কয়েকটি ভুল যা ছেলেরা সেক্সের সময় করে থাকে

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের দেশের ছেলেরা সেক্সের সময় মেয়েদের আনন্দ দেওয়ার চেয়ে তাদেরকে লোভনীয় খাদ্যের মত গপাগপ গিলতেই বেশি পছন্দ করে। তাই এদেশের বহু মেয়ের কাছে (সবাই নয়) চরম যৌন সুখ পাওয়া যেন এক বহু আরাধ্য বস্তু। ছেলেদের এই রাক্ষুসে মনোভাবের কারনেই অনেকসময় দেখা যায় যে তারা তাদের Relationship টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়। এমনকি এর ফলে বিয়ের মত অনেক বন্ধনও ধ্বংসের মুখে পড়ে যাচ্ছে, পরকীয়া প্রেমের সূত্রপাত ঘটছে। এর মূল কারনই হল সেক্স ও মেয়েদের যৌন ইচ্ছা-আকাঙ্খা সম্পর্কে ছেলেদের স্বচ্ছ ধারনার অভাব। বিদেশি ভাষায় এসব বিষয়ে অনেক বই পত্র থাকলেও বাংলায় তেমন নেই বললেই চলে। তাই কিছু বিদেশি বইয়ের সাহায্য নিয়ে ও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সেক্সের সময় ছেলেদের যে সকল ভুলের কারনে তাদের সঙ্গিনীর বিরাগভাজন হতে হয় তার কয়েকটি সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরলাম। সময়ের অভাবে আপাতত এসকল ভুলের প্রতিকার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জানার বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে পারলাম না। তবে লেখা সবার ভালো লাগলে ভবিষ্যতে সম্পুর্ন বাংলায় একটা সারগর্ভ সেক্স গাইড লেখার কথা চিন্তা করব।
১. প্রথমে চুমু না খাওয়াঃ সেক্সের শুরুতেই সঙ্গিনীকে আদরের সাথে চুমু না খেয়ে তার যৌন কাতর স্থানগুলোতে (স্তন, যোনি, নিতম্ব, নাভী ইত্যাদি) চলে গেলে তার ধারনা হতে পারে যে আপনি তাকে টাকা দিয়ে ভাড়া করে দ্রুত সেই টাকা উসুল করার চেষ্টা করছেন। গভীরভাবে ভালোবাসার সাথে সঙ্গিনীকে চুমু খাওয়া দুজনের জন্যই প্রকৃতপক্ষে এক অসাধরন যৌনানন্দময় সেক্সের সূচনা করে।
২. দাড়ি না কামানোঃ অনেকেই দাড়ি না কামিয়ে সেক্স করেন, এই মনে করে যে আসল কাজ তো আমার হাত আর লিঙ্গের! কিন্ত যখন আপনার সঙ্গিনীকে চুমু খাবেন, তার স্তন চুষবেন, তার সারা দেহে জিহবা বুলাবেন এবং বিশেষ করে যখন তার যোনি চুষবেন তখন আপনার ধারালো খোচা খোচা দাড়ি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার সঙ্গিনীকে আনন্দ নয় বরং অসস্তি ও ব্যথা দেবে। তাই সেক্সের আগে ভালোমত দাড়ি কামিয়ে নেয়া উচিত।
৩. প্রথম থেকেই জোরে জোরে স্তন টিপাঃ বেশীরভাগ সময়ই দেখা যায় ছেলেরা মেয়েটির স্তন হাতের কাছে পাওয়া মাত্রই এমনভাবে টিপা শুরু করে যেন ময়দা মাখাচ্ছে। কিছু Extreme মেয়ে এরকমটা পছন্দ করলেও বেশীরভাগ মেয়েই চূড়ান্ত উত্তেজিত হওয়ার আগে এরকম করাতে বেশ ব্যথা পায়। তাই প্রথমে নিজের উত্তেজনাকে একটু দাবিয়ে রেখে হলেও ধীরে ধীরে আদরের সাথে ওর স্তনে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে টিপা শুরু করতে হবে। তবে মেয়েই যদি জোরে টিপতে বলে তবে সেক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই।
৪. স্তনের বোটায় কামড় দেয়াঃ কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় কোন মেয়েই সরাসরি তাদের স্তনের বোটায় কামড় খেতে পছন্দ করে না। ছেলেরা মনে করে এখানে কামড় দিলে তাকে বেশি বেশি উত্তেজিত করে তোলা যায়। হ্যা কথাটা আংশিক সত্যি। তবে এর সবচেয়ে ভালো উপায় হল। প্রথমে মুখের ভিতরে যতটুক পারা যায় স্তনটা পুরো বা আংশিক ভরে নিতে হবে তারপর হাল্কা করে দাত বুলানোর মত করে মুখ থেকে স্তনটা বের করতে করতে নিপলে আলতো ভাবে দুই দাঁতের ছোয়া লাগাতে হবে।
৫. আঙ্গুল দিয়ে স্তনের বোটা মোড়ানোঃ অনেক ছেলে এমনভাবে সঙ্গিনীর বোটা আঙ্গুল দিয়ে মোড়ায় যেন তারা রেডিও টিউন করছে। এটা ঠিক নয়। হতে পারে বোটা মেয়েদের স্তনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থান, কিন্ত শুধুই বোটায় এরকম করলে সেটা আনন্দদায়ক নয়, বরং কিছুটা যন্ত্রনাদায়ক (Teasing) । তাই একহাতের আঙ্গুলে বোটা নিয়ে খেলার সময় অন্য হাত দিয়ে সম্পুর্ন স্তনের উপরও নজর রাখতে হবে।
৬. সঙ্গিনীর দেহের অন্যান্য অঙ্গের দিকে মনোযোগ না দেয়াঃ সেক্সের সময় ছেলেদের একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে মেয়েদের স্তন, যোনি আর নিতম্ব এই তিনটিই তাদের একমাত্র যৌনকাতর স্থান নয়। ছেলেদের মূল যৌন কাতর অঙ্গ তাদের দেহের মাত্র কয়েকটি স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও মেয়েদের প্রায় পুরো দেহই স্পর্শকাতর (মেয়েদের দেহের কোন কোন অংশ গুলো বেশি যৌনকাতর তা আপাতত এই সংক্ষিপ্ত রচনায় আর ব্যাখ্যা করছি না।)।তাই তার দেহের এমন একটি স্থানও যেন না থাকে যেখানে ছেলেটির ঠোটের বা হাতের স্পর্শ যায়নি।
৭. ছেলের হাত আটকে যাওয়াঃ সঙ্গিনী যদি আক্রমনাত্নক (Aggressive) সেক্স পছন্দ করে অথবা ছেলে নিজেই চরম উত্তেজিত হয়ে মেয়ের যোনি, স্তন ইত্যাদি স্পর্শ করার জন্য পাগলের মত হাতরাতে থাকে তবে মেয়েটির প্যান্টি বা ব্রা তে তার হাত আটকে যেতে পারে। ফলে বাধ্য হয়ে থেমে সেটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে যে রোমান্টিক যৌনতার একটা আবেশ (Mood) তৈরী হয়েছিল তা নস্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বেশি Aggressive সেক্স শুরুর আগেই ব্রা-প্যন্টি খুলে নেওয়া ভালো।
৮. ভগাঙ্কুরে আক্রমনঃ অনেক ছেলেই মেয়ের যোনি চুষতে গিয়ে তার ভগাঙ্কুরে (clitoris) জোরে জোরে আঙ্গুল ঘষে বলতে গেলে আক্রমনই করে বসে। যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি ভগাঙ্কুর হলো মেয়েদের সবচেয়ে যৌনকাতর স্থানগুলোর একটি। এর অবস্থান হল যোনির ফুটোর আশেপাশে যে পাতলা চামড়ার মত অংশ (labia) আছে তার উপরের দিকে, মেয়েদের প্রস্রাবের রাস্তার নিচে। মেয়েরা যৌনত্তেজিত হলে এই স্থানটি শক্ত হয়ে একটু ফুলে যায় ফলে তা সহজেই দেখা যায়। এই স্থানটি চরম স্পর্শকাতর হলেও এতে জোরে জোরে আঙ্গুল ঘষা মেয়েদের জন্য পীড়াদায়ক। তাই প্রথম দিকে এতে একটু ধীরে ধীরে আঙ্গুল ঘষতে হবে।
৯. একটু থেমে বিশ্রাম নেওয়াঃ ছেলেরা যেমন চরম উত্তেজনার পথে সামান্য সময়ের জন্য থেমে গেলেও আবার সেই স্থান থেকেই শুরু করতে পারে, মেয়েদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়না। তাদের উত্তেজিত হতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। চরম উত্তেজিত হবার পথে হঠাৎ থেমে গেলে তারা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়, ফলে আবার নতুন করে তাদের উত্তেজিত করে তুলতে হয়। তাই যত কষ্টই হোক মেয়েটির চরম উত্তেজনা না আসা পর্যন্ত তাকে আদর করা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্ট করতে হবে।
