নারীর খাদ্য ও স্তন ক্যান্সার



বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্তন ক্যান্সারের একটি সুবিধাজনক দিক হলো প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে রোগ সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তোলা যায়। তারপরও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ব্যাপারে নারীদের সচেতন হতে হবে। বেশির ভাগ অসুখের মূলে রয়েছে খাওয়া দাওয়া। জানা যায়, অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত খাবার স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী। স্তন ক্যান্সার আমেরিকা ও ব্রিটেনের মহিলাদের সবচেয়ে বেশি হয়। আর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও চীনে স্তন ক্যান্সার সবচেয়ে কম হয়। চীনা খাবারে রসুনের ব্যবহার শরীরে যেকোনো টিউমার প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমেরিকা ও ব্রিটেনের খাদ্য তালিকায় হাই প্রোটিন, প্রসেসড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড ইত্যাদির পরিমাণই বেশি।

সাম্প্রতিক নানা গবেষণায় এ কথা প্রমাণ হয়েছে যে, ক্যান্সার প্রতিরোধে টাটকা শাকসবজি ও রঙ্গিন ফলমূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অ্যারামোটেজ নামের একটি জৈব রাসায়ণিক পদার্থ রজঃনিবৃত্তির পরে নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। অ্যারোমোটেজ শরীরে বিপাক ক্রিয়ার ফলে তৈরি হয়। আর আঙ্গুর খেলে অ্যারোমোটেজের পরিমাণ কমে যায়। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, আঙ্গুরের রসে, বিশেষত কালো আঙ্গুরের খোসার নিচে থাকা রিজারভাটেরল যেকোনো ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। রিজারভাটেরল স্তন ক্যান্সারের উদ্দীপক অ্যারামোটেজ ধ্বংস করে দেয়। সবুজ শাক সবজি, রঙ্গিন ফল, ফাইবার বা আঁশযুক্ত সবজি ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। আমাদের দেশী রান্নায় ব্যবহূত হলুদ, রসুন, ধনে, জিরা এগুলোও ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে, নিত্যদিনের রান্নায় এসব মসলা ব্যবহূত হচ্ছে বলে বেশ সুবিধা। কিন্তু নারীদের শাক সবজির পাশাপাশি নিয়মিত ফল খেতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পাঁচ রকম শাক সবজি ও পাঁচ রকম ফল থাকা প্রয়োজন। নারীদের নিজেদের পরিবারের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার সাথে সাথে নিজের প্রতিও যত্নবান হতে হবে ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে হবে

কানের খইল সম্পর্কে জানুন


বাইরের বাতাস কানে প্রবেশ করে এবং এই বাতাসের সঙ্গে ধূলা-ময়লা-জীবাণুসহ আরো নানা জিনিস কানে প্রবেশ করে। এ সব জিনিস যেনো কানের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য কানে তেল জাতীয় এক রকম পদার্থের নিঃসরণ ঘটে। এই পদার্থের নিঃসরণ ঘটে কর্ণ-নালীর ত্বকের ক্ষুদ্র এক জাতীয় গ্লান্ড থেখে। দেহে এ জাতীয় গ্লান্ড বা গ্রন্থি আরো আছে। আমাদের দেহে যে ঘাম বের হয় তাও একটি গ্লান্ড থেকে উৎপন্ন হয়। কানের এই তেল জাতীয় পর্দাথের সঙ্গে বাইরের ময়লা মিশে যে জিনিসের তৈরি হয় তাকে কানের খইল বলা হয়। অর্থাৎ এ ভাবেই বাইরের ময়লাকে কান আটকে দেয়।
কানের খইলের ইংরেজি নাম এয়ার ওয়াক্স। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা একে সিরোমেন বলেন। কানের খইল সাধারণভাবে দুই ধরনের হয়, একটি হলো ভেজা আরেকটি হলো শুকনা। ৮০ শতাংশ মানুষেরই কানের খইল ভেজা থাকে এবং মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের কানে শুকনা খইল থাকে।

শুধু মানুষ নয় আরো অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীর কানেও খইল জমতে দেখা যায়।

হলি ফ্যামিলির নাক কান গলা বিভাগের প্রফেসর ড.এস এম খোরশেদ আলম বলেন “আমাদের সবার কানে ময়লা জন্মে। অঞ্চল ভেদে এই ময়লাকে নানা নামে অভিহিত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি ব্যবহার হয় তা হলো কানের খইল।”

আমরা অনেক সময় লঞ্চ ঘাট, ফেরি, বা বাস-রেল স্টেশনে কান পরিষ্কার করছে, এমন পেশার লোক দেখতে পাই। তাদের হাতে থাকে ছোট একটা বাক্স। তাতে নানা জাতীয় রংগিন পর্দাথ থাকে এবং বিচিত্র আওয়াজ করে তার সম্ভাব্য খদ্দেরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। পরে খদ্দের পেলে তাদের কান থেকে ময়লা বের করেন।

প্রফেসর ড.এস এম খোরশেদ আলম বলেন, “কানের ময়লা সাফ করার কোনই প্রয়োজন নেই। কানের ময়লা আপনা থেকেই বের হয়ে যায়। কানের ময়লা ধীরে ধীরে কর্ণ গহবর থেকে এগিয়ে আসে। তারপর তা ঝরে পড়ে যায়।”

এমনটা কেনো হয় তার ব্যাখ্যা দিতে যেয়ে তিনি বলেন, “আমাদের চোয়ালের হাড়ের সঙ্গে কানের সংযোগ রয়েছে। ফলে খাদ্য চিবানো বা নানা কারণে যখনই আমরা কাণ নাড়াচাড়া করি তখনই কানের ভেতরে নাড়া পড়ে এবং জমে থাকা ময়লা ধীরে ধীরে বাইরের দিকে আসতে শুরু করে। একই সঙ্গে কর্ণ-কোষ বৃদ্ধি পায় এবং ময়লাকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। সব মিলিয়ে কান পরিষ্কার করার কোনো দরকার পড়ে না। বরং কান পরিষ্কার না করলেও তা সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার থাকে। অন্যদিকে কান পরিষ্কার করা হলে কানে ফোঁড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কান পরিষ্কার করার সময় ময়লাকে আরো ভেতরে ঠেলে দেয়া হতে পারে। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অথবা পরিষ্কার করতে গিয়ে কানের পর্দায় খোচা লাগতে পারে বা কানের ভেতরের ত্বক ছিড়ে যেতে পারে, যা বিপদের কারণ হয়ে দেখা দেবে। তবে কান পরিষ্কার করার প্রয়োজন না থাকলেও কানে তেল, সরিষা নারিকেল বা অলিভ তেল দেয়া যেতে পারে। এ সব তেল কানের ময়লা বের করতে সাহায্য করে।”

