিন যেন প্রয়োজনে রক্ত সহজলভ্য হয়।
আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে প্রসবব্যাথা উঠার সাথে সাথে আপনার করণীয় নিশ্চিত করুন।
কোথায় ডেলিভারী করাবেন? প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র তৈরী রাখবেন আপনার ডাক্তারই এ ব্যাপারে আপনাকে পরামর্শ দেবেন।
তলপেটে ব্যাথা, শক্ত হওয়া, কোমড় ব্যাথা, বারবার ব্যাথা উঠা, রক্ত মিশ্রিত স্রাববের হওয়া প্রসব বেদনা লক্ষণ।

আরো কিছু করণীয়:
স্বাভাবিক কাজ করা যায় কিন্তু কাপড় কাঁচা, ঘরমোছা, ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন।
প্রথম তিন মাস এবং শেষ ১ মাস ঝাঁকি বেশী হয় এমন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
প্রথম তিসমাস এবং শেষের ১ মাস সহবাস না করা ভাল।
ডাক্তারের পরামর্শে টিটেনাস ইনজেকশন নিয়ে নিতে হবে।
গর্ভাবস্থায় অন্তত ৪ বার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চেক আপ কারবেন (১৬,২৮,৩২ এবং ৩৬ সপ্তাহ)।

পরিশেষে বলতে হয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও গর্ভবতী মহিলার যত্ন নেয়া প্রয়োজন। সকলের সহযোগীতায় গর্ভবতী নারীর নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হয়।

গর্ভধারণ এবং ওজন সমস্যা

গর্ভধারণ মহিলাদের জীবনে একটি স্বাভাবিক প্রকৃয়া। ২২ থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত গর্ভধারণের উপযুক্ত সময়। গর্ভধারণের প্রস্তুতির সময় একজন মহিলাকে নিম্নের অবস্থাগুলির দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বয়স
শারীরিক অবস্থা
মানসিক অবস্থা
রক্তের চাপ
রক্তে চিনির অবস্থা
রক্তে ক্যালসিয়াম ও আয়রণের পরিমাণ
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের হরমোনের অবস্থা
সংক্রামক রোগ
পারিবারিক অবস্থা
স্বামীর লিভিং ঋনের সংখ্যা

অনেক সময় দেখা যায় যে, উপরোক্ত সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও একজন মহিলা গর্ভধারণে অপারগ। এর মূল কারণ কি? ডাক্তার পরীক্ষা নীরিক্ষা করে বলেন আপনার কোন সমস্যা নেই, শুধু আপনার শারীরিক ওজনই আপনার একমাত্র সমস্যা। ওজন কমান, ওজন কমালে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায় এবং এটি পরিক্ষিত। শুধুমাত্র শারীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে গর্ভধারণ করেছেন এমন গর্ভবতী মায়ের সংখ্যা লক্ষণীয়। গবেষণার ফলাফল ৬৭%। ওজন বৃদ্ধির ফলে যে সমস্ত সমস্যার সম্ভাবনা বাড়ে তা হলো-


মাসিকের সমস্যা
পলি সিষ্টিক ওভারী
বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণের অক্ষমতা
ডায়াবেটিস
উচ্চরক্তচাপ
হূদরোগ
কিডনি অকেজো
হরমোনের অসমতা
পায়ের ব্যথা
কোমড়ের ব্যথা
অস্টিওআথ্রাইটিস
আথ্রাইটিস
পিত্তথলির রোগ
ভেরিকোষ ভেইন
ফ্যাটি লিভার
কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া
গর্ভপাত
ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার
ডিপ্রেশন
ডিসলিপিডেমিয়া
স্লিপ অ্যাপনিয়া
শ্বাসকষ্ট

অতিরিক্ত ওজন (ওবেসিটি) কে বলা হয় উপরোক্ত রোগ গুলোর সহযোগী রোগ। গর্ভাবস্থায় একজন মাকে অবশ্যই উপরোক্ত রোগ মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। মাকে মনে রাখতে হবে শুধু গর্ভধারণ করলেই চলবে না তাকে একটি সুস্থ সন্তান প্রসবের সর্বাত্বক চেষ্টা চালাতে হবে। এক্ষেত্রে বলা যায়, গর্ভধারণ ও সুস্থ্য সন্তান প্রসবের পূর্ব শর্ত শরীরের আদর্শ ওজন, আদর্শ ওজন সহজে গর্ভধারণের সহায়ক ও উপরোক্ত রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে বিকলাংক শিশু জন্মদান অনেকাংশে কমে আসবে। কারণ অসুস্থ্য মাকে গর্ভাবস্থায় অনেক ধরণের ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। যেমন- এন্টিহাইপার টেনসিভ, এন্টিডায়াবেটিক, স্টেরয়েড, ইনহেলার, পেইনকিলার এসমস্ত ওষুধ গর্ভাবস্থ শিশুর উপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলে। তাই ওজন স্বাভাবিক রেখে, রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া, যে কোন সময় যে কোন ওষুধ গ্রহণের প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজনের বিরূপ প্রভাব:
অনিয়মিত মাসিক
ডিম্ব পরস্ফুিটণের হার কম
পলি সিষ্টিক ওভারী সিনড্রম
শরীরে হরমোনের পরিবর্তন
সেক্স হরমোন নি:স্বরণ ও কার্যকারিতার পরিবর্তন।

অতিরিক্ত ওজনের কারণে যারা গর্ভধারণ করতে পারছেন না, তাদেরকে ডাক্তার পরামর্শ দিচ্ছেন ওজন কমানোর। কারণ অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেললে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে। গবেষণায় দেখা যায় ১০-১৫ কেজি ওজন কমালে যাদের অতিরিক্ত ওজন তাদের ক্ষেত্রে ৮৯.৬% > নিয়মিত ভাবে ডিম্ব পরস্ফুিটন হচ্ছে, ৭৭.৬% গর্ভধারণ হয়েছে, ৬৭% সন্তান জন্মদান করেছেন। অতএব অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারলে যে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে তা বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত। তাই গর্ভধারণের ইচ্ছুক মহিলার শরীরের ওজন স্বাভাবিক থাকা আবশ্যক। অতিরিক্ত ওজন নিয়ে গর্ভধারণ করলেও বার বার গর্ভপাত ঘটার ঘটনাও অনেক।

ওজন কি করে কমাবেন:
আপনি হয়তো গর্ভধারণের আশায় অনেক কিছু করছেন। যেমন-ভাত খাচ্ছেন না, রুটি খাচ্ছেন না, হাটছেন, কত টাকা পয়সা খরচ করছেন। ওজন কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন। লেজার করছেন। লাইপোসেকশন করছেন, অনেকে বুদ্ধি দিলেন যে, তলপেটের চর্বি কমাও, সেটাও করালেন। মোটা অংকের টাকা খরচ করে লাইপোলাইসিসের ম াধ্যমে আপনার তলপেটের চর্বি ২-৩ ইঞ্চি কমলেই কি আপনার গর্ভধারণ হবে। আপনার হয়তো ১০/২০/৩০ কেজি ওজন কমাতে হবে। পুরোপুরি ভাবে আপনার জরায়ু, ডিম্বাশয়, ইত্যাদি প্রস্তুত হতে হবে। তবেই গর্ভধারণের সম্ভাবণা বাড়বে। অনেক কিছু করা হলো কিন্তু ওজনও কমলো না। গর্ভধারণও হলো না। তখন কি করবেন? নিজে জেগে উঠুন। নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করুন। অকার্যকর পদ্ধতি পরিহার করুন। এতদিন যা করেছেন তা ত্যাগ করুন। ওজন কমানোর ওষুধ খাবেন না। ওজন কমানোর দেশী বিদেশী দামী কমদামী ওষুধ কোনটাই স্থায়ীভাবে ওজন কমাতে সক্ষম হয়নি। তার ওপর এগুলো শরীরে নানা রকম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যেমন- লিভার, কিডনি, ইত্যাদি। আশে পাশের ভাবী বা বান্ধবীদের কথায় এটা সেটা খাওয়া শুরু করবেন না। কারণ গর্ভধারণের বাঁধা দানকারী খাদ্যগুলো হয়তো আপনি গ্রহণ করছেন। অর্থাত্ না বুঝে না শুনে ডায়েট করবেন না। গর্ভধারণের ইচ্ছুক মহিলারা ওজন কমানোর জন্য দড়ি লাফাবেন না, মেশিনের হাঁটবেন না, মেশিনে দৌড়াবেন না, কাচা পেঁপেঁ খাবেন না, টমেটো খাবেন না, আনারস খাবেন না, সয়া মিল্ক খাবেন না, পেটের মধ্যে তাপ জাতীয় কোন মাসাজ বা মালিশ করাবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে লেজার বা লাইপোসেকশনের মাধ্যমে স্থূলতার চিকিত্সা করা হয় না। এগুলো স্বীকৃত চিকিত্সা পদ্ধতি নয়। (চলবে)

ওজনকমানোর সঠিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ: সঠিক পদক্ষেপ হলো দু’টি। এক: ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত ক্যালরি ও সুষম খাবার গ্রহণ করা। অর্থাত্ ওয়েট রিডিউসিং ডায়েট চার্ট মেনে চলা। দুই:প্রতিদিন নিয়ম করে ৪০ মি: থেকে ৬০ মি: খোলা জায়গায় হাঁটা। কোন মেশনি নয়। ওজন কমাতে নিয়মিত হাঁটার কোন বিকল্প নেই। উপরোক্ত দুই পদক্ষেপ ছাড়া ওজন কমানোর সঠিক কোন পদ্ধতি নেই। এই দু’টি পদক্ষেপ আপনাকে ওজন কমাতে শতভাগ নিশ্চয়তা দেবে, ইনশাল্লাহ। ডায়েট আপনি আপনার আয়ের সাথে সমতা রেখে সহজলভ্য খাদ্য দ্বারা ওজন কমাতে পারেন ও সহজেই গর্ভধারণ করতে পারেন। হাঁটাতে কোন খরচ নেই। খরচের হার ০%। উপরোক্ত পদ্ধতি দ্বারা নিজেই ঘরে বসে ১ মাসে ওজন কমাতে পারেন ৪-৫ কেজি। এতে গর্ভধারণের পথ সূগম হবে।