১০. এলোমেলোভাবে সঙ্গিনীর কাপড়চোপড় খুলতে থাকাঃ অনেক ছেলেই অতিরিক্ত উত্তেজনায় যেনতেনভাবে তার সঙ্গিনীর কাপড় চোপড় খুলতে থাকে ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যেমন ছেলেটি মেয়েটির গেঞ্জি খুলতে গেলে ওর হাতে আটকে যায় বা জিন্স খুলতে গেলে প্যান্টির সাথে আটকে যায়। এরকম হলে মেয়েটি একটি অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে যায়। এমনিতেই নারীসুলভ লাজুকতায়, নিজের স্বামীর সামনেও নগ্ন হতে গিয়ে অনেক স্ত্রীর সামান্য লজ্জা লাগতে পারে, যা তার যৌনসুখের পথে বাধা হয়ে দাড়ায়। এছাড়াও একটি ছেলে তার কাপড় খুলতে গিয়ে তাকে অর্ধনগ্ন করে আটকে গিয়েছে, এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে মেয়েরা পড়তে চায় না। তাই ছেলেদের অত্যন্ত যত্নের সাথে মেয়েটির কাপড় খুলে তাকে তার নগ্নতার লজ্জাকে কাটিয়ে উঠার সুজোগ দিতে হবে। তবে দুজনের সম্মতিতে উম্মাদ-মাতাল সেক্সের ব্যপার-স্যপার হলে অন্য কথা!
১১. মেয়ের অন্তর্বাস নিয়ে টানাটানি শুরু করাঃ সেক্সের সময় সঙ্গিনীর ব্রা-প্যান্টির উপর দিয়ে হাত বুলিয়ে দেওয়া এমনকি এর উপর দিয়ে চাটা মেয়েটির জন্য অত্যন্ত সেক্সী আনন্দদায়ক হলেও তার ব্রা-প্যান্টি নিয়ে টানাটানি করাটা নয়। এতে তার সংবেদনশীল স্থানগুলোতে ব্যথা লেগে পুরো সেক্সের মুডটাই নস্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এক্ষেত্রে সাবধান!
১২. সঙ্গিনীর যোনির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত থাকাঃ অনেক ছেলে মেয়েদের যোনি চোষাটা ঘৃন্য মনে করলেও বেশির ভাগ ছেলেই একবার মুখ দিয়ে সেখানের স্বাদ অনুভব করার পর থেকে এর পরতি চরমভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। এমনকি যারা যোনি মুখ দেয়ও না তারাও অন্তত হাত দিয়ে হলেও মেয়েদের সবচাইতে গোপন স্থানটিকে বারবার আদর করার লোভ সামলাতে পারেন না। সেটা ঠিক আছে। কিন্ত অনেকেই এর প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে দেখা যায়, তার সঙ্গিনীর যে যোনি ছাড়াও যৌনসংবেদী প্রায় পুরো একটা দেহই রয়েছে সে কথা ভুলে যায়। তাই সেক্সের শুরুতেই এমনকি বেশিরভাগ সময়ই মুখ দিয়ে না হলে হাত দিয়ে ঘুরেফিরে যোনিটাকেই বেশি উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। কিন্ত এর জন্য সঙ্গিনী পুরো সময়টাই অসহ্যবোধ করে কারন ছেলেদের মত শুধু লিঙ্গতে সুখ পেয়েই তারা এত সহজে যৌনত্তেজিত হতে পারে না। মেয়েরা তাদের সারা দেহেই তার সঙ্গীর আদর পেতে চায়।
১৩. রুক্ষভাবে সঙ্গিনীর দেহে ম্যাসাজ করাঃ সেক্সের সময় সঙ্গিনীকে উত্তেজিত করে তোলার জন্য যে শৃঙ্গার (Foreplay) বা যৌন আদর করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হল তার সারা দেহে ম্যাসাজ করে দেয়া। বিশেষ করে কর্মজীবী মেয়েদের সঙ্গীরা এই উপায়ে সারাদিন কাজ থেকে ফিরে ক্লান্ত অবসন্ন সঙ্গিনীর নিস্তেজ দেহকে এভাবে সেক্সের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে পারেন (এ ব্যাপারে এখন বিস্তারিত কিছু বলছি না কারন, সেক্সুয়াল ম্যাসাজ করা নিয়ে একটা পুরো একটা বইই লিখে ফেলা যায়। তাই এখন নয়)। তবে নিজের উত্তেজনায় অনেক ছেলেই সঙ্গিনী ব্যাথা পাচ্ছে কিনা একথা চিন্তা না করেই জোরে জোরে রুক্ষভাবে ম্যাসাজ করতে থাকে। এরকম করাটা পরিহার করতে হবে।
১৪. মেয়ের আগেই নিজের কাপড় খুলতে শুরু করাঃ মেয়ে কোন কিছু করার আগেই কেউ তার কাপড় চোপড় খোলা শুরু করবেন না। মেয়ে যতক্ষন পর্যন্ত না উত্তেজিত হয়ে আপনার কাপড় খোলায় মনোযোগ না দেয় ততক্ষন পর্যন্ত নিজে কিছু করার দরকার নেই। মেয়ে যদি আপনার প্যান্টের বোতাম খুলতে চেষ্টা করে, শার্ট টেনে ধরে ইত্যাদি কাজগুলোই আপনার কাপড় খোলার জন্য মেয়েটির থেকে সংকেত বলে ধরে নিতে হবে।
১৫. প্রথম থেকেই জোরে জোরে মৈথুন করাঃ লিঙ্গে মেয়ের তপ্ত যোনির স্পর্শ সব ছেলের জন্যই পাগল করে দেওয়া এক স্পর্শ। বেশিরভাগই এ স্পর্শে উম্মাদের মত হয়ে গিয়ে যোনিতে লিং ঢুকার সাথে সাথেই এমনভাবে মৈধুন (থাপানো!!!) করতে থাকে যেন আজ আজই যোনি থেকে বাচ্চা বের করে ফেলবে। কিন্ত এভাবে শুরু করলে বেশ কিছু সমস্যা হয়। প্রথমত, এভাবে জোরে জোরে মৈথুন করলে মেয়েটির যোনি রসে টইটম্বুর হলেও যোনির ভিতরে, বিশেষ করে বেশি টাইট হলে, ছেলেটির লিঙ্গের অবস্থানের সাথে মেয়েটি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে না। ফলে তার যৌনসুখ অনেকখানি কমে যায়। এছাড়াও প্রথমে এভাবে জোরে জোরে শুরু করলে কি্ছুক্ষন এভাবে মৈথুন করেই ছেলেটি একটু হাপিয়ে যেতে পারে, তাই স্বভাবতই পরে সে আস্তে আস্তে মৈথুন করতে থাকে। কিন্ত মেয়েটি জোরে মৈথুন করায় যে মজা পেয়ে যায়, পরবর্তীতে এ আস্তে আস্তে করায় তার তৃপ্তি কমে যায়। তার উপর যে সময়টিতে মেয়েটির অর্গাজম (চরম সুখ) সমাগত, সেই সময়েই মেয়েটি চায় আরো বেশি উগ্রভাবে তার সঙ্গীর থাপ খেতে। তাই প্রথমে আস্তে আস্তে শুরু করে তারপর মৈথুনের জোর বাড়াতে হবে।
১৬. শক্ত করে সঙ্গিনীর উপর চড়াও হওয়াঃ আশা করি ছেলেদেরকে মনে করিয়ে দিতে হবে না যে মেয়েদের দেহ তাদের চেয়ে হাল্কা ও নরম? তাই Missionary স্টাইলে মেয়েটির উপরে উঠে সেক্স করার সময় নিজের দুই পায়ের উপর ভালোমত ভর দিয়ে মৈথুন করতে হবে। আপনার শক্ত দেহের জোর চাপ সঙ্গিনীর উপর পড়লে সে সেক্সটা উপভোগ করতে পারবে কিনা তা বলাই বাহুল্য।
১৭. দ্রুত বীর্যপাত করাঃ ছেলেদের সবচেয়ে বড় ভয়। সবার পক্ষে অবশ্য দ্রুত বীর্য পাত নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। অনেকেরই এতটাই দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায় যে তারা তাদের যৌনসঙ্গিনীকে ঠিকমত আনন্দই দিতে পারেন না, এমনকি নিজেরাও আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন। দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা দূর করার নানা পদ্ধতি আছে আপাতত তা উল্লেখ করলাম না। তবে যাদের এ সমস্যা হয় তারা এর জন্য সাময়িকভাবে এক কাজ করতে পারেন। সেক্সের আগে অন্তত একবার হস্তমৈথুন করে নেবেন, তারপর সেক্সের শুরুতে সঙ্গিনীকে আদর (Foreplay) করার সময় তার যোনি চুষা ও তাতে আঙ্গুল ঢুকানো ছাড়া বাকি প্রায় সব কিছুই করবেন। আর ওকে আপনার লিঙ্গ চুষতে দেবেন না। ওকে পর্যাপ্ত উত্তেজিত করে যোনিতে লিঙ্গ ঢুকিয়ে থাপ দেয়া শুরু করবেন। যখনি মনে হবে আপনার বীর্যপাত হতে যাচ্ছে, আপনার লিঙ্গ যোনি থেকে বের করে আনবেন। তারপর নিচু হয়ে ওর যোনি চুষতে চুষতে সেখানে দুই আঙ্গুল ঢুকিয়ে আবার বের করতে থাকবেন। আপনার লিঙ্গ সামান্য শিথিল হয়ে এলে আব্র উঠে ওকে থাপাতে থাকবেন, তারপর বীর্যপাতের সময় হলে আবার বের করে ওর যোনিতে নেমে যাবেন। এভাবে যতক্ষন সম্ভব চালিয়ে যাবেন। দেখবেন আপনার সঙ্গিনীও মজা পাবে আর আপনারও টাইম একটু হলেও বাড়বে।
১৮. বেশি বিলম্বে বীর্যপাতঃ এটা আবার দ্রুত বীর্যপাতের বিপরীত সমস্যা। অনেকেই আছেন যারা একনাগারে অনেক্ষন ধরে সঙ্গিনীর যোনিতে মৈথুন করে যেতে পারেন, যদিও এদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। মেয়েরা অবশ্য এরকটাই পছন্দ করে। কিন্ত অনেকসময় দেখা যায় যে ছেলেটির বীর্যপাত হতে এত বেশি দেরী হয় যে মেয়েটি অধৈর্য হয়ে পড়ে। তাই বীর্যপাত হতে দেরী হলে শুধুই ষাঁড়ের মত সঙ্গিনীকে থাপিয়ে যাবেন না। ফাকে ফাকে ওর স্তন চুষুন, চুমু খান এবং বিশেষকরে পজিশন পরিবর্তন করুন।