যাদের কানের খইল শুকনো, তারা যদি অলিভ ওয়েল বা অন্য কোনো তেল কানে দেন, তবে তাতে উপকার পাবেন।

প্রফেসর খোরশেদ বলেন “কানে পানি ঢুকলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তা বের করারও কোনো প্রয়োজন নেই। দেহের অন্য কোনো স্থানের চেয়ে কানে উষ্ণতা বেশি। কাজেই যদি কোনোভাবে পানি কানে প্রবেশ করে তবে তা কান থেকে বাষ্প হয়ে বের হয়ে যাবে। কানে পানি ঢুকলেও তা থাকতে পারে না। এ ছাড়া বাচ্চাদের কানে ময়লা জমে ব্যথা হয় বলে অনেকে বলে থাকেন। এমন কথাও সাধারণত সত্য নয়। বাচ্চাদের কানে ব্যথা হয় ভিন্ন কোনো কারণে। তবে কোনো কোনো সময় ময়লা জনিত কারণে কানে ব্যথা হতে পারে। তবে সে জন্য ময়লা পরিষ্কার করতে হলে তা করতে হবে একজন নাক কান গলার বিষেশজ্ঞ চিকিৎসককে। একই ভাবে কোনো কোনো সময় কানের ময়লা অনেকের জন্য সংকটের সৃষ্টি করে। সে ক্ষেত্রে কানের ময়লা বা খইল সরানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ কাজটিও চিকিৎসক ছাড়া আর কারো করা ঠিক হবে না।”

তিনি আরো বলেন, “যে ময়লা নিজে নিজেই কানের ভেতর থেকে পুনরায় কানের মুখ পর্যন্ত চলে এসেছে তাকে ফেলতে গিয়ে কেনো আবার ভেতরের দিকে ঠেলে দেয়ার ঝুঁকি নেয়া ঠিক নয়। তার চেয়ে তাকে আপনা আপনি পড়ে যাওয়ার সুযোগটি দেয়া উচিত।”

গুণে ভরা কামরাঙ্গা


ঢাকা : বাড়ির আনাচে-কানাচে গজিয়ে ওঠা গাছ কামরাঙ্গা। সবুজ ও হলুদের মিশ্রণে বাহারি ফলটির বেশ চাহিদা রয়েছে আমাদের কাছে।

এই সময়ে ফলটি বাজারেও বেশ সহজলভ্য। অন্যান্য ফলের তুলনায় এর দামও কম। তাই ঔষধীগুণ সমৃদ্ধ ফল কামরাঙ্গা যেমন পুরণ করবে শরীরের পুষ্টি তেমনি প্রতিরোধ করবে নানান রোগ।

টক ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত দু’ধরনের কামরাঙ্গা সাধারণত পাওয়া যায়। এতে ভিটামিন-এ অল্প পরিমাণে থাকলেও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে।

এতে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ আম, আনারস ও আঙ্গুরের চেয়ে বেশি। কামরাঙ্গায় আয়রনের পরিমাণ পাকা কাঁঠাল, পাকা পেঁপে, লিচু, কমলালেবু ও ডাবের পানির থেকেও বেশি। আবার কামরাঙ্গা দিয়ে জ্যাম, জেলি, চাটনি ইত্যাদি তৈরি করা যায়।

জেনে নিই এর উপকারিতা :

• এতে থাকে এলজিক এসিড যা খাদ্যনালির (অন্ত্রের) ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
• এর পাতা ও কচি ফলের রসে রয়েছে ট্যানিন, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
• পাকা ফল রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
• ফল ও পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে পান করলে বমি বন্ধ হয়।
• কামরাঙ্গা ত্বক মসৃণ করে।
• এর পাতা ও ডগার গুঁড়া খেলে জলবসন্ত ও বক্রকৃমি নিরাময় হয়।
• কামরাঙ্গা পুড়িয়ে ভর্তা করে খেলে ঠাণ্ডাজনিত (সর্দিকাশি) সমস্যা সহজেই ভালো হয়ে যায়।
• এর মূল বিষনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• কামরাঙ্গা ভর্তা রুচি ও হজমশক্তি বাড়ায়।
• পেটের ব্যথায় কামরাঙ্গা খেলে উপকার পাওয়া যায়।
• শুকানো কামরাঙ্গা জ্বরের জন্য খুবই উপকারী।
• ২ গ্রাম পরিমাণ শুকনো কামরাঙ্গার গুঁড়া পানির সঙ্গে রোজ একবার করে খেলে অর্শ রোগে উপকার পাওয়া যায়।
• কামরাঙ্গা শীতল ও টক। তাই ঘাম, কফ ও বাতনাশক হিসেবে কাজ করে।

ছানিমুক্ত চোখই মনের কথা বলে



চোখে চোখ রাখা সে-তো নয়, চোখের সে ভাষা বুঝতে হলে চোখের মত চোখ থাকা চাই। গানের এ কলির মতোই চোখের মতো চোখ না থাকলে এ ধরণীর সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব নয়। আর চোখের প্রধান শত্রু হলো অন্ধত্ব।


বাংলাদেশের পূর্ণ বয়স্কদের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ অন্ধত্বের কারণ হলো চোখের ছানি। ইংরেজিতে ছানিকে ক্যাটারাক্ট বলা হয়। সাধারণ মানুষ ছানিকে চোখে পর্দা পড়া বলে থাকে।

ছানি কি?