এই দুই পদক্ষেপ মেনে চলতে আপনার যা দরকার: প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি, নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা, নিজের দায়িত্ব নিজে নেয়া। সারাদিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৪০ মিনিট হাঁটার জন্য সময় বের করা। সারা জীবন নয় প্রথমে মাত্র ১ মাসের জন্য নিয়ম মেনে চলা, ফলাফল পেলে আপনি সিদ্ধান্ত নিন পরের মাসে আরো ৪-৫ কেজি ওজন কমাবেন কিনা। এক মাসে জন্য চিনি ছেড়ে দিন, তেল গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দিন প্রতিদিন ৫ চা চামচ তেল এর বেশি নয়। ভাজা ও মিষ্ট খাবার একেবারেই খাবেন না। ডায়েট করবেন, বর্তমানে যা খাচ্ছেন তার তিন ভাগের এক ভাগ খাবার খাবেন। সবকিছুই খাবেন কিন্তু পরিমাণের কম। মাত্র এক মাসের জন্য আপনার পরীক্ষায় আপনাকে উত্তির্ণ হতে হবে, চেষ্টা করুন, যেমন বর্তমানে আপনি ৩টি রুটি খাচ্ছেন এখন থেকে ১টি রুটি খাবেন, এভাবে সব খাবারের পরিমাণ কমাবেন। খাবার বাদ দেয়া যাবে না। দাওয়াতে যদি খেতেই হয় তবে এক মাসের জন্য না খেলে কি হবে, মনে রাখবেন আপনি গর্ভধারণ করতে চান। আর এই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ তো সারা জীবনের জন্য নয়। ওজন কমানো পর্যন্ত। কাছের মানুষের সহযোগীতা নিন।

খাদ্য তালিকা থেকে যা বাদ দিতে হবে: ময়দা, চিনি, বেকারী খাবার, চর্বিযুক্ত মাংস, চিনি, দুধ চা, ফাস্টফুড, অনুষ্ঠানের খাবার, শুকনো খাবার, যেমন- মুড়ি, বিস্কুট, বাদাম, ভাজা, ভূনা ও ঘন খাবার।

খাদ্য তালিকায় যা যোগ করতে হবে: লিগার চা, লেবু চা, গ্রীন টি, বেশি শাক সবজি, (আলু ও কলা নয়) সালাদ, কম চর্বি যুক্ত দুধ, লেবু, সিরকা, লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, আশযুক্ত খাবার, টকফল, (জাম্বুরা, আমড়া) ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগী ও ১০-১২ গ্লাস পানি।

খাদ্যের ৬টি উপাদান:এবার লক্ষ করুন, আপনার খাদ্য তালিকায় খাদ্যের ৬টি উপাদান বিদ্যমান আছে কিনা। যেমন-প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিনস, মিনারেলস ও পানি। বর্তমানে খাদ্যশস্য ও খাদ্য তালিকায় সংযুক্ত করার জন্য পুষ্টি বিজ্ঞানীদের ইতিবাচক সম্মতি রয়েছে। একটু লক্ষ করুন, আমাদের বেচে থাকার জন্য যে অবস্থাগুলির ভূমিকা আবশ্যকিয়, অতিরিক্ত ওজন এই সবগুলোকে ধ্বংস করে, যেমন- স্থূলতা। স্থূলতা মানসিক চাপ বাড়ায়, কর্মক্ষমতা কমায়, লেখাপড়ায় অমনোযোগী করে, চাকরিতে বিঘ্ন ঘটায়, বিষন্নতা তৈরী করে, স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের অবণতি ঘটায় অর্থাত্ স্থূলতার কোন ভালো দিক নেই। তবে কেন এই স্থূলতা; এর সমাধান কি; এর চিকিত্সা কি; এর চিকিত্সক কে; এসব বিষয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি চান। এভাবেই থাকবেন, না ওজন কমাবেন? এ প্রশ্নের উত্তর, ওজন কমানোর জন্য বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেয়া, অর্থাত্ প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি।

চিকিত্সা: খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও হাঁটা ও চিকিত্সক এসব ক্ষেত্রে ওজন কমানোর চিকিত্সক আপনি নিজে, আপনি যদি আপনাকে সাহায্য না করেন, তবে কে আপনাকে সাহায্য করবে, টিচার শুধু ভালো হলে আপনি তো পাশ করতে পারবেন না। আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে সাফল্যের জন্য লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য।

আর নয় অবহেলা:এক মাস নিজে চেষ্টা করুন, নিজের ভালো কে না চায়। আজকের নির্দেশনা আপনার ওজন কমাতে যথেষ্ট এবং আপনি নিজেই যথেষ্ট। এখানে তো কোন ক্ষতিকারক দিক নেই, খরচ নেই, শুধু আপনার আগ্রহ, আপনার ইচ্ছা শক্তি ও আপনার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সতর্কতা: শুধু ওজন কমাতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা অপ্রয়োজনীয় অপচয়, তবে আপনার ইচ্ছা, আপনার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত।

শুভকামনা:সঠিক পদ্ধতি মেনে আপনার অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। ওজন কমানোর ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে আসুন। আল্লাহ আপনার কঠিন কাজ সহজ করে দিক। আপনার গর্ভধারণের ইচ্ছা পূরণ হোক, সফলতার স্লোগান, “নিজের ভাগ্য নিজে গড়ি অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করি

প্রসব-পরবর্তী মায়ের পরিচর্যা



প্রসব-পরবর্তী ৬-৮ সপ্তাহ সময় একজন মায়ের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ের সঠিক পরিচর্যা একদিকে মাকে যেমন গর্ভ ও প্রসবসংক্রান্ত বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সাহায্য করে, তেমনি মাকে এ সময়ের বিভিন্ন জটিলতা থেকে রক্ষা করে। সঠিকভাবে বাচ্চার যত্ন নিতে ও বুকের দুধ খাওয়াতে সাহায্য করে। কিন্তু অজ্ঞতা অথবা অনীহার কারণে আমাদের দেশে মায়েদের প্রসব-পরবর্তী সেবার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেবার হার অনেক কম।
প্রসব-পরবর্তী মায়ের
পরিচর্যার পদক্ষেপসমূহ
মায়ের বিশ্বাম, ঘুম ও চলাফেরা স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে প্রসবকালীন ধকল কেটে ওঠার পর মায়ের ৮-১০ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন। এরপর থেকে মাকে স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করতে হবে। আজকাল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলাফেরা শুরু করতে বলেন ডাক্তারগণ। কারণ এর উপকারিতা অনেক। যেমন-স্বাভাবিক চলাফেরা মাকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে, প্রস্রাব-পায়খানার জটিলতা থেকে মুক্ত করে, জরায়ুর ভেতরে জমে থাকা রক্ত বের হয়ে যেতে সাহায্য করে এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোগ হওয়া থেকে রক্ষা করে। তবে স্বাভাবিক চলাফেরা মানে এই নয় যে, মা তার দৈনন্দিন সাংসারিক অথবা চাকরিস্থলের কাজকর্ম শুরু করবে। প্রসব পরবর্তী ৬-৮ সপ্তাহ সকল পরিশ্রমের এবং ভারী কাজ থেকে মাকে বিরত থাকতে হবে। কারণ মায়ের এ সময় মানসিক এবং শারীরিক বিশ্রাম প্রয়োজন। দুপুরে খাবার পর কমপক্ষে ২ ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। প্রতিদিন বিশ্রামের সময় কিছুক্ষণ উপুড় হয়ে শোয়া ভালো, যা জরায়ুর অবস্থান স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের ফলে মা নিজে সুস্থ থেকে বাচ্চাকে সঠিকভাবে যত্ন নিতে ও বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।
মায়ের খাবার
প্রসব-পরবর্তীতে মায়ের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি খাবার বেশি খাওয়া দরকার। এই অতিরিক্ত ক্যালরি বুকের দুধ তৈরির জন্য প্রয়োজন হয়। তাই এ সময় মাকে সঠিকমাত্রায় সুষম খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। এ সময় মায়ের দেহে পানির প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় ও ঘন ঘন পিপাসা পায়। মাকে সব সময় পিপাসা পেলেই প্রচুর পানি পান করতে হবে। পানি পানের উপকারিতা অনেক যেমন-এই পানি বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চার পানির প্রয়োজনীয়তা মেটায়। বাচ্চাকে আলাদা করে পানি খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না। পানি মায়ের শরীরের বিভিন্ন পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে, প্রস্রাবের প্রদাহ, কোষ্টকাঠিন্য এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। সুষম খাবার ছাড়াও মাকে এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বড়ি খেতে হবে।
প্রস্রাবের সমস্যা
ডেলিভারির পর মায়ের প্রস্রাবের বিভিন্ন রকমের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেমন-প্রস্রাবের সংক্রমণ, পরিপূর্ণভাবে প্রস্রাব না হওয়া, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এসব সমস্যাকে এড়ানোর জন্য প্রয়োজন প্রচুর পানি পান করা, প্রস্রাব আটকে না রেখে বারবার প্রস্রাব করা, সঠিক এবং পরিচিত স্থানে প্রস্রাব করা, স্বাভাবিক চলাফেরা করা, পেটে বা সেলাইয়ের স্থানে ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথার ওষুধ সেবন করা।
সেলাইয়ের স্থানের যত্ন
অনেক সময় স্বাভাবিক ডেলিভারির সময় পেরিনিয়াম কাটা ও সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়। কাটা স্থান তাড়াতাড়ি ভালো হওয়ার জন্য স্থানটি শুকনো পরিষ্কার রাখা দরকার। প্রতিবার টয়লেটে যাওয়ার পর স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার ও শুকনো গজ অথবা কাপড় দিয়ে শুকাতে হবে। প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাবের (মাসিক) জন্য ভালো স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে হবে এবং তা বার বার পরিবর্তন করতে হবে যাতে সেলাইয়ের স্থানটি বেশিক্ষণ রক্তস্রাব দিয়ে ভেজা না থাকে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।
স্তনের যত্ন
ডেলিভারির পর মায়ের স্তনে দুধ আসার কারণে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়, যার জন্য প্রয়োজন স্তনের সঠিক পরিচর্যা। সঠিক যত্নের অভাবে মায়েরা বিভিন্ন জটিলতায় ভুগে থাকেন। প্রতিদিন গোসলের সময় এবং বাচ্চার দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনের বোটা পরিষ্কার করতে হবে, যাতে দুধ বের হওয়ার ছিদ্রগুলো বন্ধ না হয়ে যায়। এ সময় স্তনের আকার বড় ও ভারী হয়ে থাকে। ডেলিভারির ২-৩ দিন পর স্তনে প্রচুর দুধ আসার ফলে স্তন শক্ত হতে পারে ও ব্যথা হতে পারে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হচ্ছে বারবার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো। স্তনে হালকা গরম সেঁক দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
বাচ্চার যত্ন
প্রসব-পরবর্তীতে স্বাভাবিক চলাফেরা ছাড়া মায়ের একটি অন্যতম কাজ হচ্ছে বাচ্চার যত্ন নেয়া। বাচ্চার যত্ন ও পরিচর্যার দায়িত্ব অন্যের হাতে না দিয়ে মায়ের নিজের হাতে করাই ভালো। এতে বাচ্চার বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। বাচ্চার যত্নে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে-
ডেলিভারির পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে
৬ মাস বাচ্চাকে শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে
বাচ্চার নাভী পরিষ্কার, শুকনো এবং খোলা রাখতে হবে। কোনো কিছু লাগানোর প্রয়োজন নেই
বাচ্চা ও মা একই বিছানায় থাকবে। বাচ্চাকে সব সময় মায়ের খুব নিকট সংস্পর্শে রাখতে হবে। কোনো নিয়ম না করে বাচ্চা যখন এবং যতক্ষণ খেতে চায়, ততক্ষণ বুকের দুধ খাওয়াতে হবে
শুয়ে বসে মায়ের সুবিধা অনুযায়ী বাচ্চা ও মায়ের যেকোনো অবস্থানে মা তার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন, যদি এতে মা ও বাচ্চা উভয়ে সন্তষ্ট থাকে এবং বাচ্চা ঠিকমতো বুকের দুধ পেয়ে বেড়ে ওঠে। তবে যেসব মায়েরা বিশেষ করে নতুন মায়েরা যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে সমস্যায় পড়েন, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চাকে রোগ প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।
মাকে টিকা প্রদান
প্রয়োজন অনুযায়ী ডেলিভারির পর মায়েদের বিভিন্ন টিকা দিতে হবে।
ইনজেকশন অ্যান্টি-ডি
যেসব মায়েদের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ এবং বাচ্চার গ্রুপ পজিটিভ, সেসব মায়েদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে) এই ইনজেকশন দিতে হবে।
এমএমআর ভ্যাকসিন
যেসব মায়েদের রুবেলা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আছে, তাদের ডেলিভারির ১৪ দিনের মধ্যেই ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে।
টিটি ইনজেকশন
কোনো কোনো মায়ের এ সময় এই ইনজেকশনের একটা ডোজ দেওয়ার তারিখ থাকে। তাদের এই টিকা দিতে হবে।
প্রসব-পরবর্তী ব্যায়াম
স্বাভাবিক প্রসবের পর মায়ের কিছু কিছু হালকা ব্যায়াম করা প্রয়োজন। যা একদিকে মায়ের ঢিলে হয়ে যাওয়া মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে সাহায্য করে, অন্যদিকে মা কিছু কিছু রোগ হওয়া থেকে রক্ষা পান। যেমন-রক্ত জমাট বাঁধার রোগ, কোমরব্যথা, জরায়ু নেমে আসা ইত্যাদি। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে ব্যায়াম করতে হবে।
প্রসব-পরবর্তী চেকআপ
ডেলিভারির ৬-৮ সপ্তাহ পর মাকে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত, সম্পর্ণ চেক-আপের জন্য। আমাদের দেশের মায়েদের এই সেবা গ্রহণের হার খুবই কম। এ সময় চিকিৎসক মাকে সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা ও উপদেশ দিয়ে থাকেন। এই চেক-আপের সুবিধাসমূহ হচ্ছে-
গর্ভধারণের সময় মায়ের শরীরে যে পরিবর্তন হয়েছিল তা পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে কিনা চিকিৎসক তা নির্ণয় করে থাকেন
মায়ের কোনো রোগ থাকলে তা নির্ণয় করতে এবং তার চিকিৎসা দিতে পারেন
মাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে উদ্বুদ্ধ এবং সাহায্য করতে পারেন
বাচ্চার যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং টিকা দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে পারেন
মায়ের কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানে সাহায্য করতে ও উপদেশ দিতে পারেন
সুতরাং মনে রাখতে হবে, মা ও বাচ্চার সুস্থতার জন্য সকল মায়ের প্রয়োজন প্রসব-পরবর্তী সেবা। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উচিত মাকে এই সেবা নেয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা।
ডা. হোসনে আরা বেবী