১৯. সঙ্গিনীকে জিজ্ঞাসা করা তার অর্গাজম হয়েছে কিনাঃ কতিপয় বোকাোা এই কাজটা করে থাকে। বেশিরভাগ মেয়েরই অর্গাজম হলে শীৎকার করে উঠে। আর না করলেও তার দেহের ভঙ্গিমাতেই এটা বুঝে নিতে হবে। তাকে এটা জিজ্ঞাসা করা চূড়ান্ত বোকামী।
২০. ঘেন্নার সাথে যোনি চুষতে যাওয়াঃ আমাদের দেশে অনেক ছেলেই মেয়েদের যোনি চুষতে চায় না। অনেক সময় স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ডের অনুরোধে বহুকষ্টে যোনিতে মুখ দিলেও তা কোনমতে ঘেন্নার সাথে হাল্কা পাতলা চুষে। এমনটি কখনোই কর যাবে না। এভাবে হাল্কা করে চুষতে গেলে সঙ্গিনী সে স্পর্শ সঠিকভাবে পাওয়ার জন্য আরো উতলা হয়ে উঠে। ফলে সে স্বাদ পাওয়ার জন্য সে অন্যপুরুষের স্মরনাপন্ন হতে পারে। তাই একাজটা মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। আপনার ভালোবাসার মানুষের সবকিছুই তো ভালো লাগতে হবে তাইনা? এজন্য ওকে পরিছন্ন থাকতে বললে সে মাইন্ড করবে বলে মনে হয়না। তাছাড়া ও যদি আপনার লিঙ্গ চুষতে অনিচ্ছুক থাকে তাহলে দেখবেন আপনার যোনি চুষার প্রতিদানে ওও একসময় নিজে থেকেই আপনার লিঙ্গ চুষতে চাবে।
২১. সঙ্গিনীর মাথা নিচের দিকে চেপে ধরাঃ সঙ্গিনী যদি Aggressive হয়ে ছেলের দেহে আদর করতে থাকে। যেমন, ছেলের বুকে জিহবা দিয়ে চেটে দিতে থাকে তবে তারা অনেক সময় মেয়েটির মাথা ঠেলে নিচে তার লিঙ্গের কাছে নিয়ে যেতে চায়। এরমকমটা করা যাবে না। কারন মেয়ে যখন Aggressive মুড এ থাকবে তখন সেই চাবে আপনাকে Control করে আনন্দ দিতে।
২২. বীর্যপাতের পূর্বে সঙ্গিনীকে সতর্ক না করাঃ যখন যোনির ভেতরে কনডমবিহীন লিঙ্গ থাকবে, তখন বীর্যপাতের পূর্বে কেন সঙ্গিনীকে সতর্ক করতে হবে তা আশা করি বলে দিতে হবে না। কারন আপনার সঙ্গিনী বার্থকন্ট্রোলে নাও থাকতে পারে। আর ও যখন আপনার লিঙ্গ চুষবে, বিশেষ করে প্রথমবার, তখন অবশ্যই ওকে সাবধান করতে হবে। কারন বীর্যপাতের স্বাদ ও গন্ধ অনেকটা সমুদ্রের নোনা পানির সাথে ডিমের সাদা অংশের মিশ্রনের মত; অনেক মেয়ের তা ভালো নাও লাগতে পারে। তাই এক্ষেত্রে সাবধান।
২৩. সঙ্গিনী লিঙ্গ চুষার সময় নড়াচড়া করাঃ সঙ্গিনী লিঙ্গ চুষার সময় নড়াচড়া করলে এটা তার জন্য যথেষ্ট বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়। ওই যা করার করবে, আপনি নিজে থেকে আপনার লিঙ্গ ওর মুখে ঠেলে দিতে যাবেন না। ওর মাথা চেপেও ধরা যাবে না। মেয়েকে লিঙ্গ চুষতে দেওয়ার সময় সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে শুয়ে থাকা, বা বিছানার কিনারায় বসে থাকা, দাঁড়ানো নয়।
২৪. Porn video থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করাঃ মনে রাখবেন পর্ন ভিডিওতে যা দেখান হয় তার সবই সত্য নয়। বেশিরভাগ পর্ন ভিডিওতে যেসব মেয়েরা পারফর্ম করে তারা সবাই সোজা বাংলায় াগি টাইপের। তাই তারা তাদের মুখের উপর ছেলেদের বীর্য ফালানো, বীর্য খেতে, পিছনদিয়ে (নিতম্বের ফুটো) ছেলেদের লিঙ্গ ঢোকানো ইত্যাদি পছন্দ করা দেখে কেউ বিভ্রান্ত হতে যাবেন না। বাস্তবের চিত্র অনেকাংশেই ভিন্ন। এক্ষেত্রে আপনার সঙ্গিনীর সাথে খোলামেলা হলেই তার পছন্দ অপছন্দ পরিস্কার হয়ে যাবে।
২৫. অনেক্ষন ধরে মেয়েকে উপরে রেখে মৈথুন করতে দেয়াঃ স্বভাবতই মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় দূর্বল তাই তাকে অনেক্ষন ধরে উপরে থেকে আপনাকে থাপ দিতে দেওয়া উচিত নয়। এতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তাছাড়াও ও যখন আপনার উপরে থাকবে তখন আপনিও নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকবেন না যেন…ওর স্তন গুলো টিপে দিন, আদর করুন, মাঝেমাঝে ওর মুখখানি টেনে এনে চুমু খান যেন ও একঘেয়ে হয়ে না পড়ে।
২৬. সঙ্গিনীর অনিচ্ছায় পিছন দিয়ে ঢুকানোঃ এই ভুলটুকু কোনমতেই করবেন না। ছেলেদের পিছনের ফুটোয় কিছু ঢুকালে তার সাহায্যে তার প্রস্টেট গ্রন্থি নামক এক অঙ্গে আনন্দ দেয়া যায়, একে ছেলেদের একপ্রকার অর্গাজম বলে (বিস্তারিত পরে)। কিন্তু মেয়েদের প্রস্টেট গ্রন্থিই নেই। তাই তাদের জন্য পিছন দিয়ে লিঙ্গ ঢুকানো খুব সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। তাই শুধুমাত্র সঙ্গিনী চাইলেই এটা করতে হবে।
২৭. ছবি তোলাঃ আহা! এতক্ষনে আসল কথায় এলাম। বিভিন্ন সাইটে বাংলাদেশের যেসব পর্ন দেখা যায় তার ৯০% হল গোপন ক্যামেরায় তোলা। তবে আমি যারা গোপন ক্যামেরায় এভাবে ছবি তুলে তাদের মানা করতে যাবো না, কারন জানি কোন লাভ নাই, তারা এমনটি করবেই। তবে অনেক ছেলে আছে যারা সঙ্গিনীকে দেখিয়েই ছবি তুলে বা ভিডিও করে। এরকম অবস্থায় আপনার সঙ্গিনী যদি নেহায়েত একটা াগি না হয় তবে তাকে ছবি তুলতে দেওয়ার অনুরোধ করতে যাবেন না। কারন “তোমার একটা ছবি তুলি?” এই কথা ওকে বললে তার কানে এই কথাটাও বাজবে, “……আমার বন্ধুদের দেখানোর জন্য বা সাইটে পোস্ট করার জন্য”
২৮. গৎবাধা সেক্সঃ অনেকছেলেই যতবার সঙ্গিনীর সাথে মিলিত হয় তারা একই রকম ভাবে সেক্স করে এর মজাটাই নস্ট করে ফেলে। তাই কিছুদিন পরপরই নতুন কিছু চেষ্টা
করতে হবে। যেমন নতুন নতুন পজিশনে সেক্স করা, সঙ্গিনীর স্তনে চকলেট মাখিয়ে চোষা, জিহবা দিয়ে ওর পিঠে ড্রইং করার চেষ্টা ইত্যাদি।
২৯. সঙ্গিনীর জন্য কষ্টকর পজিশনে সেক্স করাঃ এমনকোন পজিশনে সেক্স করতে যাবেন না যা সঙ্গিনীর জন্য কষ্টকর হয়ে উঠে।
৩০. এলোমেলো ভাবে ‘লাভ বাইটস’ দেওয়াঃ সেক্সের সময় মেয়েরা হাল্কা পাতলা কামড় খেতে পছন্দ করে। লাভ বাইট মানে শুধু কামড়ই নয়। চামড়ার কোন স্থানে বেশ কিছুক্ষন ধরে একনাগারে চুষতে থাকলে, সেখানে গাঢ় লাল একটা দাগ পড়ে যায়, ওটাকেই লাভ বাইটস বলে। বিশেষ করে যারা ফর্সা তাদের এই দাগটা বেশি ফুটে থাকে। এই দাগ প্রায় একদিন ধরে ফুটে থাকে। তাই এমনকোন যায়গায় এভাবে চুষবেন না যেখানে এই দাগ স্পষ্ট দেখা যায়। যেমন, গলা, গাল ইত্যাদি। কারন এই দাগ মেয়েটির জন্য পরে লজ্জার কারন হবে।
৩১. সঙ্গিনীর অর্গাজমের কেয়ার না করাঃ আপনার অর্গাজম যদি আপনার সঙ্গিনীর আগেই হয়ে যায় তবুও তার যোনি চুষে, আঙ্গুল ঢুকিয়ে যেকোনভাবে হোক তারও অর্গাজম করিয়ে দিতে হবে।
৩২. বীর্যপাত করেই সঙ্গিনীর কাছ থেকে সরে যাওয়াঃ এই ভুলটা আমাদের দেশের ৮০% ছেলেরাই করে থাকে। ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই অর্গাজম যদি একসাথেও হয় তবুও মেয়েরা চায় সেক্স শেষ হলে ছেলেরা আরো কিছুক্ষন তাকে আদর করুক। তাই বীর্যপাত করেও সঙ্গিনীকে বেশ কিছুক্ষন সময় দিতে হবে।
৩৩. খিস্তিপাত করাঃ অনেকেই আছেন সেক্সের সময় নানা খিস্তিপাত তথা বাজে কথা বলতে থাকেন। এ ব্যপারে একটু সাবধান থাকবেন। আপনার সঙ্গী যদি চায় তবেই খিস্তিপাত করবেন। অনেক মেয়ে সেক্সের সময় খিস্তিপাত সহ্য করতে পারে না, তাদের মজার অর্ধেকটাই এতে নস্ট হয়ে যায়। তাই সঙ্গিনী না চাইলে এ অভ্যাস দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
আজ তবে এ পর্যন্তই…পরবর্তীতে আরো কিছু লেখার চেষ্টা করব।