চোখে কাঁচের মত একটি স্বচ্ছ লেন্স আছে। চোখের এই স্বচ্ছ লেন্স আস্তে আস্তে অস্বচ্ছ হয়ে যাওয়াকেই ছানি বলে। ছানি হলে দৃষ্টি শক্তি আস্তে আস্তে কমে যায়। ছানি যে কোন বয়সেই হতে পারে। সাধারণত দুই ধরণের ছানি হয়ে থাকে। এগুলো হলো জন্মগত এবং অর্জিত।

চোখে ছানির কারণ:

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের হাম, অপুষ্টি ও ডায়বেটিস হলে শিশুদের জন্মগত চোখের ছানি হয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অর্জিত ছানি পড়ে। বিভিন্ন কারণে এটা হতে পারে।
শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ ছানিই বয়সজনিত কারণে হয়ে থাকে। বয়স বৃদ্ধি পেলে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যায়।
আঘাত পেলে
দীর্ঘদিন ধরে ষ্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে
ডায়বেটিস রোগাক্রান্তদের ছানি হয় বেশি

ছানি হলে কী হয়:
চোখের দৃষ্টি শক্তি ধীরে ধীরে কমে যাবে
চোখে আবছা বা কুয়াশা বা ঝাপসা দেখা
ছানি ম্যাচিউর বা পরিপক্ক হলে চোখ দিয়ে দেখা যাবে না
চোখের মনির রং কালোর পরিবর্তে ধূসর বা সাদা দেখা যাবে

নিরাময়ে অপারেশন:

ছানির একমাত্র চিকিৎসা হল অপারেশন। সময়মত অপারেশ না করে দেরি করলে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হতে পারে। এই অপারেশনের মাধ্যমে চোখের অস্বচ্ছ লেন্সটাকে ফেলে দিয়ে তার বদলে অন্য একটি কৃত্রিম লেন্স দেওয়া হয়।

বর্তমানে ছানি অপারেশনের পর একটি কৃত্রিম লেন্স ভিতরে লাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে রোগী পূর্বের মত দেখতে পায়। কোন কোন সময় প্রয়োজনে দৃষ্টিশক্তি পরিমাপ করে চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।

নাকের বাঁকা হাড় ও তার প্রতিকার


বেশির ভাগ মানুষেরই নাকের হাড় বাঁকা থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের নাকের হাড়ই বাঁকা। তবে এ জন্য তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না বা সমস্যা দেখা দেয় না। আর এ কারণে বেশির ভাগ মানুষকে নাকের বাঁকা হাড় নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয় না।

তবে এমন সৌভাগ্য সবার হয় না। কারো কারো জন্য নাকের বাঁকা হাড় বেশ সমস্যা ডেকে আনে। তাই নাকের হাড় বাঁকা ও তার প্রতিকার নিয়ে আমরা আপনার স্বাস্থ্য অনুষ্ঠানে আলোচনা করেছি। আর আলোচনা করেছেন ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের নাক কান ও গলা বা ইএনটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা.মাহবুবুর রহমান।

কোনো জনগোষ্ঠির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষেরই নাকের হাড় বাঁকা এ কথা আগেই একবার বলেছি। সে জন্য নাকের হাড় বাঁকা থাকলেই চিকিৎসা করতে হবে এমনটি ভাবা ঠিক নয়। আসলে নাকের হাড় বাঁকার কারণে যদি কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয় তাহলেই চিকিৎসার প্রয়োজন পড়বে। এবার নাকের হাড় বাঁকা থাকার কারণে কি ধরণের অসুবিধা হতে পারে সে ব্যাপারে আলোচনার আগে বরং জেনে নেই নাকের হাড় কেন বাঁকা হয়।

হ্যাঁ, এ ধরণের প্রশ্নের জবাবে নাক কান গলার যে কোনো চিকিৎসকই বলবেন, মূলত নাকের হাড় বাঁকা হয় ট্রমা বা আঘাতজনিত কারণে। শিশুর নাকের হাড় বাঁকা হয়ে মূলত জন্মের সময় নাকে আঘাত পাওয়ার কারণে। গর্ভবতী মায়ের প্রসবের সময় দীর্ঘায়িত হলে তাতে সন্তানের নাকের উপর অবিরাম চাপ পড়বে। আর এ কারণে তার নাকের হাড় বাঁকা হওয়ার সূচনা হতে পারে।

এ ভাবে যে শিশুর নাকের হাড় জন্মের সময়ই বেঁকে গেছে তার বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাকের হাড় আরো বাঁকা হতে থাকবে। এ ছাড়া মায়ের পেটে থাকার সময় শিশুর অবস্থান বা পজিশন কি তাও নাকের হাড় বাঁকা হওয়ার কারণ হতে পারে। মাতৃগর্ভে এ ধরণের অবস্থান নাকের উপর চাপের কারণ হতে পারে। আর অবিরাম এ ধরণের চাপের কারণে শিশুর নাকের হাড় বাঁকা হয়ে যেতে পারে তার জন্মের আগেই।

এ ছাড়া শিশু যখন হাঁটতে শেখে বা খেলতে যায় তখন নানাভাবে নাকে আঘাত পেতে পারে। সাধারণভাবে চেহারার মধ্যে নাকের অবস্থানটি এমন যে মুখে কোনো আঘাত লাগলে তা প্রথমেই নাকে লাগতে পারে। বিশেষ করে বাচ্চারা যখন উপুড় হয়ে পড়ে তখন তাদের নাকেই প্রথম আঘাত লাগতে পারে।

তরুণাস্থি এবং হাড় মিলে নাকের হাড় গঠিত। এই হাড় সব সময় একই রকমভাবে বাঁকা হয় না। নাকের হাড় বাঁকা হওয়ারও নানা রকম ফের আছে। নাকের হাড়ের বাঁকা হওয়ার ধরণের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এর নামকরণ করে থাকেন। কোনো কোনো নাকের হাড় বেশ জটিলভাবেই বাঁকা হতে পারে আবার কোনো কোনো নাকের হাড় বাঁকা হলেও তাতে জটিলতা না থাকতেও পারে। তবে নাকের হাড় বাঁকা থাকার জন্য যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয় তখনই শুধু রোগী চিকিৎসকের কাছে যান।

নাকের হাড় বাঁকা থাকার কারণে রোগীর নানা রকম সংকট বা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নাকের হাড় বাঁকা থাকার জন্য রোগীর এক নাক বা দুই নাকই বন্ধ থাকার কষ্ট হতে পারে। কিংবা নাকের হাড় বাঁকা থাকার কারণে সেখানকার স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে তীব্র ব্যাথার সৃষ্টি হতে পারে। নাকের হাড় বাঁকা থাকার কারণে কখনো কখনো কোনো কোনো রোগীর সাইনোসাইটিস হতে পারে। আর সাইনোসাইটিস হলে রোগীর অবিরাম মাথা ব্যাথা হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাকের বাঁকা হাড় বাইরের থেকেই দেখা যায় এবং এই ধরণের বাঁকা হাড় রোগীর সৌন্দর্যহানির কারণ হতে পারে।