পতিতার উপপতি

পতিতার উপপতির যে সব গুণ থাকবে
১। সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া দরকার।
২। সদবুদ্ধি ও বিবেক থাকবে।
৩। সৎব্যবহার।
৪। সরলতা।
৫। পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতার ব্যবহার।
৬। দূরদর্শিতা।
৭। কাজের প্রতি ঔদাসীন্য।
৮। স্থান কাল অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা।
৯। আইন মান্য করে চলা।
১০। দারিদ্র্যে মুহ্যমানতা।
১১। যথাসময়ে হাস্য করা।
১২। পরনিন্দা ও জনশ্রুতি বৃদ্ধি না করা।
১৩। দুর্নাম থেকে আত্নরক্ষার শক্তি।
১৪। রোষ, হিংসা, আত্নগর্ব থাকা উচিত।
১৫। চপলতা থেকে মুক্ত ভাব।
১৬। যার সঙ্গে দেখা হবে তাকে অভিবাদন।
১৭। কাম ক্রীড়ায় বৈচিত্র্য।
১৮। মনে সব সময় স্ফুর্তি থাকা দরকার।
১৯। অন্তঃকরণ হবে উদার।
২০। মুক্ত হসে- খরচ করবে।
২১। পতিতার মন জুগিয়ে চলবে।
২২। শৃঙ্গার দক্ষতা থাকবে।
বেশ্যারা যেসব পুরুষকে পছন্দ করে না
১। যক্ষ্মা বা কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত লোক।
২। যে লোক মেহ বা প্রমেহ রোগে ভুগছে।
৩। যে পুরুষের মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়।
৪। যে লোক বহু নারীর সঙ্গে মিলন করে।
৫ । যে লোক তার স্ত্রীকে খুব ভালবাসে।
৬। যে লোক কটুভাষী, দয়ামায়া শূন্য।
৭। যে সাধু লোক বলে মোটেই গণ্য নয়।
৮। যে চুরি কার্য্য করে।
৯। যে আত্নরক্ষার জন্যে মিথ্যা কথা বলে।
১০। যে টাকার জন্যে সব কিছু করতে পারে।
১১। যে প্রেমের জন্যে বা গুপ্ত প্রেমের জন্যে লজ্জিত বা ভীত হয় না।
১২। যে লোক সুরত কার্যে অক্ষম।
১৩। যে পুরুষ পয়সা খরচ করতে কুণ্ঠিত।
পত্নীরূপে বেশ্যা
যে বেশ্যা অনেকদিন ধরে কোন একজন পুরুষের উপপত্নীরূপে বাস করে, তার সঙ্গে ধর্ম পত্নীর মত ঘর করা ও সহবাস করা যায়।
পত্নীরূপে বেশ্যার কর্তব্য
১। নায়কের মর্দন চাওয়া। নিজেও চুম্বন, আলিঙ্গন, দংশন প্রভৃতি করতে পারে।
২। ধর্ম কর্মে মন দেওয়া।
৩। নিত্য নূতন কামকেলি।
৪। নিজে অর্থ না চাওয়া। দাসদাসী বা কোন ধাত্রীকে দিয়ে সাংসারিক প্রয়োজন জানাবে।
৫। মর্য্যাদা দিয়ে নায়ককে সন্থষ্ট রাখতে চেষ্টা করবে।
৬। নায়ক ক্রুদ্ধ হলে হাসবে। যথাসাধ্য তাকে সন্থষ্ট করবার চেষ্টা করবে।
৭। নায়কের মনে কোন ব্যথা দেবে না।
৮। কখনও কটু কথা বলবে না। নিজের স্বামীর মত তাকে প্রাণ দিয়ে ভালবাববে।
৯। অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হবে না। তাতে নায়কের আগ্রহ কমে যাবে।
১০। নায়কের বিরুদ্ধে কেউ নিন্দা করলে তার প্রতিবাদ করবে-না হয় তা শুনবে না। এতে নায়কের অতি প্রিয় হয়ে উঠবে।
১১। নায়কের অসুখে সেবা করবে।
১২। সন্তানলাভের আকাঙ্খা থাকবে। সন্তান একটি কি দু’টি হরে ভাল হয়। এর বেশী হওয়া উচিত নয়।
বিতৃষ্ণাযুক্ত উপপতির লক্ষণ
যখন কোন উপপতির কোনও বেশ্যার উপরে বিতৃষ্ণা আসে তখন যে সব লক্ষণ দেখা যায়-তা এবারে বলা হচ্ছে-
১। উপপত্নীকে দেয় টাকা সম্পূর্ণ দেয় না।
২। যাদের সঙ্গে তার হিংসা দ্বেষ থাকে, তাদের সঙ্গে সে হেসে কথা বলে।
৩। উপপত্নীর মতের বিরুদ্ধে কাজ করে। অন্য বারাঙ্গনার নিকট যাওয়া আসা করে।
৪। উপপতি তার প্রতিশ্রুতি রাখে না।
৫। নিজের মনোভাব উপপতীকে গোপন করে। এই নায়িকার প্রতি ভালবাসার বন্ধন কমে যায়।
৬। উপপতীকে সর্বদা বিদ্রুপ করে। যাতে সে রেগে যায়।
৭। প্রায়ই তাকে ছেড়ে ছেড়ে থাকতে চায়।
৮। উপপত্নীর পূর্বের সব বিরুদ্ধ-চারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে কথাবার্তা বলে।
৯। তাকে ঘৃণার ভাব দেখায়।
এ সকল লক্ষণ নায়কের মধ্যে দেখা গেলে, বুঝতে হবে নায়ক তাকে ত্যাগ করবে।
উপপত্নীর নায়ক ত্যাগের চিহ্ন
বেশ্যারা যখন উপপতিকে ছেড়ে দেবার চেষ্টা করবে এবং যে সব চিহ্ন দেখাবে, তা হ’লো-
১। উপপতি যা পছন্দ করে না এমন কাজ উপপতী করবে।
২। উপপতিকে কেবল ব্যথা দেবে। অপমানসূচক কার্যকলাপও করতে পারে।
৩। এমন লোকের সঙ্গে কথাবার্তা বলবে-যাদের সঙ্গে উপপতির সদ্ভাব নেই।
৪। তার নিন্দা করবে-মর্যাদাহীন করবে।
৫। তাকে প্রত্যেক বিষয় তিরষ্কার করবে।
৬। অন্য বেশ্যাদের উপপতির প্রশংসা করবে, নিজের উপপতির কাছে।
৭। উপপতির যত দোষ অবাধে অন্যের কাছে জানাবে ও তার প্রচণ্ড নিন্দা করবে।
৮। উপপতি ডাকলে তার কাছে আসবে না-তাড়াতাড়ি সাড়া দেবে না।
৯। রতি কার্য করতে চাইবে না।
১০। উপপতি চুম্বন করতে চাইলে মুখ ফেরাবে। ঘৃণার ভাব দেখাবে।
১১। আলিঙ্গনে বাধা দেবে। দূরে দূরে থাকবে।
১২। রতি কাজের জন্য জোরাজুরি করলে ঊরু দুটি চেপে রাখবে।
১৩। উপপতির কোন কথা গ্রাহ্য করবে না। তার যা ইচ্ছা তাই করবে।
১৪। সুরতের সময় উপপতি ঘুমের ভান করবে।
১৫। সুরতকালে উপপতি ক্লান্ত হ’য়ে পড়লে তাকে উপহাস করবে।
১৬। দিনের বেলায় উপপতি সঙ্গম করতে চাইলে, সে অন্যত্র চলে যাবে।
১৭। উপপতির সামনে অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেমালাপণ করবে।
১৮। শৃঙ্গারের শেষে বীর্য স্খলনের সময়ে, উপপতিকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেবে।
উপপতি এমন সব কার্যকলাপ করলে বুঝবে যে, সে তাকে আর চায় না।