দ্রুত বীর্য পাত বা প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন

প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশনের সহজ বাংলা হলো দ্রুত বীর্যপাত হওয়া। মাঝে মাঝে অনেক পুরুষ যৌনমিলনের সময় তাদের নিজেদের অথবা তাদের যৌনসঙ্গিনীর চাহিদার তুলনায় দ্রুত বীর্যপাত করে ফেলেন। যদি এটা কদাচিৎ ঘটে তাহলে তেমন সতর্ক হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু যদি নিয়মিতভাবে আপনার ও আপনার সঙ্গিনীর ইচ্ছার চেয়ে আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটে অর্থাৎ যৌনসঙ্গম শুরু করার আগেই কিংবা যৌনসঙ্গম শুরু করার একটু পরে আপনার বীর্যপাত ঘটে যায় তাহলে বুঝতে হবে আপনার যে সমস্যাটি হচ্ছে তার নাম প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন একটি সাধারণ যৌনগত সমস্যা। পরিসংখ্যানে ভিন্নতা রয়েছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতি তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন এ সমস্যায় আক্রান্ত হন। যদিও এটি একটি সাধারণ সমস্যা যার চিকিৎসা রয়েছে কিন্তু অনেক পুরুষ এ বিষয়ে তাদের চিকিৎসকের সাথে কথা বলতে কিংবা চিকিৎসা নিতে সঙ্কোচ বোধ করেন।

এক সময়ে ধারণা করা হতো, প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাতের কারণ হলো সম্পূর্ণ মানসিক কিন্তু বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়গুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে দ্রুত বীর্যপাতের সাথে পুরুষত্বহীনতার সম্পর্ক রয়েছে।

আপনি আর দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা নিয়ে জীবন কাটাবেন না বর্তমানে অনেক চিকিৎসা বেরিয়েছে যেমন বিভিন্ন ওষুধ, মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিং এবং বিভিন্ন যৌনপদ্ধতির শিক্ষা। এগুলো আপনার বীর্যপাতকে বিলম্ব করে আপনার ও আপনার সঙ্গিনীর যৌনজীবনকে মধুর করে তুলবে। অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে সমন্বিত চিকিৎসা খুব ভালো কাজ করে।

উপসর্গ
একজন পুরুষ বীর্যপাত করতে কতটা সময় নেবেন সে ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো আদর্শ মাপ নেই। দ্রুত বীর্যপাতের প্রাথমিক লক্ষণ হলো নারী-পুরুষ উভয়ের পুলক লাভের আগেই পুরুষটির বীর্যপাত ঘটে যাওয়া। এ সমস্যা সব ধরনের যৌনতার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। এমনকি হস্তমৈথুনের সময়ও কিংবা শুধু অন্যের সাথে যৌনমিলনের সময়।

প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশনকে সাধারণত দু’ভাগে ভাগ করা হয়ঃ

এক. প্রাইমারি প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশনঃ এটা হলো আপনি যৌন সক্রিয় হওয়া মাত্রই বীর্যপাত ঘটে যাওয়া।

দুই. সেকেন্ডারি প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশনঃ এ ক্ষেত্রে আগে আপনার যৌনজীবন তৃপ্তিদায়ক ছিল, কিন্তু বর্তমানে দ্রুত বীর্যপাত ঘটছে।

কারণ
কী কারণে বীর্যপাত হচ্ছে তা নিরূপণ করতে বিশেষজ্ঞরা এখন পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় ধারণা করা হতো যে এটা সম্পূর্ণ মানসিক ব্যাপার। কিন্তু বর্তমানে আমরা জানি, দ্রুত বীর্যপাত হওয়া একটি জটিল ব্যাপার এবং এর সাথে মানসিক ও জৈবিক দু’টিরই সম্পর্ক রয়েছে।

মানসিক কারণ
কিছু চিকিৎসক বিশ্বাস করেন, প্রাথমিক বয়সে যৌন অভিজ্ঞতা ঘটলে তা এমন একটি ধরনে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, পরবর্তী জীবনে সেটা পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে। যেমন­
লোকজনের দৃষ্টি এড়ানোর জন্য তড়িঘড়ি করে চরম পুলকে পৌঁছানোর তাগিদ।
অপরাধ বোধ, যার কারণে যৌনক্রিয়ার সময় হঠাৎ করেই বীর্যপাত ঘটে যায়।
অন্য কিছু বিষয়ও আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে­
পুরুষত্বহীনতা
যেসব পুরুষ যৌনমিলনের সময় তাদের লিঙ্গের উত্থান ঠিকমতো হবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন, কিংবা কতক্ষণ লিঙ্গ উত্থিত অবস্থায় থাকবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন সেসব পুরুষের দ্রুত বীর্যস্থলন ঘটে।

দুশ্চিন্তা
দ্রুত বীর্যপাত হয় এমন অনেক পুরুষের দ্রুত বীর্যপাতের একটি প্রধান কারণ দুশ্চিন্তা। সেটা যৌনকাজ ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে হতে পারে। আবার অন্য কারণেও হতে পারে।

দ্রুত বীর্যপাতের আরেকটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত উত্তেজনা।

জৈবিক কারণ
বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, কিছুসংখ্যক জৈবিক বা শারীরিক কারণে দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে

হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা
মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটারের অস্বাভাবিক মাত্রা
বীর্যস্খলন ব্যবস্থার অস্বাভাবিক ক্রিয়া
থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা
প্রোস্টেট অথবা মূত্রনালীর প্রদাহ এবং সংক্রমণ
বংশগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
খুব কম ক্ষেত্রে নিচের কারণগুলোর জন্য দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারে
সার্জারি কিংবা আঘাতের কারণে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হওয়া।

নারকোটিকস বা মাদক কিংবা দুশ্চিন্তার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ট্রাইফ্লুপেরাজিন প্রত্যাহার করা এবং অন্য মানসিক সমস্যা থাকা।