নাকের হাড় বাঁকা থাকলে তার চিকিৎসা কোনো অবস্থায়ই ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। বা এ ধরণের চিকিৎসা ওষুধ দিয়ে আদৌও হয় না। সাধারণভাবে নাকের হাড় কতোটা বাঁকা তার উপর নির্ভর করে অপারেশন করতে হয়। বাংলাদেশের মতো দেশের উপজেলা পর্যায়েও এ ধরণের অপারেশন হতে পারে। এই অপারেশন করার জন্য রোগীকে পূর্ণভাবে অজ্ঞান করে নেয়া হতে পারে। আবার যদি নাকের হাড় তেমন মারাত্মকভাবে বাঁকা না হয় তবে নাকের যে স্থানের অপারেশন করা হবে সে স্থানকে অবশ করে নিয়ে অপারেশন করা যেতে পারে। আর শিশুদের বেলায় এ ধরণের অপারেশন সাধারণভাবে আঠার বয়সের আগে করা হয় না। কারণ আঠারো বয়সের আগে এ ধরণের অপারেশন করা হলে শিশুটির চেহারার সৌন্দর্যহানি ঘটতে পারে।

এই আলোচনার শেষে এসে নাক কান ও গলা বা ইএনটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা.মাহবুবুর রহমান বলেছেন, নাক বাঁক থাকলেই অপারেশন করতে হবে এমন ধারণার কোনো যুক্তি নেই। বাঁকা থাকার কারণেই যদি নাকে কোনো সমস্যা হয় তা হলেই নাক অপারেশন করতে হবে। অর্থাৎ নাকের বাঁকা হাড় যদি কোনো সমস্যার কারণ হয়ে দেখা না দেয় তবে তার জন্য কোনো ধরণের চিকিৎসা করার কোনো দরকার নেই।

নাকের প্রদাহ



আমরা যে সব রোগে কষ্ট পাই তার মধ্যে নাকের প্রদাহ একটি সাধারণ রোগ। এ রোগে একবারও ভোগেন নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই খুব মুশকিলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। তবে সময়মত সর্তক হলে বিব্রতকর এই অসুখকে অনায়াসে প্রতিহত করা যেতে পারে। নাকের প্রদাহ ও তার প্রতিকার এবং চিকিৎসা নিয়ে রেডিও তেহরান থেকে প্রচারিত নিয়মিত সাপ্তাহিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান 'আপনার স্বাস্থ্য' আলোচনা করেছেন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশের নাক কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা.মাহবুবুর রহমান।

আলোচনার শুরুতেই ডাক্তার মাহবুব নাকের প্রদাহ কারণ কি সে সর্ম্পকে আলোকপাত করেন। তিনি আমাদের বললেন, নাক দুই অংশে বিভক্ত । এর একটি হলো বর্হি নাক বা এক্সটার্নাল নোজ আর অন্যটি হলো নোজাল ক্যাভেটি বা ভেতরের অংশ। নাকের এই বাইরের অংশটি ত্বক দ্বারা আচ্ছাদিত এবং নাকের এই অংশে নানা ধরণের ইনফেকশন বা সংক্রমন হতে পারে। একই ভাবে নাকের ভেতরের অংশেও নানা ধরণের ইনফেকশন ঘটতে পারে। নাকের বাইরের অংশ চামড়া দিয়ে ঢাকা, কাজেই দেহের অন্যান্য স্থানে ত্বকে যে সব সংক্রমণ ঘটতে পারে। অনুরুপ সংক্রমণ নাকের এই বাইরের অংশও ঘটতে পারে। নাকের ভেতরের অংশে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট নানা ধরণের সংক্রমণ ঘটতে পারে। অথবা উভয়ই একত্রে প্রদাহ ঘটাতে পারে। এর্লাজি নাকের প্রদাহের আরেকটি কারণ। এ ছাড়া শারীরিক ও রাসায়নিক ট্রমার কারণেই নাকের প্রদাহ হতে পারে বলে ডা. মাহবুব জানিয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই কোনো কোনো নাকের ড্রপ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হলে তার ফলে নাকে রাসায়নিক ট্রমা হতে পারে। তবে নাকের প্রদাহের সবচেয়ে প্রধান কারণ হলো ভাইরাস। ভাইরাস দিয়ে নাকের প্রদাহের শুরু হয় এবং পরে সেখানে ব্যাকটেরিয়া এসে হামলা করে।

সচরাচর নাকের প্রদাহ সৃষ্টিকারী ভাইরাস গুলো হচ্ছে, রাইনো ভাইরাস,ইনফুলেয়েঞ্জা ভাইরাস, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রভৃতি। ডা. মাহবুব রেডিও তেহরানকে আরো জানিয়েছেন, যার এ ধরণের সংক্রমণ ঘটেছে তার সংস্পর্শে গেলে এ ধরণের সংক্রমণ ঘটতে পারে অর্থাৎ এটি খুব ছোঁয়াচে রোগ। সংক্রমণ ঘটার এক থেকে তিনদিন পরে সাধারণভাবে নাকের পেছনের দিকে খানিকটা জ্বালা হতে পারে। এরপরই হাঁচি এবং একই সাথে খানিকটা কাঁপুনি দেখা দিতে পারে বা শীত শীত লাগতে পারে। এরপর নাকের ঘ্রাণ শক্তিও হ্রাস পেতে পারে। এইসব লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পরই নাক দিয়ে প্রচুর পানি পড়া শুরু হবে ও নাক বন্ধ হয়ে যাবে। এ সময়ে জ্বর আসতে পারে। ভাইরাসের হামলার পথ ধরে ব্যাকটেরিয়া নাকে হামলা চালানোর পর নাকের পানির রং বদলে যাবে। অর্থাৎ এগুলো হলুদাভ বা গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। তবে এ জাতীয় নাকের প্রদাহ থেকে মারাত্মক কোনো জটিলতা দেখা না দিলেও এ জাতীয় রোগ বিব্রতকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সঠিকভাবে চিকিৎসা না করলে সেকেন্ডারী যে সব সংক্রমণ ঘটে তা পরবর্তীতে লিম্ব নোডগুলোকে আক্রমণ করতে পারে। নাকের পেছন দিক থেকে কান পর্যন্ত দুইটি টিউব গেছে, এই দুই টিউব থেকে সংক্রমণ কান পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