পতিতাদের ইতিবৃত্ত

পতিতা অর্থাৎ বেশ্যারা। এরা হলো সেই সমপ্রদায়ভুক্ত নারী যারা পুরুষকে যৌন সুখ ভোগ করতে নিজেদের দেহ দিয়ে আপনাদের জীবিকা অর্জন করে।
অবশ্য তারা যে কোনও পুরুষকে দেহ দানের বিনিময়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করে, তা নয়। তারাও মানুষ- তাদেরও মন আছে, অভিরুচি আছে, ভাল-মন্দ বিবেচনা শক্তি।
তাই তাদের বিষয়ে অনেক কিছু সাধারণ মানুষের শিক্ষা করা উচিত। অনেক সময় যাদের সঙ্গে যৌন মিলন করতে পারে হাতে তাদের পয়সাও আছে, তবু তারা সেই লোককে ফেরৎ দেয়। কারণ সেই নারী তাকে পছন্দ করে না। যৌন মিলনে কিছুটা মনের মিলেরও প্রয়োজন হয়।
বেশ্যারা প্রয়োজনমত নিজেকে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও অলঙ্কারে ভূষিতা রাখে। যেন এক প্রকার পণ্য দ্রব্য। তাই তার বাড়ি এমন থাকবে যেন বাইরের লোক তাকে দেখতে পায় এবং সেও বাইরের লোককে দেখতে পায়। তার আরও জানা উচিত, সৌন্দর্য্য দিয়ে পুরুষকে জয় করতে পারলে তবে তার অর্থ মিলবে।
বেশ্যাদেরও আবার ঘটক বা দূত থাকে। তারা অন্য লোককে তার গুণ পণ্য বলে তাকে আকর্ষন করে নিয়ে আসে।

বেশ্যা যাদের খুশী রাখবে
নিম্নলিখিত লোকদের বেশ্যাদের সর্বদা খুশী রাখা উচিত। তা না হলে ব্যবসা চলে না। তা হলো-
(১) নগরের নগরপাল ও পুলিশের কর্তা।
(২) দেশের কোনও বিচারক বা বিখ্যাত আইনবিদ।
(৩) কোনও গণৎকার বা জ্যোতিষ।
(৪) কোনও ব্যায়ামবীর লোক।
(৫) কোনও সতীর্থ বা সমব্যবসায়ী।
(৬) কোনও শিল্পপতি।
(৭) কোনও পীঠমর্দ বা বিট বা বিদূষিকা, সুগন্ধি দ্রব্য বিক্রেতা বা মদ্য বিক্রেতা, কোন রজক বা নাপিত।
বাৎস্যায়ন বলেন উপরোক্ত লোকদের উপরে বেশ্যার কোন যৌন আকর্ষন থাকা উচিত নয়। তাদের কেবল অর্থ দ্বারা বশীভূত করে ব্যবসায়ে উন্নতি করবে।

বেশ্যারা যাদের পছন্দ করে
বেশ্যা কোন্‌ কোন্‌ ধরনের ব্যক্তিকে মনে প্রাণে কামনা করবে তাও বাৎস্যায়ন বলে গেছেন।
তারা হলো-
১। কোনও স্বাধীন ধনশালী লোক।
২। রাজ্যের কোন উচ্চপদস্থ কর্মচারী।
৩। যে ব্যক্তি অল্পদিনে প্রচুর সম্পত্তি বা টাকাকড়ি পেয়েছে।
৪। বেশ্যার সমব্যবসায়ী ব্যক্তির সঙ্গে যে সম্প্রতি কলহ করেছে।
৫। যে লোকের স্থায়ী নিশ্চিত উপার্জন আছে।
৬। যে কুৎসিৎ হলেও নিজেকে সুন্দর বলে মনে করে।
৬। যে আত্নপ্রশংসায় খুব বিরত।
৮। কোনও রতি অক্ষম লোক- সে নিজে মনে করে যে সে খুব রতি পারদর্শী।
৯। যে লোক আত্নপ্রশংসা ভালবাসে।
১০। যে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাস্ত করতে খুবই ইচ্ছুক।
১১। খুব দানশীল ব্যক্তি।
১২। যে লোক রাজা, ধনী বা সম্ভ্রান্ত লোকের সঙ্গে দিন যাপন করে।
১৩। যে নিজ ভাগ্যকে খুব বিশ্বাস করে।
১৪। অপরিমিত ব্যয়শীল লো্‌ক। টাকা খরচ করতে যার দরদ নাই।
১৫। যে লোক পিতামাতার অবাধ্য।
১৬। কোন ধনীর একমাত্র সন্তান।
১৭। নিঃসন্তান ধনী ব্যক্তি।
১৮। যে কামুক লোক তার কামক্রিয়া গোপন রাখতে পারে।
১৯। যে সন্ন্যাসী গোপনে কামক্রিয়া চরিতার্থ করে।
২০। কোনও সাহসী যোদ্ধা।
২১। কোন চিকিৎসক বা বৈদ্য।
২২। বহু দিনের পরিচিত লোক।

বেশ্যার পছন্দমত যুবকের গুণাবলী
বাৎস্যায়ন বলেছেন ভালবাসা, সুখ্যাতি ও ধন অর্জন করতে হলে বেশ্যার প্রয়োজন একজন বিলাসী যুবক। তার কি কি গুণ থাকবে, তা হলা হচ্ছেঃ-
১। সে উচ্চবংশীয় হবে।
২। তর্কশাস্ত্রে বেশ বুৎপন্ন হবে।
৩। রাজনীতিতে পারদর্শী হবে।
৪। কবি বা শিল্পী হবে।
৫। বেশ গল্প বলতে পারদর্শী হবে।
৬। সু-বক্তা ও বুদ্ধিমান লোক।
৭। বিভিন্ন কথায় যারা পাণ্ডিত্য দেখায়।
৮। মনে উচ্চাশা থাকবে।
৯। প্রাচীন লোকদের যারা শ্রদ্ধা করবে।
১০। প্রচুর গুণ থাকবে।
১১। সৎসাহসী হবে।
১২। একনিষ্ঠ প্রেমিক হবে।
১৩। বন্ধুদের প্রতি সৌহার্দ্যশীল হবে।
১৪। নানাবিধ বাকবিতণ্ডায় কুশলী হবে।
১৫। শরীর নীরোগ হবে।
১৬। কামশক্তি পরায়ণ হবে।
১৭। মদ্যপানদোষ থাকবে না।
১৮। সব নারীর প্রতি স্নেহ ভালবাসা দেখাবে।
১৯। স্বাধীনচেতা লোক হবে।
২০। মনে সন্দেহ থাকবে না।

বেশ্যার গুণাবলী
বেশ্যারও কতকগুলি বিশেষ গুণ থাকা একান্ত প্রয়োজন। তা হলো-
১। সে সুন্দরী হবে।
২। সে যুবতী হবে।
৩। দেহে সুলক্ষণ যুক্ত চিহ্ন থাকবে।
৪। মধুরভাষিণী হবে। সলজ্জ ভাব দেখাবে।
৫। অর্থের কথা চিন্তা না করে নিজের স্বামীর মত উপপতিকে ভালবাসে, এমন ভাব দেখাবে।
৬। দু-একটি মাত্র উপপতির সঙ্গে রতি মিলন করবে।
৭। স্থির চিন্তা করবে।
৮। উপপতির সঙ্গে প্রবঞ্চনা করবে না। ভাল ব্যবহার করা উচিত।
৯। কৃপণী হবে না। এতে উপপতি সরে পড়তে পারে।
১০। সাধারণ সমিতি বা যাত্রায় যোগদান করবে। এতে চাহিদা বাড়বে সন্দেহ নাই।
১১। নানা শিল্পের অনুরাগিণী হবে।
১২। সুকণ্ঠী গায়িকা হলে আরও ভাল হয়।