যদিও অধিকাংশ প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশনের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক দু’টি বিষয়ই দায়ী। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে দায়ী হলো শারীরিক কারণ যদি সেটা জীবনভর সমস্যা হয়ে থাকে (প্রাইমারি প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন)।

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ঃ বিভিন্ন বিষয়ে আপনার দ্রুত বীর্যপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন­
পুরুষত্বহীনতাঃ যদি আপনার লিঙ্গ ঠিকমতো উত্থিত না হয়, কিংবা মাঝে মাঝে উত্থিত হয় কিংবা উত্থিত হলেও বেশিক্ষণ উত্থিত অবস্থায় না থাকে তাহলে আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। যৌন সঙ্গমের সময় আপনার লিঙ্গের উত্থান অবস্থা বেশিক্ষণ থাকবে না এমন ভয় আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে। প্রতি তিনজন পুরুষের মধ্যে একজনের এ ধরনের লিঙ্গোত্থান সম্পর্কিত দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা থাকে।

স্বাস্থ্য সমস্যাঃ যদি আপনার এমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে যার কারণে আপনি যৌন মিলনের সময় উদ্বেগ অনুভব করেন, উদাহরণ স্বরূপ যদি আপনার হৃদরোগ থাকে তাহলে আপনার দ্রুত বীর্যপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।

মানসিক চাপঃ আপনার জীবনে আবেগজনিত কিংবা মানসিক চাপ দ্রুত বীর্যস্খলনের ব্যাপারে ভূমিকা রাখে।

ওষুধঃ কিছু ওষুধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দ্রুত বীর্যস্খলন ঘটাতে পারে।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেনঃ বেশির ভাগ যৌনমিলনের সময় যদি আপনি আপনার ও আপনার সঙ্গিনীর আকাঙ্ক্ষার চেয়ে দ্রুত বীর্যপাত করে ফেলেন তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। আপনার যৌন জীবন মধুর করার জন্য আপনার চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।



পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ঃ চিকিৎসক আপনার বিস্তারিত যৌন ইতিহাস জেনে, তার ওপর ভিত্তি করে দ্রুত বীর্যপাত রোগ নির্ণয় করেন। চিকিৎসক আপনাকে অনেক একান্ত ব্যক্তিগত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন এবং আপনার সঙ্গিনীকেও উপস্থিত থাকতে বলতে পারেন। যদিও সেক্স সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলতে আপনাদের দু’জনেরই অস্বস্তিবোধ হতে পারে। তবুও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে আপনার চিকিৎসক আপনার সমস্যার কারণ নিরূপণ করতে সাহায্য করবেন এবং সবচেয়ে ভালো চিকিৎসাটা দিতে পারবেন।

আপনার চিকিৎসক আপনার স্বাস্থ্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। তিনি আপনার সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা করতে পারেন।

আপনার চিকিৎসক আপনার কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইতে পারেনঃ

কত দ্রুত আপনার বীর্যপাত ঘটে?

একজন বিশেষ সঙ্গিনীর বেলায় কি আপনার দ্রুত বীর্যপাত হয়?

আপনি যতবার যৌনমিলন করেন, ততবারই আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটে?

আপনি কতবার যৌনমিলন করেন?

দ্রুত বীর্যপাত আপনার যৌন আনন্দ লাভে এবং আপনার সার্বিক জীবনে কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলে?

আপনার লিঙ্গ উত্থান হতে কি দীর্ঘ সময় উত্থান অবস্থায় থাকতে কি সর্বদা সমস্যা হয়?
আপনি এ সমস্যার জন্য কী কী ওষুধ গ্রহণ করেন?

আপনার দ্রুত বীর্যপাতের কারণ উদঘাটন করতে আপনার কিছু মানসিক বিষয়ও জানা প্রয়োজন। আপনার চিকিৎসক আপনার নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেনঃ

আপনার ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষা

আপনার প্রাথমিক যৌন অভিজ্ঞতা

আপনার অতীত ও বর্তমানের যৌন সম্পর্ক

আপনার বর্তমান সম্পর্কের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ

যদি আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে থাকে এবং আপনার লিঙ্গোত্থানে সমস্যা হয় তাহলে আপনার চিকিৎসক আপনার পুরুষ হরমোনের মাত্রা (টেসটোসটেরন) দেখার জন্য আপনার রক্ত পরীক্ষাসহ আরো কিছু পরীক্ষা করতে দিতে পারেন।

জটিলতাঃ যদিও দ্রুত বীর্যপাত আপনার মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ায় না, কিন্তু এটা আপনার ব্যক্তিগত জীবনে ধস নামাতে পারে। যেমন

সম্পর্কে টানাপড়েনঃ দ্রুত বীর্যপাতের সবচেয়ে সাধারণ জটিলতা হলো যৌন সঙ্গিনীর সাথে সম্পর্কের অবনতি। যদি দ্রুত বীর্যপাতের কারণে আপনার সঙ্গিনীর সাথে মনোমালিন্য চলে, আপনি দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আপনার চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে দ্বৈত থেরাপিও থাকবে।

বন্ধ্যত্ব সমস্যাঃ দ্রুত বীর্যপাত মাঝে মাঝে আপনার বন্ধ্যত্ব ঘটাতে পারে।
যেসব দম্পতি সন্তান নেয়ার চেষ্টা করছেন সেটা অসম্ভব হতে পারে। যদি দ্রুত বীর্যপাতের ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে আপনার ও আপনার সঙ্গিনীর দু’জনেরই বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রণের সহজ চিকিৎসা

মুখের ব্রণ নিয়ে সমস্যার অনত্ম নেই। শিশু থেকে মধ্যবয়সী নারী-পুরুষ পর্যনত্ম ব্রণে আক্রানত্ম হয়ে থাকেন। আর তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের বেশির ভাগের ব্রণ এক প্রকার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মমাফিক যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ করে চিকিৎসা দেয়া গেলে ব্রণের কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। ব্রণের জন্য ব্যয়বহুল লেজার এমসিডি, ইএলএফ ইত্যাদি চিকিৎসার কোনো প্রয়োজনও নেই। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের দেশসমূহে শুধু ওষুধ ও বিভিন্ন টপিক্যাল লোশন-ক্রিম দিয়েই সফলভাবে ব্রণের চিকিৎসা দেয়া হয়। বরং এসব দেশেই ব্রণের লেজার চিকিৎসা একেবারেই নিরুৎসাহিত করা হয়। ব্রণের রয়েছে নানা ধরন ও প্রকারভেদ। যথাযথ কারণ অনুসন্ধান করে ব্রণের সঠিক চিকিৎসা দেয়া গেলে যে কোনো ধরনের ব্রণের চিকিৎসা সম্ভব। আমরা যদি ব্রণকে মাইন্ড, মডারেট ও সিভিয়ার তিনভাবে ভাগ করি তবে মাইল্ড ব্রণ বা একনির ক্ষেত্রে শুধু টপিক্যাল ওষুধই যথেষ্ট। মডারেট ব্রণের জন্য টপিক্যাল ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। আর সিভিয়ার বা তীব্র ধরনের ব্রণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খাবার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক লোশন এবং এডাপ্লিন, বেনজাইল পারঅক্সাইড ও রেটিনয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া সিভিয়ার ব্রণের জন্য ক্ষেত্রবিশেষ ওরাল আইসোটেরিটিনিয়েন দেয়া হয়। পাশাপাশি সব ধরনের ব্রণের ক্ষেত্রে অয়েল কন্ট্রোলের জন্য একনি কন্ট্রোল সোপ বা লোশন ব্যবহার করতে হয়।

মনে রাখতে হবে একনি বা ব্রণ মুখ, বুক, পিঠ ও শরীরের কিছু কিছু স্থানের অয়েল গ্ল্যান্ডের নিঃসরণ বাড়লে একনি দেখা দেয় এবং এর জন্য দায়ী এক ধরনের হরমোন। তাই ব্রণপ্রবণ মুখের জন্য অয়েল কন্ট্রোল জরুরি। শুধু স্বাভাবিক নিয়ম-কানুন ও চিকিৎসার পরামর্শ মেনে চললেই আমরা অবশ্যই ব্রণমুক্ত ত্বক রাখতে পারি। এর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যায়ের কোনো প্রয়োজন নেই।