নাকের প্রদাহের চিকিৎসার কথা উঠলেই প্রথমে দরকার সর্তকতার- এ কথা জানালেন ডা. মাহবুব। এ জন্য এ জাতীয় কোনো রোগীর সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। রোগীর হাঁচি কাশির এলাকায় যাওয়া যাবে না। তবে এরপরও যদি কেউ এমন রোগে আক্রান্ত হয় তবে প্রথমেই তাকে বিছানায় বিশ্রাম নিতে হবে। এ ধরণের বিশ্রাম নেয়াটাই সবচেয়ে ভাল সুফল বয়ে আনে। এরপর রোগীকে প্যারাসিটামল জাতীয় বেদনানাশক ওষুধ সেবন করতে হবে। এ সব ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর আরামের কথা বিবেচনা করে তাকে এন্টি হিসটামিন ও নাকের ড্রপও দিয়ে থাকেন। গরম পানির বাষ্প যদি এ সময় গ্রহণ করা হয় তবে রোগী আরাম পাবে বলে ডা.মাহবুব জানিয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজন পড়লে চিকিৎসক এন্টিবায়োটিকও দিতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন। ভাইরাসের উপর এন্টিবায়োটিক কাজ করে না বলে ব্যাকটেরিয়া নাকে আক্রমণ চালালেই কেবল এন্টি বায়োটিক প্রদান করা হয়। ডা. মাহবুবুর রহমান তার সাক্ষাৎকারে শেষের দিকে সবার উদ্দেশে জোর দিয়ে বলেছেন, সর্তকতাই এ জাতীয় রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায়।

শীতকালে নাক, কান ও গলায় সমস্যা

আমাদের দেশে এখন শীতকাল। শীতকালে প্রচুর পুষ্টিকর শাকসবজি, ফলমূল পাওয়া যায়। এ জন্য সাধারণত রোগব্যাধি কম হয়। যখন অতিরিক্ত শীত পড়ে ও শীতকে অবহেলা করা হয় তখন বিভন্ন রোগব্যাধি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রয়োজনীয় গরম কাপড় পরিধান করা উচিত। শীতকালে নাক, কান ও গলায় যেসব সমস্যা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো—


টনসিলের প্রদাহ বা গলাব্যথা

শীতকালে গলাব্যথা হয়ে টনসিলে তীব্র প্রদাহ হতে পারে। তীব্র প্রদাহের জন্য গলাব্যথা, জ্বর এবং ঢোঁক গিলতে অসুবিধা হয়। যদি ভাইরাসজনিত হয়, তাহলে লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া করলে এবং প্যারাসিটামল খেলে ভালো হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিল প্রদাহ হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণমতো সঠিক সময় ও সঠিক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করতে হবে। অনেক সময় ঠান্ডা লেগে কণ্ঠনালিতে ইনফেকশন হতে পারে বা গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যান্টিহিস্টামিন ও মেন্থলেরভাব নেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে শিশুদের শ্বাসনালিতে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে, এমনকি নিউমোনিয়াও হতে পারে। তাই শিশুদের অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

এডিনয়েড

শিশুদের নাকের পেছনে এক ধরনের টনসিল থাকে, যাকে এডিনয়েড বলা হয়। এডিনয়েড বড় হয়ে গেলে নাক বন্ধ হয়ে যায়। নাক বন্ধ হয়ে গেলে, নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। তাই রাতে শিশুরা মুখ হাঁ করে নিঃশ্বাস নেয়। এডিনয়েড অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং রাতে ঘুমের সময় নাক ডাকে। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। এডিনয়েডজনিত কারণে শিশুদের মধ্যকর্ণে পানি জমে যেতে পারে। তখন শিশুরা কম শুনতে পায়। ফলে দেখা যায়, শিশুরা পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং রেডিও-টেলিভিশনের ভলিউম বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের সমস্যা হলে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অ্যালার্জিজনিত নাকের সর্দি ও পলিপ: কোনো রকমের অ্যালার্জেন যেমন—ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া নাকে ঢুকে যায়, তাহলে নাকে অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ হতে পারে। এতে নাকে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে এবং যে কারণে নাকে সর্দিস ও অ্যালার্জি হয় তা থেকে দূরে থাকলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সাধারণত দীর্ঘদিন নাকে অ্যালার্জি থাকলে পলিপ হতে পারে। পলিপ দেখতে আঙুর ফলের মতো দেখায়। নাকের পলিপে নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং সঙ্গে সাইনাসের ইনফেকশন হয়ে মাথাব্যথা হতে পারে। এই সমস্যার চিকিৎসা হলো অপারেশন। প্রচলিত নিয়মে অপারেশনে আবার পলিপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আধুনিক এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে অপারেশন করা যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে বড় বড় হাসপাতালে এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি নিয়মিত হচ্ছে।

সাইনাসের প্রদাহ বা সাইনুসাইটিস

শীতকালে নাকের দুই পাশের সাইনাসে ইনফেকশন দেখা দেয়, যাকে সাইনুসাইটিস বলা হয়। সাইনুসাইটিসের জন্য নাকের দুই পাশে ব্যথা এবং মাথাব্যথা হতে পারে। সাইনাসের এক্স-রে করলে রোগ নির্ণয় করা যায়। তীব্র অবস্থায় ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। দীর্ঘমেয়াদি সাইনাস প্রদাহে ওয়াশ এবং শেষ পর্যায়ে এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি করা লাগতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া ভালো।

শীতে হঠাৎ নাকে রক্তপাত

বিভিন্ন কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াও নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। শিশুদের বেলায় সাধারণত আঙুল দিয়ে নাক খোঁচানোর কারণে নাক দিয়ে রক্তপাত হতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাই-ব্লাডপ্রেসারের কারণে নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। শীতকালে নাকের ভেতরে রক্তনালি শুকিয়ে ছিড়ে রক্তপাত হতে পারে। আরও অন্যান্য কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। তাই নাক দিয়ে রক্তপাত হলে কালবিলম্ব না করে একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত।

শিশুদের মধ্যকর্ণে প্রদাহ

শীতকালে শিশুদের মধ্যকর্ণে প্রদাহ বেশি দেখা দেয়। সাধারণত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির প্রদাহ, টনসিলের ইনফেকশন, এডিনয়েড নামক গুচ্ছ লসিকা গ্রন্থির বৃদ্ধি ইত্যাদি থেকে এই প্রদাহ দেখা দেয়। শীতকালে এই উপসর্গগুলো বেশি দেখা দেওয়ার ফলে হঠাৎ করেই মধ্যকর্ণে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এ রোগের কারণে কানে অনেক ব্যথার সৃষ্টি হয়, কান বন্ধ হয়ে যায়। সঠিক সময়ে এই রোগের চিকিৎসা না করলে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কান পাকা রোগ হতে পারে। বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে রোগের চিকিৎসা করা হয়।