নারী পতিতা হয় কেন
১। অর্থাভাবে বা দারিদ্র্যতাবশতঃ অনেক সময়ে মেয়েরা পতিতা বৃত্তি গ্রহণ করে।
২। সংসারের অনাদর বা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পতিতা বৃত্তি গ্রহণ করে।
৩। স্বামীর অনাদর অত্যাচারও এ পথে যাবার মস্ত বড় একটি কারণ।
৪। অতি কামুকতা। যে স্বামীর দ্বারা পূর্ণ তৃপ্তি পায় না।
৫। একাধিক পুরুষে আকর্ষণ।
৬। অতিরিক্ত বিলাসের প্রতি আকর্ষণ।
৭। বৈধব্য।
৮। অন্যের প্ররোচনায় প্রভাবিত হওয়া।
৯। একজনকে ভালবেসে গৃহত্যাগ, পরে তার দ্বারা প্রত্যাখ্যান।
১০। সামপ্রদায়িক দাঙ্গা বা যুদ্ধের জন্য কুলত্যাগিনী।
১১। আজীবন কুমারী থাকা। পরে অন্য পথে গমন।
১২। গ্রামাদি থেকে সংগৃহিতা নারী।
১৩। গোপন প্রেম ও স্বামী কর্তৃক ধৃত ও স্ত্রী ত্যাগ।
১৪। স্ত্রীর সংসারে বিতৃষ্ণা-স্বামী হয়ত আজীবন চরিত্রহীন।
১৫। দারিদ্রতার জন্য কুমারী কন্যা বা স্ত্রীকে বিক্রয়।

পতিতাদের প্রকারভেদ
১। একমাত্র উপপিতিতে আকৃষ্ট।
২। নাচ গান জানা কলারসিক পতিতা- দেহমিলন বেশি চায় না। নির্দিষ্ট একজন নায়ককে রাখে।
৩। বাড়িউলি বা কোনও নারীর অধীনে বাস করা পতিতা।
৪। কোন রাজ অনুগৃহীত বিশেষ ধনী পতিতা, সে উপপত্নীর মত পৃথক প্রাসাদে বাস করে।

যোনি পথে প্রদাহ



এটি একটি যৌনবাহিত রোগ৷ স্বামী-স্ত্রী মিলনের ফলে অথবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অথবা অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতার কারণে স্ত্রীলোকের যোনিপথে প্রদাহ হয়ে থাকে৷

কারণ
যোনিপথে দুটি কারণে প্রদাহ হতে পারে

১. অসংক্রমিত প্রদাহ : যৌনিপথের স্রাব পরীক্ষা করলে কোনও রকম জীবাণু পাওয়া যায় না৷ স্বামী-স্ত্রীর মিলন ছাড়া এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয় না৷

এ ধরনের প্রদাহের উত্‌স হচ্ছে

* যৌনিপথের অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতা
* চর্মরোগ
* মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ
* পুষ্টির অভাবে
* গর্ভাবস্থায়
* অপরিষ্কার এবং আটসাট পায়জামা বা প্যান্ট ব্যবহার করলে
* জণ্মনিয়ন্ত্রণে যৌনিপথে কোনও জেলি বা কপারটি ব্যবহার করলে

২. সংক্রমিত প্রদাহ : যে প্রদাহ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয় তাকে সংক্রমিত প্রদাহ বলে৷ এ প্রদাহকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়৷

* নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি৷
* নির্দিষ্ট ছত্রাক দ্বারা : ট্রাইকোমোনাল, মনিলিয়াল ইত্যাদি৷

লক্ষণ

* স্বামী সহবাসে যোনিপথে জ্বালা ও ব্যথা হতে পারে৷
* প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া থাকতে পারে৷
* জ্বর থাকতে পারে৷
* যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা সাদা স্রাব থাকে৷
* যোনিপথে ফোলা ও লাল দেখা যেতে পারে৷
* যোনিপথের স্রাব পরীক্ষা করলে নির্দিষ্ট জীবাণু পাওয়া যাবে৷

চিকিত্‌সা (Treatment)

* দ্রুত চিকিত্‌সকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হবে৷ অন্যথায় পরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে৷
* প্রতিরোধ
* রোগীকে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে৷
* পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে৷
* রোগীকে প্রচুর পানি খেতে হবে৷
* বিশ্রাম নিতে হবে৷
* রোগমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বামী সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে অথবা স্বামী সহবাসের সময় স্বামীকে কনডম ব্যবহার করতে হবে৷
* রোগীর কাপড় চোপড় যাতে অন্য কেউ ব্যবহার না করে সে বিষয়ে রোগীকে সতর্ক থাকতে হবে৷

নারীর হাবভাব পরীক্ষা

নারীদের মধ্যে অনেক রকম নারী দেখতে পাওয়া যায়। কতকগুলি নারী আছে যারা মনের ভাব গোপন করে রাখতে পারে। তারা হয়ত গোপনে পরপুরুষকে মনে মনে ভালবাসে, মুখে কিন্তু প্রকাশ কখনও করে না।
আর কতকগুলি নারী আছে যারা ইংগিত দেখলেই রেগে ওঠে-গালাগালি করে। তাদের এড়িয়ে চলতে হবে। তবে যদি ঐ নারী একদিন গালাগালি দিয়ে পরে নীরব থাকে, তখন আর একবার চেষ্টা করে দেখা উচিত। তখন যদি ছুতা করে থাকে ত বুঝতে হবে, তার মনে কামের বীজ বপন হয়েছে কি না।
সাধারণতঃ কোন্‌ কোন্‌ নারী নতুন প্রেমিকের কুক্ষিগত খুব সহজে হয়?
(১) যে নারী এর আগে অনেক কাম চিহ্ন প্রকাশ করেছে।
(২) যে নারী প্রেমিককে নির্জনে তার স্তন খুলে দেখায়।
(৩) যে নারী পাশে শুয়ে কোন পুরুষের অঙ্গ মর্দন করে।
(৪) অঙ্গমর্দন করতে করতে যে নারী মাঝে মাঝে বেশ উত্তেজিত হ’য়ে উঠে।
(৫) পুরুষ কর্তৃক অঙ্গমর্দনে যে নারী বাধা দেয় না।
(৬) যে নারী পাশে শুয়ে ঊরুদেশ টিপলে কোনও রকম লজ্জা অনুভব করে না। যে ঘুমানোর ভাব করে চুপ করে পড়ে থাকে।
এই সব হতে হতে একটু এগালেই আপনা থেকেই নারী আলিঙ্গনের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
অভিজাত নারীদের কাম ইচ্ছা পূরণ
অভিজাত রাজা জমিদারদের বাড়িতে একাধিক কর্ত্রী থাকে। তাদের সবাইকে রাজা বা জমিদার তুষ্ট করতে পারে না। তাছাড়া ধনী নারীদের মধ্যে কামের ভাব বেশি থাকে।
রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ির মেয়েরা বাড়ির অন্তঃপুরে! তাই গোপনে কাম ইচ্ছা পূর্ণ করার পথ খোঁজে।
রাজবাড়িতে বা ধনীগৃহে নানা ধরণের নারী থাকে বা আসে। – নাপতানী, মালিনী, দাসী বা দাসীর বান্ধবী, প্রজাদের মেয়ে ও বৌ ইত্যাদি।
এর কিন্তু আসলে এক একজন এক একটি নারীর গোপন দূতী হ’য়ে ওঠে।
দূতীকে অর্থের দ্বারা হাত করে তার দ্বারা বাইরের মনোমত পুরুষ বা দূতীর বর্ণনা করা পুরুষের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে।
এই যোগাযোগের ফল ভালই হয়। সাধারণত, ধনী সুন্দরী নারীদের দিকে গোপন আকর্ষণের সুযোগ পেলে তারা রাজী হয়।
দূর সম্পর্কের আত্নীয়, সুন্দর প্রজা, সুন্দর কর্মচারী, সুন্দর চাকর এদের সঙ্গেও অনেক সময় গোপন প্রণয় স্থাপিত হয়।
দূতীদের মাধ্যমে মনের ইচ্ছার আদান্তপ্রদান হয়। পরে গভীর রাতে খিড়কীর দরজা দিয়ে পারিয়ে গিয়ে বাইরেও কোন গোপন স্থানে মিলিত হয়ে পূর্ণ উদ্যমে যৌন বাসনার তৃপ্তি করে।
অনেক সময় দেখা যায় ধনী সুন্দরী পরনারীকে হাত করে অনুগৃহীত লোকেরা মোটা অর্থ উপার্জন করে থাকে। এই ত গেল নারীদের কথা।
রাজা ও জমিদারদের কাম ইচ্ছা পূরণ
পুরুষেরাও গোপনে প্রজা বা গরীব লোকদের সুন্দরী স্ত্রী বা কন্যাকে উপভোগ করে।
জমিদার তার কর্মচারী গোমস্তা বা চঞ্চুকীর দ্বারা খবর পাঠায়। মোটা অর্থের প্রলোভনেও অনেক প্রজা তার স্ত্রী বা মেয়েকে রাজার দ্বারা ভোগ করায়। অনেকে এই সূত্রে সাহায্যে রাজদরবারে প্রতিষ্ঠাও পায়।
আবার অনেক কর্মচারী রাজার এই প্রভাব জানলে তাকে সুন্দরী নারীর খবর এনে দেয়।
রাজা ছলে, বলে, কৌশলে এই কর্মচারীর সাহায্য নিয়ে সেই কন্যাকে হাত করে উপভোগ করে। পরে সেই কর্মচারীও এসব কথা প্রচার করার ভয় দেখিয়ে গোপনে উক্ত কন্যাকে ভোগ করে।
প্রাচীন আমলে তাই কামুক রাজাদের অধীনে প্রজারা সুন্দরী স্ত্রী বা মেয়ে নিয়ে বাস করতে খুব ভয় পেতো্‌।
প্রাচীনকালে নাকি এমনও নিয়ম ছিলো যে, কোন প্রজা বিয়ে করে এলে তার তরুণী বৌকে প্রথম রাত্রে রাজবাড়ীতে দিতে হতো।
ঐ তরুণীকে রাজা উপভোগ করবে।