দীর্ঘকালীন কফ ও কাশির কারণ
ডা. মির্জা মোহামমদ হিরণ
কফ কাশির সাথে আমরা সবাই অল্প বিসত্মর পরিচিত। কফ-কাশি কোনো নির্দিষ্ট ব্যাধি নয়। বিভিন্ন ধরনের বক্ষ ব্যাধির উপসর্গ হচ্ছে কফ-কাশি। নানা ধরনের বুকের অসুখ-বিসুখের কারণে রোগীর দেহে কফ-কাশির উপক্রম হয়। ফুসফুসে যক্ষ্মা মানুষের দেহের একটি জটিল ব্যাধি। কফ-কাশি হওয়ার একটি অন্যতম বক্ষব্যাধি হচ্ছে ফুসফুসে যক্ষ্মা। ফুসফুসে যক্ষ্মার একমাত্র প্রধান উপসর্গ হচ্ছে দীর্ঘকালীন কফ-কাশি। কোনো ব্যক্তির যদি তিন সপ্তাহের বেশি সময় কাশি থাকে, তবে চিকিৎসক ওই ব্যক্তি যক্ষ্মায় আক্রানত্ম হয়েছেন বলে ধারণা করেন। ফুসফুসের ক্যান্সার ফুসফুসের একটি মারাত্মক ব্যাধি। ফুসফুসের ক্যান্সারকে মরণঘাতকও বলা হয়ে থাকে। ফুসফুসের ক্যান্সার রোগের পূর্ব লক্ষণ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী কফ-কাশি। এক্ষেত্রে কফ-কাশির সাথে বুকে ব্যথাও হয়ে থাকে। এ রোগের উপসর্গ হিসেবে কখনো কাশির সাথে রক্ত নির্গত হয়। বর্তমানে আমাদের দেশের অনেক লোক ব্রঙ্কিওটাইসিস নামক রোগে আক্রানত্ম হচ্ছে। এটি বুকের একটি ব্যাধি। এই রোগটি সাধারণত মধ্য বয়সের পরে মানুষের দেহে প্রকাশ ঘটে। ব্রঙ্কিওটাইসিস হলে প্রচণ্ড কাশির উপক্রম হয় এবং কাশির সাথে হলুদ পাকা কফ নির্গত হয়। এ সমসত্ম রোগীর দীর্ঘকালীন কাশির সাথে মাঝে মাঝে রক্তপাত হয়। হাঁপানি প্রধানত একটি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ।

শ্বাসকষ্ট হাঁপানির প্রধান লক্ষণ হলেও এর আর একটি প্রধান উপসর্গ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী কফ কাশি। ফুসফুসে কখনো কখনো ফোড়া দেখা দেয়। ফুসফুসে ফোড়া যখন দীর্ঘস্থায়ী হয় তখন রোগীর দেহে কফ-কাশির উপক্রম হয়। এ রোগে আক্রানত্ম রোগীর কাশির সাথে যে কফ নির্গত হয় তা সাধারণত পেকে হলুদ হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড দুর্গন্ধ হয়। নিউমোনিয়ায় আক্রানত্ম রোগীদের মধ্যে কফ-কাশির লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। এ জাতীয় রোগীদের কফের রং সাদা বা হলুদ হয়ে থাকে। নিউমোনিয়া যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন কফের রঙ লালচে ধরনের হয়। এছাড়া ফেরেনজাইটস, পোস্ট নেজান ড্রিপ (সাইনোসাইটিস জাতীয় ব্যাধি) ইত্যাদি রোগের লক্ষণ হিসেবেও কফ-কাশির সৃষ্টি হয়ে থাকে। কফ-কাশি আলাদা বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যাধি নয়। কোনো কোনো বক্ষব্যাধির উপসর্গ হচ্ছে কফ-কাশি। তাই কফ-কাশি প্রতিকারের জন্য সর্বপ্রথম করণীয় হচ্ছে, যে সকল রোগের উপসর্গ হিসেবে কফ-কাশির প্রকাশ ঘটে সে সমসত্ম রোগ প্রতিরোধ করা।

মাথা ধরে কেন?
মাথা ধরা বা মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে দেখা গেছে যে মাথার খুলির মধ্যের রক্তনালিগুলো (ধমনী বা শিরা) যদি বেশি প্রসারিত হয় অথবা মসিত্মষেকর আবরণী পর্দাগুলোর মধ্যে যে রক্তনালিগুলো আছে সেগুলোতে যদি কোনো কারণে টান লাগে অথবা কপাল, মুখমণ্ডল, চোখ, ঘাড় ইত্যাদির মাংসপেশিগুলোর মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম হয় বা ওইসব জায়গায় কোনো প্রদাহ হয় তবে মাথা ধরে। মাথা ধরা তাই কোনো অসুখ নয়। এটা একটা লক্ষণ। তাই মাথা ধরা সারানো অর্থাৎ বরাবরের জন্য মাথা ধরা বন্ধ করা সম্ভব নয়। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বেদনা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারে সাময়িকভাবে মাথাব্যথা থেকে রেহাই পেতে পারি, কিন্তু এতে মাথা ধরার মূল কারণগুলো দূর করা সম্ভব নয়। মাথা ধরা সারার জন্য যেসব ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলো অনেক সময়েই অন্য অনেক ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তাই এসব ওষুধ বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। সাময়িক উপশমের জন্য প্যারাসিটামল বা অ্যাসপিরিন টেবলেট, দুএকটা খাওয়া যেতে পারে। তবে এগুলো খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়।

পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব
ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম
কোনো দম্পতি টানা এক বছর কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন না করে স্বাভাবিক যৌনমিলনের পরও যদি সন্তান জন্ম দিতে না পারে, তখন তাকে বন্ধ্যা দম্পতি বলা যেতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় ১৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যাত্বজনিত কারণে সন্তান জন্ম দিতে পারে না। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বন্ধ্যাত্বের জন্য এককভাবে শুধু পুরুষরাই দায়ী, এক-তৃতীয়াংশ এককভাবে শুধু মহিলারাই দায়ী, বাকি এক-তৃতীয়াংশ পুরুষ ও মহিলা সমানভাবে দায়ী।

পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ
সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা কমতে থাকে। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মাদকদ্রব্য গ্রহণ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শারীরিক স্থ্থূলতা কোনো কোনো সময় পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো কারণ জানা না গেলেও বংশগত কারণেও ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। পুরুষের বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ অণ্ডকোষের বিভিন্ন রোগ এবং বিকৃতি। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অণ্ডকোষের রক্তনালি ফুলে ওঠা, যা ‘ভেরিকোসিল’ নামে পরিচিত। এ রোগের কারণে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সুস্থ-সবল স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে কম থাকে। যে কারণে বাহ্যিক তাপমাত্রার সাথে সাথে অণ্ডকোষের থলির আকৃতির পরিবর্তন হয়। ভেরিকোসিল একপাশে অথবা উভয় পাশেই হতে পারে।

অন্য কারণ
শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা প্রদাহ হওয়া। শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া। বিকৃত ও দুর্বল শুক্রাণু ও শুক্রাণুর গতি কমে যাওয়া। অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে না থেকে পেটের মধ্যে বা অন্য কোনো স্থানে থাকা। অণ্ডকোষের ও প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ। পিটুইটারি গ্রন্থিসহ শরীরের অন্যান্য গ্রন্থির হরমোনের তারতম্য হওয়া। আঘাত বা প্রস্টেট গ্রন্থির অস্ত্রোপচারের কারণে বীর্য মূত্রথলির দিকে যাওয়া। অতি দ্রুত বীর্যস্খলন। বিকৃত পুরুষাঙ্গ বা যথাযথভাবে পুরুষাঙ্গ উত্থিত না হওয়া। এ ক্ষেত্রে স্বামী মিলনে অক্ষম হয়। কিছু ওষুধ যেমন কেমোথেরাপি, সিমিটিডিন, অ্যানাবোলিক স্টেরয়েড, সপাইরেলোলেক্টন, ফেনিটোয়েন, নাইট্রফুরান্টয়েন ইত্যাদি। যৌনরোগ, নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, লিভার ও কিডনি রোগ। অত্যধিক তাপ, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ড্রাগ ও পরিবেশজনিত বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা অণ্ডকোষের শুক্রাণু তৈরির ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া। শুক্রনালি ও অণ্ডকোষে অপারেশন যেমন ভেসেকটমি। অত্যধিক বাইসাইকেল বা ঘোড়ায় চড়া।

শিশুর হাঁপানি এড়াতে সতর্কতা
আমাদের দেশে অনেক শিশু হাঁপানি নামক কষ্টকর রোগে ভোগে। কাজেই ছোট শিশুর হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাকে অ্যালারজেন্ট বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বস্তু থেকে দূরে রাখতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো ঘরের কার্পেট। তা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে। পরিষকার পর্দা, বিছানা এবং পোশাক ব্যবহার করতে হবে। ঘরে কুকুর বিড়াল এ জাতীয় লোমশ কোনো প্রাণী না পোষাই এ ক্ষেত্রে ভালো। এমনকি লোমওয়ালা কোনো খেলনাও শিশুকে কিনে দেয়া উচিত হবে না। এর কারণ হলো এসবে প্রচুর ময়লা জমে থাকলেও টের পাওয়া যায় না এবং এই লোমজাতীয় অংশ বা তন্তু ওই শিশুর জন্য অ্যালার্জির উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। এরপরও দরকার পর্যাপ্ত আলো-বাতাসসমৃদ্ধ ঘর। তবেই না শিশু ঝুঁকিমুক্ত হবে হাঁপানি থেকে।