শীতকালে যাতে ঠান্ডা না লাগে সে জন্য গরম কাপড় পরতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। ঠান্ডা লাগলে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। যাতে প্রথমেই রোগ ভালো হয়ে যায় এবং বিভিন্ন জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শীতকালে অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীদেরও নিয়মিত ওষুধ নেওয়া ও ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত। কারণ সর্দি, অ্যালার্জি ও হাঁপানির মধ্যে যোগসূত্র আছে।

নাকের অ্যালার্জি কারণ ও প্রতিকার



অ্যালার্জি সর্দি একটি নাকের সমস্যা যা আইজিই এন্টিবডির মাধ্যমে নাসিকা ঝিল্লির সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে মূলত উদ্দীপকদের উদঘাটনের ফলে। অ্যালার্জি সর্দি একটি বিশ্বময় স্বাস্থ্য সমস্যা। এর ব্যাপ্তি চারদিকে। শতকরা ১০-২৫ ভাগ জনসমষ্টি এ রোগের শিকার। দিনে দিনে এ রোগের ব্যাপ্তি বাড়ছে। যদিও অ্যালার্জি সর্দি একটি মারাত্মক রোগ নয়, তবে এ রোগের কারণে দৈনন্দিন জীবনপ্রবাহ ব্যাহত হয়। শিশুদের স্কুলের শিক্ষা বাধাগ্রস্ত এবং সর্বোপরি চাকরিজীবীদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ অপরিসীম। হাঁপানি এবং অ্যালার্জি সর্দি উভয়ই অতি প্রচলিত সহ-ব্যাধি, যা ‘একই শ্বাসনালীর একই সমস্যা’ বলে পরিচিতি।

মাঝে মাঝে অ্যালার্জি এক অসহনীয় জটিল রোগ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে অ্যালার্জির প্রকোপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। এ রোগ জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আবার কখনও কখনও এটি সামাজিক সমস্যাও সৃষ্টি করে। যেমন—আপনি একটি অনুষ্ঠানে গেলেন, হঠাত্ করে শুরু হলো অসহ্য চুলকানি, সমস্যাটি তখন খুবই লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আবার যদি হাঁচিসহ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়, তখন তো এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। অর্থাত্ এ রোগকে এক অসহ্য বিড়ম্বনা মনে হয়।

অ্যালার্জির কারণ

ধুলাবালি, ফুলের রেণু, মাইট, খাদ্য, পশু-পাখির লোম ও পাখনা, পোকামাকড়ের হুল ও কামড়, কেমিক্যালস, ওষুধ, কসমেটিক্স এবং কন্টাক্ট এলার্জেন ইত্যাদি। এছাড়াও গাড়ি নির্গত ধোঁয়া, শিল্প-কারখানার বিভিন্ন উপাদানও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। বিশেষ কিছু পদার্থ যখন শরীরের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীরে এক অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যেমন—সর্দি, চুলকানি, ত্বক ফুলে যাওয়া, হাঁচি-কাশি ইত্যাদি। এই সৃষ্ট অস্বাভাবিক উপসর্গগুলোই হলো অ্যালার্জি।

অ্যালার্জির জটিলতা

অ্যালার্জির সুচিকিত্সা না হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। নাকের অ্যালার্জি সর্দি থেকে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ রোগীর হাঁপানি হতে পারে। নাকের অ্যালার্জি সর্দি থেকে সাইনোসাইটিস, চোখের কনজাংটিভাইটিস, নাকের পলিপও হতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

অ্যালার্জির সঠিক চিকিত্সার জন্য কিছু ল্যাব-পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—রক্ত, প্রস্রাব ও মলের রুটিন পরীক্ষা, রক্তের সুগার, আইজিই এন্টিবডি ইত্যাদি। প্রয়োজনে বুকের, নাকের ও সাইনাসের এক্সরে করে দেখা যেতে পারে।

অ্যালার্জি প্রতিরোধ ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিত্সা

অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো কারণগুলো শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে রোগীকে খুব সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের করতে হবে তার শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি হয়। অ্যালার্জি চিকিত্সার বিভিন্ন ধাপ হলো—হেলথ এডুকেশন, ওষুধপত্র এবং অন্যান্য চিকিত্সা করা।

রোগের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে হবে এবং অ্যালার্জির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে পরে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ডিসেনসিটাইজেশন করা যেতে পারে। তবে তা প্রচলিত আধুনিক চিকিত্সার সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে। এ রোগের চিকিত্সা একজন অভিজ্ঞ অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে করতে হবে।

আগে এমন ধারণা ছিল যে, অ্যালার্জি হলে আর ভালো হয় না। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিত্সা সে ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। মনে রাখতে হবে, হাতুড়ে ডাক্তারের খপ্পরে পড়ে ভুল চিকিত্সা দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার সৃষ্টি করে, এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। নিজে নিজে অথবা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে অ্যালার্জির চিকিত্সা করা ঠিক নয়। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ সেবন করলে অনেক সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে অ্যালার্জির চিকিত্সা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ, ত্বক ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিতে হবে। তাহলে অ্যালার্জির দুঃসহ যাতনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

মুখের বিব্রতকর সমস্যা



দুর্গন্ধ বা দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস একটি বিরক্তিকর স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রায়শই আক্রান্ত ব্যক্তি তার এমন অবস্থা সম্পর্কে খুব একটা অবগত থাকেন না। তবে সমস্যাটি আশেপাশে অবস্থানকারীদের। কেননা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় যখন দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস বেরিয়ে আসে তখন গোটা পরিবেশকে অন্যদিক ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য। শুধু পার্শ্বব্যক্তিই যে এর নেতিবাচক প্রভাবে বিরক্ত হন তা কিন্তু নয়।