৬.১০ সহাবাসের আগে ও পরে

সম্ভোগের আগে স্বামীর কর্তৃব্য
১। পতির কর্তব্য হলো, পত্নীকে প্রিয়তমা জ্ঞানে বা সত্যিকারের ধর্মপত্নী জ্ঞানে নিজের তৃপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তারও দৈহিক ও মানসিক তৃপ্তি বিধান করা। নিজের কামনা পরিতৃপ্ত করাই সম্ভোগের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
২। কোন প্রকার বল প্রয়োগ করা আদৌ বাঞ্ছনীয় নয়। একথা মনে রাখতে হবে।
৩। চুম্বন, আলিঙ্গন, নিপীড়ন ইত্যাদি নানাভাবে স্ত্রীর মনে পূর্ণ কামাব জাগিয়ে তারপর তার সঙ্গে সহবাসে রত হওয়া প্রতিটি পুরুষের কর্তব্য।
৪। নারী ধীরে ধীরে আত্নসমর্পণ না করা পর্যন্ত তার সঙ্গে কখনও সহবাসে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়।
৫। নারী কখনও নিজের যৌন উত্তেজনাকে মুখে প্রকাশ করে না। তবে সেটা অনেকটা লক্ষণ দেখে বুঝে নিতে হয়।
৬। নারীর কর্তৃব্য সর্বদা পতির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার ভাব ফুটিয়ে তোলা।
৭। পতিকে ঘৃণা করা, তাকে নানা কু-কথা ইত্যাদি বলা কখনই উচিত নয়। সহবাসের অনিচ্ছা থাকলে তা তাকে বুঝিয়ে বলা উচিত। ঘৃণা বা বিরক্তিসূচক তিরস্কার করা কখনও উচিত নয়। এতে পতির মনে দুঃখ ও বিরক্তি জাগতে পারে।
৮। নারীর কর্তৃব্য স্বামীর চুম্বন, দংশন ও আলিঙ্গনের প্রতিউত্তর দেওয়া।
৯। নারীর পূর্ণ কামভাব জাগলে পতিকে কৌশলে তা বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।
১০। নারীর উত্তেজনা ধীরে ধীরে আসে-আবার তা ধীরে ধীরে তৃপ্ত হয়। পুরুষের উত্তেজনা আসে অকস্মাৎ আবার তা অকস্মাৎ শেষ হয়। তাই নারীর পূর্ণ কামভাব না জাগিয়ে সঙ্গমে মিলিত হলে নারী পূর্ণ তৃপ্তি পেতে পারে না। এরকম করা রিধিবিরুদ্ধৃ। এতে নারী পূর্ণ তৃপ্তি পায় না- এর জন্যে সে পর-পুরুষ পর্যন্ত গমন করতে পারে। দাম্পত্য জীবনে অনেক বিপর্যয় এর জন্যে আসতে পারে।
স্ত্রীকে দ্রুত তৃপ্তির উপায়
১। গালে ঠোঁটে ঘন ঘন চুম্বন করা।
২। স্ত্রীর ঊরুদেশ জোরে জোরে মৈথুনের আগে ঘর্ষণ করা।
৩। সম্ভোগের আগে যোনিদেশ, ভগাঙ্কুর কামাদ্রি আলতো ভাবে ঘর্ষণ করা।
৪। ভগাঙ্কুর মর্দন।
৫। মৈথুনকালে স্তন মর্দ্দন।
৬। সহাবাসের আগে যদি পুরুষাঙ্গের আগায় খুব সামান্য পরিমাণ কর্পূর লাগানো হয় তবে স্ত্রী দ্রুত তৃপ্তি লাভ ক’রে থাকে। তবে কর্পূর যেন বেশি না হয়, তাতে স্ত্রী যোনি ও পুরুষাঙ্গ জ্বলন অনুভূত হ’তে পারে।
সহবাসের কাল
১। মেয়েদের একটু ঘুমোবার পর রাত্রির দ্বিতীয় প্রহর শ্রেষ্ঠ মৈথুন সময়।
২। দিনের বেলা সহবাস নিষিদ্ধ।
৩। ভোরবেলা সহবাস শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হ’তে পারে।
৪। গুরু ভোজনের পর সঙ্গে সঙ্গে সহবাস নিষিদ্ধ।
৫। ক্রুদ্ধ বা চিন্তিত মেজাজে স্ত্রী সহবাস উচিত নয়। প্রফুল্ল মনে সহবাস উচিত।
কোন ঋতু মৈথুনের পক্ষে কতটা উপযোগী তার বিচার করা হচ্ছে।
ক। বসন্তকাল-৯০%।
খ। শরৎকাল-৭০%।
গ। বর্ষাকাল-৫০%।
ঘ। হেমন্তকাল-৪০%।
ঙ। গ্রীষ্মকাল-৩০%।
চ। শীতকাল-২০%।
প্রহরণ বা মৃদু প্রহার
মৈথুনকালে মৃদু প্রহার-শৃঙ্গারও কামের একটি অঙ্গ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।
কথাটা শুনতে অনেকটা আশ্চার্য্য বোধ হয়, কিন্তু কামসূত্রে তার ব্যাখ্যা প্রদত্ত হয়েছে।
নারী কিছুটা উৎপীড়িত হ’তে চায় যৌন মিলনে-তাই মনোবিজ্ঞান স্বীকার করে যে, পুরুষ কিছুটা উৎপীড়ন করতে পারে নারীকে।
কিন্তু প্রহরণ ঠিক শৃঙ্গার নয়-কারণ মিলনের আগে এর প্রয়োজন নেই।
পূর্ণ মিলনের সময় আনন্দ বৃদ্ধির জন্যে পুরুষ ধীরে ধীরে নারী-দেহের কোমল অংশে মৃদু প্রহার করতে পারে।
পুরুষ অথ্যাচারী-মনোবিজ্ঞানের মতে যে প্রহার করা হয় তা আনন্দের। তাই বলে এতে দু’জনেই যে আনন্দ পাবে এমন নয়। এটা দু’জনের মানসিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।
প্রহরণের মধ্যে আবার প্রকারভেদ আছে-
১। মুষ্টি প্রহার-হাত মুষ্টি বদ্ধ করে দেহের বিভিন্ন অংশে মৃদু প্রহরণ।
২। চপেটাঘাত (হাত খুলে রেখে ধীরে ধীরে।)
৩। দু’টি অঙ্গুলির সাহায্যে প্রহরণ।
৪। প্রহরণ ও সংবহন মিশ্রিত করে প্রহরণ।
মর্দন বা সংবাহন
যদিও মর্দন শৃঙ্গার কালে মাঝে মাঝে হয়- তবে এই মর্দন প্রকৃত শৃঙ্গার নয়।
মর্দন বেশি হয় রতিকালে বা রতির পূর্বে।
নারীদেরহর কোমল অংশে যেমন স্তন, নিতম্ব, ঊরুদ্বয় প্রভৃতির মর্দন হ’য়ে থাকে।
রতিক্রিয়াকালে স্তন ও নিতম্ব মর্দন করেও পুরুষ ও নারী উভয়ে আনন্দ পায় বলে বাৎস্যায়ন বলেছেন।
তবে যারা পছন্দ করেন তাঁরাই এটা করবেন। যদি একজন বা দু’জনেই পছন্দ না করেন তবে এর প্রয়োজন নেই।
ঔপরিষ্ঠক বা মুখমেহন
মুখমেহন স্বাভাবিক মিলন হিসাবে বাৎস্যায়ন স্বীকার করেন নি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এটি সর্বদা চলতে পারে না। তবু শাস্ত্রে এটি উল্লিখিত হয়েছে।
শাস্ত্রে উল্লিখিত হবার অর্থ অবশ্য এই নয় যে, এটি খুব ভাল আসন বা এটি সম্মান পেয়েছে। শাস্ত্রে কেবল এটাকে একটি অস্বাভাবিক মিলন বলেই এর নাম উল্লিখিত হয়েছে।
ভারতের কোন কোন জাতির মধ্যে ঔপরিষ্ঠক স্বীকৃত ও বেশ প্রচলিত-কিন্তু তাই বলেই তাকে উচ্চ স্থান দেওয়া হয় না।
মুখমেহন সব পণ্ডিতের মতেই ঘৃন্য-তাই এ বিষয়ে বেশি আলোচনা করা হলো না।
বাৎস্যায়ন বলেন নারী শুধু তিনটি শ্রেণীরই নয়-তাছাড়াও আছে আর এক শ্রেণী-তার নাম হলো নপুংষক শ্রেণী।
এই নপুংষক শ্রেণীর যোনি ঠিকমত গঠিত নয়-তাই এদের সঙ্গে যৌন ক্রিয়া সম্ভব নয়। এদের দ্বারা কেবল মুখমেহন করানো চরতে পারে।
এই শ্রেণীর নপুংষক অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে মুখমেহনে রাজী হয়।
এই মুখমেহন আট প্রকার হ’য়ে থাক-
১। নিমিত-এতে নপুংষক তার করতলে পুরুষাঙ্গ ধরে আসে- আসে- তার ওষ্ঠাধারে ঘর্ষণ করে।
২। পার্শ্ব-লিঙ্গ মুণ্ডের আবরণ খুলে আসে- আসে- মুখে প্রবেশ করানো।
৩। বহিঃসংদংশন্তদাঁত ও ঠোঁট দিয়ে পুরুষাঙ্গের আবরণ উন্মোচন।
৪। পুরুষাঙ্গ বারে বারে মুখের ভেতরে নেওয়া ও বের করা। বহুক্ষণ এরূপ করা।
৫। অন্তঃসংদংশন্তওষ্ঠাধর দিয়ে চোষণ করা।
৬। জিহ্বা দ্বারা চোষণ।
৭। আম্রচোষণ-পুরুষাঙ্গ আম্রের মত চোষণ করা।
৮। আকন্ঠীত-সম্‌সত পরুষাঙ্গ গিলে ফেলার মত।
মুখের মধ্যে সুরতের সঙ্গে সঙ্গে আলিঙ্গনাদিও চলতে পারে।
অনেক নীচজাতীয়া নারীদের দ্বারা এ কাজ করানো যেতে পারে।
কামশাস্ত্রে মুখে সুরত নিষিদ্ধ। তবে অনেকে এটি পছন্দ করেন।-বা কোন রাবাঙ্গনা রাজী হলে তার দ্বারা এটি করান। কিন্তু অন্তঃপুর চারিনীদের এটি করা উচিত নয়।
সহবাসের পরের কথা