ত্বকের চিকিৎসায় লেজার সার্জারি
ডা. দিদারুল আহসান
অবাঞ্ছিত লোম ও চুল অপসারণে লেজার
শ্যামলা রঙের ত্বকের জন্য নির্মিত ফ্লুক্স ১০০০ ডাইওড মেশিন বাংলাদেশেও রয়েছে। ত্বকের কোনো ক্ষতি না করেই ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে অবাঞ্ছিত লোম ও চুলকে অঙ্কুরে ধ্বংস করে। অন্যদিকে আধুনিক কুলিং ব্যবস্থা চিকিৎসাকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করে। কিউ সুইচড এনডি ইয়াগ নামক লেজার দুিিট ভিন্ন ধরনের মিশ্রিত রশ্মির সৃষ্টি করে ত্বকের গভীরে অবাঞ্ছিত চুলের ওপর কাজ করে। বাংলাদেশে ইনটেল পালস্‌ লাইট নামের অত্যাধুনিক লেজার মেশিন রয়েছে, যা একই নিয়মে কাজ করে। কিন্তু-সময় অনেক কম লাগে। কারণ এর চিকিৎসা সপষ্ট, সাইজ অনেক বড়। এ ক্ষেত্রে চার সপ্তাহ পরপর চারটি সিটিংয়ের প্রয়োজন হয়। সব পদ্ধতিই ব্যথামুক্ত ও রক্তপাতবিহীন। চুল অপসারণে এটি একটি বিস্ময়কর আবিষকার ও শতভাগ কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

ব্রণ নির্মূলে লেজার ফোটন রশ্মির ব্যবহার
দশ বছর ধরে ব্রণ চিকিৎসায় ফোটন রশ্মি বিশ্বব্যাপী সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যে ব্যাকটেরিয়া ব্রণের জন্য দায়ী তা এ রশ্মি শোষণ করে জীবাণুকে ধ্বংস করে। তাই এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। এ চিকিৎসার সময়কাল ছয় থেকে আট সপ্তাহ এবং সপ্তাহে এক থেকে দুবার করতে হয়। এটি খুব সহজ ও ব্যথামুক্ত একটি পদ্ধতি, তবে রোগীকে ধৈর্যসহকারে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ত্বকের দাগের চিকিৎসায় লেজার
কিউ সুইচড এনডি ইয়াগ দুটি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে কাজ করে এর সমাধান দেয়। ত্বকের কালো ও জন্মদাগ এবং মুখের ত্বকের উপরিভাগের লোম ও রক্তনালির সমস্যায় এ চিকিৎসা খুবই ফলপ্রসূ।

ত্বকের টিউমার অপসারণে লেজার
কার্বন-ডাই-অক্সাইডযুক্ত লেজার ত্বকের টিউমার ও ক্যান্সার, আঁচিল ও বয়সের ভাঁজের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এতে অ্যানেস্থেসিয়ার প্রয়োজন হয় না। ব্যথামুক্ত এ পদ্ধতিতে এক থেকে দুবার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ত্বকের ঘা ও অপারেশন-পরবর্তী ঘা শুকানোর জন্য লেজার ইনকোহারেন্ট ফোটন রশ্মির সাহায্যে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থায় ডায়াবেটিস, আলসার, ত্বকের প্রদাহ ও অপারেশন-পরবর্তী ঘা শুকানোর জন্য লেজার ব্যবহৃত হয়।

কানের সংক্রমণ রোধে দসত্মা
পিতা-মাতা মাত্রই জানেন মধ্যকর্ণের সংক্রমণ শিশুদের একটি সাধারণ এবং ভীষণ বেদনাদায়ক সমস্যা। চার ভাগের তিন ভাগ শিশুই এ রোগে আক্রানত্ম হয়ে থাকে। গবেষকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে এর সমাধান রয়েছে দসত্মার মধ্যে। দসত্মায় রয়েছে ঠাণ্ডা প্রতিরোধী উপাদান। এটি একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ দসত্মা দেহের জন্য আবশ্যক। অনেকের ধারণা, দসত্মা অনাক্রম্য পদ্ধতিতে পোক্ত করে এবং সংক্রমণ রোধ করে।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এ বক্তব্যের সমর্থনে কোনো জোরালো প্রমাণ খুঁজে পাননি। এ লক্ষ্যে দশটি ট্রায়ালের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। কানের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের সপ্তাহে অনত্মত একদিন দসত্মার সম্পূরক দেয়া হয় এক মাস ধরে। তারা বিশ্বাসযোগ্য কোনো ফলাফল পাননি। শিশুরাও ছলৌষধির তুলনায় কোনো ভালো ফলাফল দেখাতে পারেনি। ঈসধভড়থষপ উথয়থদথঢ়প-এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে একটি ক্ষেত্রে। দেখা গেছে, অপুষ্টিগ্রস্ত শিশুরা দসত্মা গ্রহণের পরে তাদের মধ্যকর্ণের সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঝুঁকি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গবেষকরা বলেন যে শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে কানের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এমনিতেই সেরে যায়। যদি না সারে, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।

সাধারণভাবে বলতে গেলে, শিশুদের কানের সংক্রমণ রোধে দসত্মা কোনো উপকারে আসে বলে মনে হয় না।

আপেল যখন মাউথওয়াশ
ডা. ফারজানা চৌধুরী
অনেকক্ষণ মুখে কিছু না দিলে মুখ শুকিয়ে যায়। সবচেয়ে বড় যে সমস্যা হয় তা হলো মুখে একটা খারাপ গন্ধ হয়, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এসব ক্ষেত্রে আপনি একটি আপেল খেয়ে নিতে পারেন। মাউথওয়াশের কাজ হবে। মুখে সজীবতা ফিরে আসবে। অস্বস্তিকর গন্ধও থাকবে না। তা ছাড়া আপেলের পুষ্টি তো পাচ্ছেনই।

ঝাল খাবার শক্তি জোগায়
দূরপাল্লার দৌড়বিদরা দৌড়ানোর ৩০ মিনিট আগে যদি কোনো ঝাল খাবার খান তাহলে বাড়তি শক্তি পান শরীরে। কারণ ঝাল খাবার শরীরে অ্যাড্রেনালিন নামক অতি জরুরি হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এই অ্যাড্রেনালিন শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়, জোগায় বাড়তি শক্তি। আর এ তথ্যগুলো জানিয়েছেন কোরিয়ার ইনকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

গলাব্যথায় ডালিম চিকিৎসা
পুষ্টিকর ফল হিসেবে ডালিমের বেশ নামডাক আছে। অসুখ-বিসুখে পথ্য হিসেবে ডালিমের সমাদর অনেক আগ থেকেই। গলাব্যথা সারাতেও ডালিম দারুণ কার্যকর। গলাব্যথা বা সোর থ্রোট হলে ডালিমের খোসা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি খেলে সোর থ্রোট সারে। ইসরাইলে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়। আসলে ডালিমের খোসায় থাকে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট নামের বিশেষ উপাদান, যা গলার প্রদাহ দূর করতে বেশি কার্যকর। সেই সাথে এই খোসা সিদ্ধ করা পানির ভাপ নিলে সাইনোসাইটিসের উপশম হয়।

রোগমুক্তি ফল সবজিতে
ফলমূল, শাকসবজি আমাদের দেহকোষের সাধারণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা এর জন্য কোষপ্রাচীরের অন্যতম প্রধান উপাদান ‘পেকটিন’কে কৃতিত্ব দিয়েছেন। পেকটিন হলো এক ধরনের জটিল কার্বোহাইড্রেট তন্তু। যদিও পেকটিন বাজারে খাদ্য অনুপূরক হিসেবে বিক্রি হয়। বিজ্ঞানীরা কিন্তু পেকটিনের জন্য বেশি করে টাটকা ফলমূল, শাকসবজি খেতে বলেন। কারণ ফলমূল থেকে আমাদের শরীর সহজে পেকটিন সংগ্রহ করতে পারে। ফলের রস তৈরি শিল্পে ফেলে দেওয়া লেবুজাতীয় ফলের শুকনো খোসা বা আপেল ইত্যাদির ছিবড়ে থেকে পেকটিন বের করে নেওয়া হয়। তবে নানা কারণে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত পেকটিনের কর্মক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ক্যান্সার হওয়ার জন্য ৩০ শতাংশ দায়ী করে হয় বাজে খাবারকে। বিকাশশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ২০ শতাংশ অর্থাৎ শুধু বাজে খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের মতো দেশে অনেক মানুষ ক্যান্সারের শিকার হয়। তামাক সেবনের পর বদ খাদ্যাভ্যাসই ক্যান্সারের আরো একটি কারণ যা কিন্তু সহজেই রোধ করা যেতে পারে বেশি বেশি করে ফলমূল শাকসবজি খেয়ে। তবে যাদের পেটের সমস্যা আছে তাদের শাকসবজি, ফলমূল পরিমাণমতো আহার করা উচিত।