সংশ্লিষ্ট ভূক্তভোগী ব্যক্তিও নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হন দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস ও এর আনুষঙ্গিক কারণে। তাই কেউ কেউ হরেক ব্র্যান্ডের মাউথওয়াস/ সেপ্র ইত্যাদি ব্যবহার করে বিরক্তিকর অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় খুঁজেন তাতে ফলাফল কতদূর পাওয়া যায়- তা বলতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বসে নেই, একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তেমনি সমপ্রতি পরিচালিত সমীক্ষা শেষে একদল মার্কিন বিজ্ঞানী একটি নতুন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তাদের ভাষায় দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস দূরীকরণে এবং সুগন্ধী শ্বাসের জন্য মিন্ট বা পারফিউম এর চেয়ে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম ম্যাগনোলিয়া ফুল গাছের বাকল বা ছাল। এখন থেকে এই গাছের চারা লাগাতে পারেন আপনারাও। মুখের দুর্গন্ধ বা Bad Breath নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত্ গবেষকরা নানা ধরনের তথ্য সরবরাহ করছেন। এ নিয়ে আছে নানা মতবাদ।মুখের দুর্গন্ধ মুখের বিভিন্ন সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা, এই সমস্যা গুলো মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা ও মাড়ির রোগকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে চিহূিত করা যায়। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, এটা প্রধানত: মুখের খাদ্যকনা থেকে বিপাকিয় পদ্ধতির ফলে নির্গত জীবানুসমূহের থেকে এমাইনো এ্যাসিড এর কারণে হয়ে থাকে, এদের মধ্যে প্রধানত: মুখের গন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে ভেলোটাইল সালোফার কম্পাউন্ডস (VSCs) যেমন হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), মিথাইল মারকেপটেন (CH3SH) এবং ডিনিথাইল সালফাইড (CH3SCH3)। তবে এই ধরনের গবেষণায় তিন রকমের রোগীদের মুখের দুর্গন্ধ সনাক্ত করা হয়েছে যেমন (১) সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী। (২) কৃত্রিম/মেকি মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী ও (৩) মুখের দুর্গন্ধ সম্পর্কে আতঙ্কিত /ভীত রোগী। সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগীদের মুখ থেকে গবেষকরা VSC এর মাত্রা সমূহ পরিমাণ করার পর যারা সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী ছিলেন তাদের নিম্নের চিকিত্সা সমূহ প্রদান করেন
মাড়ির প্রদাহ সমূহের চিকিত্সা
মুখের ও দাঁতের অন্যান্য চিকিত্সা
মুখের যত্নের হাতে কলমে শিক্ষা
মুখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পরামর্শ দান।

সাধারনত:কৃত্রিম মুখের দুর্গন্ধ ও আতঙ্কিত রোগীদের মুখের দুর্গন্ধ এই দুই শ্রেণীর রোগীকে স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান দান ছাড়াও বিভিন্ন পরামর্শ ও উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। যে সমস্ত রোগীদের ভ্রান্ত ধারণা আছে যে তাদের মুখে দুর্গন্ধ আছে এটা তারাই বুঝতে পারে এবং অন্য কোন স্বাস্থ্য শিক্ষা বা পরামর্শ বা আস্বস্থতা তাদেরকে এই বিশ্বাস থেকে সরাতে পারে না বা কার্যকর হয় না তাদেরকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার জন্য পাঠানো হয়। এটা সত্য যে, মুখের দুর্গন্ধ এমনই একটি লক্ষণ যেটা মানসিক উদ্বেগেরও কারণ ঘটায়। মুখের এই দুর্গন্ধ কেন হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানের গবেষণা বহুকাল যাবত্ চলে আসছে। সে সব গবেষণা থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা গেছে, সেগুলোর মধ্যেঃ
প্রতিবার খাবার গ্রহণে মুখের ভিতরে খাদ্য আবরণ দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির ভিতর জমে থেকে ডেন্টাল প্লাক সৃষ্টি এবং তা থেকে মাড়ির প্রদাহ (পেরিওডেন্টাল ডিজিজ)
মুখের যে কোনো ধরনের ঘা বা ক্ষত
আঁকাবাঁকা দাঁত থাকার কারণে খাদ্য কণা ও জীবাণুর অবস্থান
দেহে সাধারণ রোগের কারণে মুখের ভিতরে ছত্রাক ও ফাঙ্গাস জাতীয় ঘা (ক্যানডিয়াসিস)
মুখের ক্যান্সার
ডেন্টাল সিষ্ট বা টিউমার
দুর্ঘটনার কারণে ফ্রেকচার ও ক্ষত
অপরিষ্কার জিহবা

তাছাড়া দেহের অন্যান্য রোগের কারণেও মুখের দুর্গন্ধ হতে পারে, যেমনঃ
পেপটিক আলসার বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ
লিভারের রোগ
গর্ভাবস্থা
কিডনি রোগ
রিউমেটিক বা বাতজনিত রোগ
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র
হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ
গলা বা পাকস্থলীর ক্যান্সার
এইডস রোগ
হূদরোগ
মানসিক রোগ
নাক, কান, গলার রোগ

প্রাথমিক পর্যায়ে মুখের স্থানীয় রোগ গুলোকে চিকিত্সা করানো প্রয়োজন। মুখের স্থানীয়ভাবে কারণগুলো দূর করার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায় তবে দেহের অন্যান্য সাধারণ রোগের উপস্থিতির পরীক্ষাগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দ্ব্বারা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো। তবে মুখে দুর্গন্ধ হলে ঘরে বসে

আপনি যা করবেন
একটি পরিষ্কার উন্নত মানের দাঁতের ব্রাশ ও পেষ্ট দিয়ে দাঁতের সবগুলো অংশ ভিতরে-বাইরে পরিষ্কার করুন (তিন বেলা খাবারের পর)।
জিহ্বা পরিষ্কারের জন্য জিবছলা ব্যবহার করুন। বাজারে স্টেনলেস ষ্টিল অথবা প্লাষ্টিকের জীবছুলা পাওয়া যায়।
যে কোনো ধরনের মাউথওয়াস (ক্লোরহেক্সিডিন জাতীয়) ২ চামচ মুখে ভিতরে ৩০ সেকেন্ড রেখে ফেলে দিয়ে আবার অল্প গরম লবণ পানিতে কুলিকুচি করুন প্রতিদিন অন্তত দু’বার সকালে ও রাতে আহারের পর।
সবসময় সময়ে মুখের ভিতরে একটি লং বা এলাচির দানা রাখুন।
মূল খাবারের আগে বা পরে প্রতিবার আহারের পর (যা কিছু খাবেন যেমন বিস্কুুট, ফলমূল ব্লাক জাতীয় খাবার) সম্ভব হলে দাঁত ব্রাশ করুন অথবা ভালোভাবে কুলিকুচি করে ফেলুন।
ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য জর্দ্দা, পান ইত্যাদি ত্যাগ করুন, তাতে শুধু যে মুখের দুর্গন্ধ দুর হবে তা নয় মুখের ক্যান্সার ও প্রতিরোধ হবে।