সহবাসের পরে দু’জনেরই উচিত কমপক্ষে এক পোয়া গরম দুধ, একরতি কেশন ও দুই তোলা মিশ্রি সংযোগে সেবন করা। সহবাসে কিছু শক্তির হ্রাস হ’তে পারে। এতে করে কিঞ্চিৎ পূরণ হয়। অন্যথায় সহবাস করা উচিত নহে। এই কারণেই মনীষীরা মাসানে- একবার রতিক্রিয়া ব্যবস্থা করে দেন। যাতে উপরোক্ত সামগ্রীর যোগাড় করতে গরীব বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকের পক্ষেও কষ্টকর না হয়। পুষ্টিকর খাদ্য না খেলে পুরুষ অচিরেই শক্তিহীন হ’য়ে পড়ে ও তার কর্মশক্তি লোপ পায়।
অত্যধিক মৈথুনের জন্য হজমশক্তি লোপ পায়। ফলে অম্ল, অজীর্ণ প্রভৃতি নানা প্রকার রোগ দেখা দেয়। এই সমস্ত রোগের হাত থেকে নিশ্চিত ভাবে নিষকৃতির জন্য মৈথুনের পর দুগ্ধ পান অত্যাবশ্যাক। অবস্থায় সম্ভব হলে নিম্নের টোটকাগুলি ব্যবহার করলে ভয়ের কারণ থাকবে না।
(১) বাদাম দুই তোলা ভালভাবে বেটে নিয়ে তা মিশ্রি সংযোগে মৈথুনের পর গরম করে খেলে বিশেষ উপকার হয়।
(২) দুতোলা ঘি, দু তোলা মিশ্রি কিংবা গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করলে সহজে ক্ষয় পূরণ হয়।
(৩) মুগের ডাল ভালভাবে বেটে নিয়ে ভেজে নিন, পরে মিশ্রি কিংবা চিনি মিশিয়ে নাড়ার মত করে চার তোলার মত মৈথুনের পর খেয়ে নিলে উপকার হয়।
সহবাসের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষাঙ্গ ধৌত করলে নপুংষকতার লক্ষণ প্রকাশ পায়। সেজন্য রতিক্রিয়ার কিছু সময় পরে পুরুষাঙ্গ ধৌত করা বিধেয়। এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রত্যেকের উচিত।
সহবাসের পর দেহের বিষয়ে কি কি যত্ন নিতে হবে এ বিষয়ে শাস্ত্রে কতগুলি নিয়ম বিধিবন্ধ আছে। আমরা তা একে একে আলোচনা করছি।
১। সহবাসের পর দু’জনের কিছুক্ষণ পরস্পর সংলগ্ন হ’য়ে অবস্থান করবে। এতে মানসিক তৃপ্তি হয়। ধীরে ধীরে দেহ শীতল হয়। এতে প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হ’য়ে থাকে।
২। তারপর অবশ্য প্রত্যেকেই নিজ নিজ যৌনাঙ্গ ভালভাবে ধৌত করবে-এটি অবশ্য পালনীয়। তবে কিছুক্ষণ পর।
৩। অনেক শাস্ত্রে দুজনের ্লান করা বিধান আছে তবে তা সকলে পালন করে না।
৪। শর্করা মিশ্রিত এক গ্লাস জল কিঞ্চিৎ লেবুর রস বা দধি কিংবা শুধু ঠাণ্ডা জল কিছু খেতে হবে। এতে শরীরের মঙ্গল করে।
৫। প্রয়োজন হরে কোন পেটেন্ট ঔষধ সেব করা যাইতে পারে।
৬। সহবাসের পর ঘুম একান্ত আবশ্যক-তদাই শেষ রাতে সহবাস বাঞ্ছনীয় নয়।
৭। পরদিন প্রভাতে স্নান করা একান্ত আবশ্যক। তা না হলে মন শুচি হয় না- কর্মে প্রফুল্লতা আসে না। অন্যথায় পরদিন মন খারাপ থাকে, কর্মে একঘেয়েমি আসতে পারে।
৮। সহবাস প্রারম্ভে বা শেষে নেশা সেবন ভাল নয়। এতে দৈহিক ক্ষতি হয়-প্রেম দূরে যায়-মানসিক অসাড়তা আসতে পারে।
৯। রাত্রির প্রথম ও শেষ প্রহর বাদে মধ্যম অংশই সহবাসের পক্ষে উৎকৃষ্ঠ সময়, এ কথা সর্বদা মনে রাখতে হবে।
১০। সহবাসের পর অধিক রাত্রি জাগরণ, অধ্যয়ন, শোক প্রকাশ, কলহ কোন দুরূহ বিষয় নিয়ে গভীর চিন্তা ও মানসিক কোন উত্তেজনা ভাল নয়।
সফল মৈথুন
এবারে আমরা একটি প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা সফল মৈথুন।
এমন প্রশ্ন অনেকে করতে পারে-মৈথুন আবার সফল অ-সফল কি? যথারীতি নর-নারীর মিলন। দৈহিক মিলনের পরিপূর্ণ আনন্দ ও রেতঃপাত। এই ত মৈথুন।
আমরা বলব না, তা নয়।
তবে?
আমরা বলব শতকরা একটি কি দু’টির বেশি মৈথুন সফল মৈথুন হয় না। কেন হয় না? তা বলতে গের সফল মৈথুন কি, সে বিষয়ে আলোচনা করতে হয়। স্ত্রীর কামনার তৃপ্তি কম বেশি হয়ত হয়ে থাকে। তথাপি স্ত্রী গর্ভবতী হ’য়ে সন্তানের জন্মও দিতে সুরু করে, তবু তা সফল মৈথুন হয় না।
কেন?
এর উত্তর হলো শৈথুন বা রেতঃপাত অনেকেই করে থাকেন। কিন্তু সফল মৈথুন খুব অল্প জনের ভাগ্যেই ঘটে থাকে।
এবার সে বিষয়ে আলোচনা করব।
সফল মৈথুনের পরিচয়
যে মৈথুন করলে শারীরিক, মানসিক ও দৈহিক কোনও ক্ষতি হয় না। উলটে কর্মে আনন্দ ও একাগ্রতা আসে এবং মৈথুনের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়; স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং হৃদয় প্রফুল্ল ও শান্ত, ্লিগ্ধতায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে-তাকে সফল মৈথুন বলে।
সফল মৈথুনের ফল
১। মনের শান্তি পায়। মন সর্বকাজে দৃঢ় হ’য়ে থাকে ও মনের উৎসাহ বাড়ে।
২। কাজকর্মে একাগ্রতা আনে। কাজকর্মের দিকে মন সংযোগ বৃদ্ধি পায়।
৩। দৈহিক ও মানসিক তৃপ্তির জন্যে কর্মক্ষমতা বৃৃদ্ধি পায়। নিজেকে গর্ব অনুভব করে।
৪। স্ত্রীর প্রতি প্রেম বৃদ্ধি পায় ও স্ত্রীকে প্রকৃত ভালবাসতে পারে। স্ত্রীর আকর্ষণ আসে স্বামীর প্রতি।
৫। অন্য নারীর প্রতি আকর্ষণ থাকে না।
অসফল মৈথুনের ফল
১। মনে শান্তি থাকে না। মন ধীরে ধীরে অবসাদে ভরে ওঠে। মেজাজ হ’য়ে যায় খিটখিটে।
২। সব সময় মন উত্তেজিত ও বিরক্ত থাকে।
৩। মানসিক দুর্বলতা প্রযুক্ত কাজকর্মে ইচ্ছা কমে যায়।
৪। স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা কমে আসে।
৫। পরনারীর প্রতি আকর্ষণজনিত চরিত্রদোষ ঘটতে পারে। পতিতারয় গমনও ঘটতে পারে।
৬। শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে-সব সময় শরীর ভার ভার বোধ হয়। আহার ও নিদ্রার প্রতিও আকর্ষণ কমে যায়।
৭। বায়ুর প্রাবল্য, চোখ মুখ জ্বালা করতে থাকে।
৮। মাথা ঘোরে ও গা বমি বমি করে।
৯। ধীরে ধীরে মৈথুনের প্রতি ঘৃণাও জন্মাতে পারে।
এখন কথা হচ্ছে কি করলে মৈথুন সফল করা যায়।
মৈথুন অ-সফল হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে-উপযুক্ত পুরুষ ও নারীর মিলনের অভাব।
অ-সফল মৈথুনের কারণ
এবারে অ-সফল মৈথুনের কতকগুলি প্রধান কারণের বিষয় লেখা হচ্ছে-এগুলিও মনে মনে চিন্তা ও বিচার করে নিতে হবে।
১। মৈথুনের আগে নারীকে উত্তেজিত না করা।
২। মৈথুনে যোগ্যভাবে নিজেকে তৈরী না করা।
৩। উপযুক্ত আসন না করে মৈথুনে লিপ্ত হওয়া।
৪। শক্তির অভাবে মৈথুন পূর্ণ হ’তে পারে না।
৫। অসুস্থ অবস্থায় মৈথুন্তএতে তত পূর্ণ আনন্দ হয় না। দৈহিক ক্ষতি করে।
৬। ঘন ঘন মৈথুন্তএটি অবশ্য পরিত্যজ্য। ইহা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর।
৭। অযোগ্য স্ত্রী-স্ত্রী উপযুক্ত না হলে পূর্ণ মৈথুন হয় না।
৮। অন্যান্য অসুবিধা বা মানসিক কারণ।
৯। স্বামী বা স্ত্রীর অন্য নারী বা পুরুষের প্রতি গোপন আসক্তি।
১০। প্রকৃত উত্তেজনা ছাড়া মৈথুন।
উত্তেজনার বিচার
এবারে প্রকৃত উত্তেজনা কি ও কি তার লক্ষণ সে বিষয়ে বলা হচ্ছে।
উত্তেজনা দুই প্রকার-(১) আসল (২) নকল বা বাহ্যিক।
যে যৌন উত্তেজনা সাধারণতঃ নর-নারীর মধ্যে দেখা যায় তা প্রায়ই নকল উত্তেজনা।
নকল কেন তার প্রমাণ করে দেওয়া হবে-আগে আসল উত্তেজনার লক্ষণ কি তাই বলা হচ্ছে।
নারী পুরুষকে বা পুরুষ নারীকে কাছে টেনে নিয়ে পরস্পর উত্তেজনা সৃষ্টির প্রয়াস পায় এবং তার ফলে যদি হৃদয়ে উত্তেজনা জাগে তা প্রকৃত উত্তেজনা নয়।
হৃদয়ে আপনা থেকেই ভাবভঙ্গীর মুখে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হবার দুর্দমনীয় কামনা যদি জাগে তবে তা হলো আসল অর্থাৎ প্রকৃত উত্তেজনা।
প্রকৃত উত্তেজনা সম্বন্ধে বাৎস্যায়ন বলেছেন।-
যদি কোন নারীর স্মৃতি (চেহারা) বা ধ্যান ছাড়াও আপনা থেকেই হৃদয় উত্তেজিত হ’য়ে উঠে, তবে তা হরো প্রকৃত উত্তেজনা।
কিন্তু এ হলো সেই যুগের কথা-মানুষ যখন প্রকৃতির উপর নির্ভর করে চলতো। প্রকৃতির উপর নির্ভর করে সে নিজের মানসিক অবস্থা নিরূপণ করতো।
আজকাল যুগ পালটে গেছে।
নারী মূর্তি দর্শন আজকাল হামেশাই করতে হয়। হাটে-বাজারে চারপাশে নারীর নানা ভঙ্গির নানা ছবি নানা বিজ্ঞাপন। নারীর দেহ আর যৌবনের নানারূপ ভঙ্গিমার বিজ্ঞাপন দিয়েই আজকাল প্রচুর জিনিস বিক্রি হয়। সাইনবোর্ডেও নারীর নানারূপ প্রতিকৃতি দেখা যায়।
তবে আজকাল সেভাবে প্রকৃত উত্তেজনা বোজা সহজ কথা নয়।
প্রকৃত উত্তেজনা তাই আজকাল অন্যভাবে সি’র করা হ’য়ে থাকে।
অর্থাৎ যখন চিত্তবৃত্তি আপনা থেকেই নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং মনকে কিছুতেই আর সংযত করা যায় না, তখনই প্রকৃত উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং তাকেই প্রকৃত উত্তেজনা বলে।
এ কথা ঠিক যে প্রকৃত উত্তেজনা ছাড়া মৈথুন করা উচিত নয়। তেমনি প্রকৃত উত্তেজনা জাগলে তা দমন করা ঠিক নয়। তাতে দৈহিক ও মানসিন ক্ষতি হ’তে পারে।
প্রকৃত উত্তেজনার সময় ব্যতীত মৈথুন করলে তা মৈথুন হতে পারে না।
মৈথুনের শক্তির স্বল্পতা
মৈথুনে শক্তির স্বল্পতা আর শীঘ্র রেতঃপাত করলে একই কথা, কিন্তু দু’টির কারণ কিছুটা ভিন্ন।
শীঘ্র বীর্য্য পতন এক ধরনের রোগ। এ বিষয়ে আমরা এর পরে রোগের পরিচ্ছেদে বিশেষভাবে আলোচনা করব।
কিন্তু মৈথুন শক্তির স্বল্পতা একটা প্রধান জিনিজ। এটি দৈহিক ও মানসিক অবস্থার ওপর হ’য়ে থাকে। কারণঃ-
১। অধিক উত্তেজনা।
২। ঘন ঘন উত্তেজনা কিন্তু কম পরিমাণে।
৩। যখন উত্তেজনা আসে তখন স্ত্ররি সঙ্গে মৈথুন না করা।
৪। মৈথুনের সময় ভয়, লজ্জা ও কোন বাধা।
৫। বহুদিন বাদে মৈথুন করা।
৬। হস্তমৈথুন করা।
৭। দৈহিক অসুস্থতা।
৮। জন্মগত দুর্বলতা।
৯। যৌন ব্যাধি ইত্যাদি।
প্রতিকার-শীঘ্র পতন, যৌন ব্যাধি জন্মগত দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়ে এর পরে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত্যেক রোগের কি ঔষধ তাও বলা হয়েছে।
নেশা সেবন
কোন প্রকার নেশা করা অবশ্যই অনুচিত বলে শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে। তবে কিছু সংখ্যক লোক মৈথুন শক্তি বাড়াবার মত কিছু কিছু নেশা করে থাকেন। তবে নেশা যদি সামান্য হয় অর্থাৎ তাতে যদি ঠিক পুরা মাদকতা না আসে, অথচ যৌন ক্ষমতা যদি সামান্য বৃদ্ধি পায়, তবে তা নিশ্চয়ই উপকারী।
নেশায় যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?
ঠিক তা নয়-নেশায় বীর্য্যকে কিছুটা শুকিয়ে গাঢ় করে দেয়, তাই কিছুটা বেশী সময় ধরে মৈথুন করা চলে।
শাস্ত্রের মতে মাদক দ্রব্য অল্প পরিমাণে অবশ্য ইন্দ্রিয় শক্তি ও দৈহিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ঔষধের সাথে ব্যবহার করা হয়।
যেমন- (১) এ্যালকোহল। (২) সিদ্ধি। (৩) আফিং ইত্যাদি
কিন্তু পরিমাণে তা ব্যবহৃত হয় খুব কম-ঠিক মাত্রা অনুযায়ী।
কিন্তু লজ্জাশালী রমণী স্বামীর এ প্রস্তাব প্রকারান্তরে প্রত্যাখ্যান করে। এতে স্বামী অবশেষে মনঃক্ষুন্ন হয় এবং বেশ্যালয়ে যাওয়া সুরু করে। পেটের দায়ে যারা এ বৃত্তিকে স্বেচ্ছায় বরণ করে নিয়েছে, পয়সা রোজগারের জন্য যত নগ্ন ও গর্হিত কাজই হোক না কেন, এরা তা করে।
আর একটা কথা।
সাধালণ খাদ্য পানীয় দ্বারা যতটা সম্ভব ততটা যৌন ক্ষমতা আগে বাড়াবার চেষ্টা করা উচিত। তারপর অবশ্য ঔষধ। ঔষধের চেয়ে বেশী মাত্রায় নেশা ভাল নয়।
যৌন ইন্দ্রয়ের অক্ষমতা
যৌন ইন্দ্রয়ের অক্ষমতা হলো সকল মৈথুনের আর একটা প্রধান অন্তরায়।
মৈথুন শক্তির অক্ষমতা আর যৌন অক্ষমতার কারণ কিন্তু ঠিক এক নয়। মৈথুন শক্তির অক্ষমতা সক্ষম ইন্দ্রিয় শক্তি থাকলেও হতে পারে।
কিন্তু অনেকের ইন্দ্রিয় আবার ঠিক তার মত দৃঢ় হয় না। আর ইন্দ্রিয় দৃঢ় না হলে মৈথুন ক্ষমতা স্বাভাবিক হয় না।
এর প্রকৃত কারণ কি?
এ বিষয়ে নানা আলোচনা আগে করা হয়েছে। এখনও করা হবে।
ইন্দ্রিয় উত্তেজিত না হবার কারণ হলো অবশ্য শারীরিক দুর্বলতা। কিন্তু তা আসে কেন?
(১) অমিতাচার।
(২) জন্মগত অক্ষমতা।
(৩) যৌন ক্ষমতার অভাব।
(৪) হস্তমৈথুন অভ্যাস ইত্যাদি।
যাই হোক যৌন ইন্দ্রিয়ের অক্ষমতা উপযুক্ত চিকিৎসক দ্বারা অবশ্যই চিকিৎসা করান দরকার।
তা না হলে যৌন ইন্দ্রিয়ের ক্রমশঃ আরও মারাত্নক হ’য়ে অন্য রোগের সূচনা করতে পারে।
অযোগ্য স্ত্রী
স্ত্রী, মৈথুনে অযোগ্য হয় কেমন করে?
এর উত্তর হলো-মৈথুনের উপযুক্ত ভাবে সহায়ক না হলে সেই স্ত্রীকে অযোগ্য বলা হয়।
স্ত্রী অযোগ্য কি করে হতে পারে।
১। মৈথুনে অনাসক্তি।
২। উপযুক্ত শ্রেণী হিসাবে মিল না হবার জন্য মৈথুনে অক্ষমতা। যেমন বৃষ বা অশ্ব জাতীয় পুরুষের সাথে পদ্মিনী জাতীয় স্ত্রীর।
৩। দৈহিক গঠনের জন্য মৈথুনে অতৃপ্তি।
৪। লজ্জা ও ভয় ইত্যাদি কারণে স্বামীর সঙ্গে মৈথুনে লিপ্ত না হতে ইচ্ছা।
৫। হৃদয়ে প্রেমের অভাব।
৬। গোপন প্রণয়ী-স্বামীর প্রতি আসক্তি বা প্রেমের অভাব।
এর জন্যে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মানসিক হলে তার জন্যে স্ত্রীকে ভালোবেসে তার হৃদয় জয় করতে হবে।
দৈহিক হলে, চিকিৎসার প্রয়োজন। নারী পুরুষ উভয়েই সমশ্রেণীর না হলে মৈথুনকালীন বিবিধ অসুবিধার সৃষ্টি হয়। এই অসুবিধাই হলো অ-সফল মৈথুন।
মৈথুনে অন্যান্য অসুবিধা
সফল মৈথুনের অন্যান্য অসুবিধা হলো-
(১) আর্থিক অস্বচ্ছলতা।
(২) যোগ্য স্থানের অভাব।
(৩) খাদাদির অভাব ও দৈহিক দুর্বলতা ইত্যাদি।
একথা অবশ্যই ঠিক যে সুবিধাজনক সময়, স্থান, খাদ্যদির অভাব হলে, মৈথুন, সফল হ’তে পারে না। কোন গরীব বা অভাবী লোক আগে খাদ্যের যোগাড় করবে তারপর মৈথুন।
এখানে আর একটি প্রয়োজনীয় কথা হলো-প্রাচীন শাস্ত্র কারক বলেছেন যে, সফল মৈথুন নর-নারীর আনন্দ প্রাপ্তির উৎস তা ঠিক।
সফল মৈথুন না হলে, হৃদয়ে পূর্ণ আনন্দ প্রাপ্তি না হলে উপযুক্ত সন্তান হয় না। অ-সফল মৈথুনে যে সন্তান হয়, তা জাতির প্রতিবন্ধক স্বরূপ। সফল মৈথুনই প্রকৃত সন্তানের জন্ম দেয়।
অবশেষে একটি প্রধান কথা হলো-মৈথুন যক কম হয় তত ভালো। তাতে রতিশক্তি বৃদ্ধি পায় ওসকল মৈথুনের জন্যে দেহমনকে শক্তি সঞ্চয়ী করে তোলে।

Recent Posts

Categories

Unordered List

Sample Text

Pages