বিশেষভাবে যা করবেন

দাঁত ব্রাশ করলেই শুধু ময়লা বা খাদ্যকনা পরিষ্কার হয় না, কারণ দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে বা মাড়ির ভিতরে ভিতরে অনেক সময় খাদ্যকণা জমা থেকে পচন শুরু হয়। তাই যাদের দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে খাদ্য জমা হয় বুঝতে হবে তাদের ডেন্টাল ফ্লস (এক ধরনের পিচ্ছিল সূতা) বা ডেন্টাল টুথ পিকস (এক ধরনের জীবাণু মুক্ত শলাকা)-এর সাহায্যে খাদ্য কণা গুলো বের করা প্রয়োজন। এই ডেন্টাল ফ্লস বা সূতো এবং জীবাণু মুক্ত শলাকা ব্যবহার বিধি একজন ডেন্টাল সার্জনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। অনেক সময় এ ফাঁক গুলো ডেন্টাল ক্যারিজ বা মাড়ির রোগের কারণেও হতে পারে, তাই কোনো সিদ্ধান্তের আগে ডেন্টাল এক্স-রে করিয়ে নেওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

সবশেষে বলতে চাই দ’বেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ, বছরে দু’বার দাঁত ও মুখ পরীক্ষা এবং নাক, কান,গলা সহ পেটের স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে মুখের দুর্গন্ধ আপনার কাছেও আসবেনা।

মেয়েলী রোগ লিউকোরিয়া


লিউকোরিয়াকে বাংলায় শ্বেতপ্রদর বলে অভিহিত করা হয়। মাসিক হওয়ার রাস্তা দিয়ে যে সাদা স্রাব নিঃস্বরণ হয় তাই শ্বেতপ্রদর। আসলে এটা কোনো রোগ নয়, উপসর্গ মাত্র। মেয়েদের জীবনে কোনো না কোনো সময় এই লিউকোরিয়া সমস্যা হতে পারে। রস শ্লেষ্মা অথবা পুঁজযুক্ত সাদা স্রাব নিঃস্বরণ হয় বলেই এটাকে লিউকোরিয়া বলা হয়। মহিলাদের এটা মূলত স্বাভাবিক অবস্থা, কোনো রোগ নয়।
লিউকোরিয়ার কারণ দুটি:
ফিজিওলজিক্যাল বা সহজাত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন;
প্যাথলজিক্যাল বা রোগজনিত কারণ।

ফিজিওলজিক্যাল লিউকোরিয়া যেসব ক্ষেত্রে হতে পারে তা হচ্ছে:
জন্মগ্রহণের পর মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে আড়াই মাস বয়সী শিশুর
যৌবনকালে হরমোনের কারণে
ডিম্বাশয় হতে ডিম্বাণু নিঃস্বরণের সময়

প্যাথলজিক্যাল বা যেসব রোগের কারণে লিউকোরিয়া সমস্যা হতে পারে সেগুলো হলো, রুগ্ন স্বাস্থ্য, অপুষ্টি, অসুখী দাম্পত্যজীবন এবং সেই সঙ্গে কিছু মানসিক অসুস্থতা। এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্ব্বন; যেমন খাওয়ার বড়ি, কপারটি, রিং পেসাজ ইত্যাদি। অন্যদিকে এন্টিবায়োটিকের ব্যাপক ব্যবহারেও লিউকোরিয়া হতে পারে।

যেসব কারণ বা অবস্থায় এই সমস্যা হতে পারে সেগুলো হলো, রক্তশুণ্যতা, দীর্ঘকালীন কিডনি রোগ, যক্ষ্মা, পেটের অসুখ, ডিম্ব্বাশয়ের নিঃস্বরণ অভাব ইত্যাদি। ভিটামিন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রণ ইত্যাদির অভাবের কারণেও সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া হতে পারে।

জীবাণুঘটিত লিউকোরিয়া এবং তার লক্ষণ:

খুবই কমন যেসব জীবাণু দ্বারা লিউকোরিয়া হয় সেগুলোর মধ্যে ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজাইনালিস ক্যানডিডা এলবিকানস, গনোরিয়ার জীবাণু নাইসেরিয়া গনোরি গাডিনিরিলা ভ্যালাইনালিস অন্যতম। এসব জীবাণু দ্বারা লিউকোরিয়া হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো, প্রচুর যোনি স্রাব সাদা বা অন্যান্য রংয়ের নিঃস্বরণ, স্রাবের বিশ্রী গন্ধ, অনেক সময় মাছের আশটে গন্ধের মতো সঙ্গে চুলকানি থাকতে পারে। সেই সঙ্গে তলপেট, পিঠ ও মাজায় ব্যথা থাকতে পারে।

ট্রাইকোমোনাস জীবাণু দ্বারা সংঘটিত লিউকোরিয়ার লক্ষণ:

এই সমস্যা যুবতী বয়সে যারা গর্ভকালীন ও মেনোপজের সময় হয়ে থাকে। এই রোগের সুপ্তিকাল বার থেকে আঠাশ দিন। যোনিপথে হলুদাভ স্রাব ও প্রচুর সবুজাভ ক্ষরণ এবং কখনো বেশি পরিমাণ সাদা বা ক্রিম রঙের হতে পারে।

ক্যানডিডা জীবাণু দ্বারা সংঘটিত লিউকোরিয়ায় সামান্য চুলকানি অথবা প্রচণ্ড চুলকানি থাকে। সাদা দইয়ের মতো ছাকড়া ছাকড়া স্রাব দেখা দেয়। মাসিকের সময় গর্ভাবস্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এবং এন্টিবায়োটিক সেবনের সময় লিউকোরিয়া বেড়ে যেতে পারে।

গনোরিয়া জীবাণুঘটিত লিউকোরিয়া:
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াসহ বার বার প্রস্রাবের বেগ হয়
ক্ষণ বা স্রাব বেশি হয়ে জরায়ু গ্রীবা ও বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ দেখা দেয়। ফেলোপিয়ন টিউবে প্রদাহ হয়ে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।

চিকিত্সা:

প্রথমেই রোগীর অন্য কোনো শারীরিক ও মানসিক রোগ আছে কিনা তা নির্ণয় করে চিকিত্সা দিতে হবে। এমন কি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলেও তার চিকিত্সা করাতে হবে এবং পরে স্রাবের ওষুধ দিতে হবে। রোগীকে আশ্বস্থ করতে হবে।

Recent Posts

Categories

Unordered List

Sample Text

Pages