- ডা. মোড়ল নজরুল ইসলামমুখের ব্রণ নিয়ে সমস্যার অনত্ম নেই। শিশু থেকে মধ্যবয়সী নারী-পুরুষ পর্যনত্ম ব্রণে আক্রানত্ম হয়ে থাকেন। আর তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের বেশির ভাগের ব্রণ এক প্রকার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মমাফিক যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ করে চিকিৎসা দেয়া গেলে ব্রণের কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। ব্রণের জন্য ব্যয়বহুল লেজার এমসিডি, ইএলএফ ইত্যাদি চিকিৎসার কোনো প্রয়োজনও নেই। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের দেশসমূহে শুধু ওষুধ ও বিভিন্ন টপিক্যাল লোশন-ক্রিম দিয়েই সফলভাবে ব্রণের চিকিৎসা দেয়া হয়। বরং এসব দেশেই ব্রণের লেজার চিকিৎসা একেবারেই নিরুৎসাহিত করা হয়। ব্রণের রয়েছে নানা ধরন ও প্রকারভেদ। যথাযথ কারণ অনুসন্ধান করে ব্রণের সঠিক চিকিৎসা দেয়া গেলে যে কোনো ধরনের ব্রণের চিকিৎসা সম্ভব। আমরা যদি ব্রণকে মাইন্ড, মডারেট ও সিভিয়ার তিনভাবে ভাগ করি তবে মাইল্ড ব্রণ বা একনির ক্ষেত্রে শুধু টপিক্যাল ওষুধই যথেষ্ট। মডারেট ব্রণের জন্য টপিক্যাল ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। আর সিভিয়ার বা তীব্র ধরনের ব্রণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খাবার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক লোশন এবং এডাপ্লিন, বেনজাইল পারঅক্সাইড ও রেটিনয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া সিভিয়ার ব্রণের জন্য ক্ষেত্রবিশেষ ওরাল আইসোটেরিটিনিয়েন দেয়া হয়। পাশাপাশি সব ধরনের ব্রণের ক্ষেত্রে অয়েল কন্ট্রোলের জন্য একনি কন্ট্রোল সোপ বা লোশন ব্যবহার করতে হয়।

মনে রাখতে হবে একনি বা ব্রণ মুখ, বুক, পিঠ ও শরীরের কিছু কিছু স্থানের অয়েল গ্ল্যান্ডের নিঃসরণ বাড়লে একনি দেখা দেয় এবং এর জন্য দায়ী এক ধরনের হরমোন। তাই ব্রণপ্রবণ মুখের জন্য অয়েল কন্ট্রোল জরুরি। শুধু স্বাভাবিক নিয়ম-কানুন ও চিকিৎসার পরামর্শ মেনে চললেই আমরা অবশ্যই ব্রণমুক্ত ত্বক রাখতে পারি। এর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যায়ের কোনো প্রয়োজন নেই।

দীর্ঘকালীন কফ ও কাশির কারণ
ডা. মির্জা মোহামমদ হিরণ
কফ কাশির সাথে আমরা সবাই অল্প বিসত্মর পরিচিত। কফ-কাশি কোনো নির্দিষ্ট ব্যাধি নয়। বিভিন্ন ধরনের বক্ষ ব্যাধির উপসর্গ হচ্ছে কফ-কাশি। নানা ধরনের বুকের অসুখ-বিসুখের কারণে রোগীর দেহে কফ-কাশির উপক্রম হয়। ফুসফুসে যক্ষ্মা মানুষের দেহের একটি জটিল ব্যাধি। কফ-কাশি হওয়ার একটি অন্যতম বক্ষব্যাধি হচ্ছে ফুসফুসে যক্ষ্মা। ফুসফুসে যক্ষ্মার একমাত্র প্রধান উপসর্গ হচ্ছে দীর্ঘকালীন কফ-কাশি। কোনো ব্যক্তির যদি তিন সপ্তাহের বেশি সময় কাশি থাকে, তবে চিকিৎসক ওই ব্যক্তি যক্ষ্মায় আক্রানত্ম হয়েছেন বলে ধারণা করেন। ফুসফুসের ক্যান্সার ফুসফুসের একটি মারাত্মক ব্যাধি। ফুসফুসের ক্যান্সারকে মরণঘাতকও বলা হয়ে থাকে। ফুসফুসের ক্যান্সার রোগের পূর্ব লক্ষণ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী কফ-কাশি। এক্ষেত্রে কফ-কাশির সাথে বুকে ব্যথাও হয়ে থাকে। এ রোগের উপসর্গ হিসেবে কখনো কাশির সাথে রক্ত নির্গত হয়। বর্তমানে আমাদের দেশের অনেক লোক ব্রঙ্কিওটাইসিস নামক রোগে আক্রানত্ম হচ্ছে। এটি বুকের একটি ব্যাধি। এই রোগটি সাধারণত মধ্য বয়সের পরে মানুষের দেহে প্রকাশ ঘটে। ব্রঙ্কিওটাইসিস হলে প্রচণ্ড কাশির উপক্রম হয় এবং কাশির সাথে হলুদ পাকা কফ নির্গত হয়। এ সমসত্ম রোগীর দীর্ঘকালীন কাশির সাথে মাঝে মাঝে রক্তপাত হয়। হাঁপানি প্রধানত একটি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ।

শ্বাসকষ্ট হাঁপানির প্রধান লক্ষণ হলেও এর আর একটি প্রধান উপসর্গ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী কফ কাশি। ফুসফুসে কখনো কখনো ফোড়া দেখা দেয়। ফুসফুসে ফোড়া যখন দীর্ঘস্থায়ী হয় তখন রোগীর দেহে কফ-কাশির উপক্রম হয়। এ রোগে আক্রানত্ম রোগীর কাশির সাথে যে কফ নির্গত হয় তা সাধারণত পেকে হলুদ হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড দুর্গন্ধ হয়। নিউমোনিয়ায় আক্রানত্ম রোগীদের মধ্যে কফ-কাশির লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। এ জাতীয় রোগীদের কফের রং সাদা বা হলুদ হয়ে থাকে। নিউমোনিয়া যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন কফের রঙ লালচে ধরনের হয়। এছাড়া ফেরেনজাইটস, পোস্ট নেজান ড্রিপ (সাইনোসাইটিস জাতীয় ব্যাধি) ইত্যাদি রোগের লক্ষণ হিসেবেও কফ-কাশির সৃষ্টি হয়ে থাকে। কফ-কাশি আলাদা বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যাধি নয়। কোনো কোনো বক্ষব্যাধির উপসর্গ হচ্ছে কফ-কাশি। তাই কফ-কাশি প্রতিকারের জন্য সর্বপ্রথম করণীয় হচ্ছে, যে সকল রোগের উপসর্গ হিসেবে কফ-কাশির প্রকাশ ঘটে সে সমসত্ম রোগ প্রতিরোধ করা।

মাথা ধরে কেন?
মাথা ধরা বা মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে দেখা গেছে যে মাথার খুলির মধ্যের রক্তনালিগুলো (ধমনী বা শিরা) যদি বেশি প্রসারিত হয় অথবা মসিত্মষেকর আবরণী পর্দাগুলোর মধ্যে যে রক্তনালিগুলো আছে সেগুলোতে যদি কোনো কারণে টান লাগে অথবা কপাল, মুখমণ্ডল, চোখ, ঘাড় ইত্যাদির মাংসপেশিগুলোর মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম হয় বা ওইসব জায়গায় কোনো প্রদাহ হয় তবে মাথা ধরে। মাথা ধরা তাই কোনো অসুখ নয়। এটা একটা লক্ষণ। তাই মাথা ধরা সারানো অর্থাৎ বরাবরের জন্য মাথা ধরা বন্ধ করা সম্ভব নয়। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বেদনা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারে সাময়িকভাবে মাথাব্যথা থেকে রেহাই পেতে পারি, কিন্তু এতে মাথা ধরার মূল কারণগুলো দূর করা সম্ভব নয়। মাথা ধরা সারার জন্য যেসব ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলো অনেক সময়েই অন্য অনেক ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তাই এসব ওষুধ বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। সাময়িক উপশমের জন্য প্যারাসিটামল বা অ্যাসপিরিন টেবলেট, দুএকটা খাওয়া যেতে পারে। তবে এগুলো খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়।

পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব
ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম
কোনো দম্পতি টানা এক বছর কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন না করে স্বাভাবিক যৌনমিলনের পরও যদি সন্তান জন্ম দিতে না পারে, তখন তাকে বন্ধ্যা দম্পতি বলা যেতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় ১৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যাত্বজনিত কারণে সন্তান জন্ম দিতে পারে না। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বন্ধ্যাত্বের জন্য এককভাবে শুধু পুরুষরাই দায়ী, এক-তৃতীয়াংশ এককভাবে শুধু মহিলারাই দায়ী, বাকি এক-তৃতীয়াংশ পুরুষ ও মহিলা সমানভাবে দায়ী।

পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ
সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা কমতে থাকে। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মাদকদ্রব্য গ্রহণ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শারীরিক স্থ্থূলতা কোনো কোনো সময় পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো কারণ জানা না গেলেও বংশগত কারণেও ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। পুরুষের বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ অণ্ডকোষের বিভিন্ন রোগ এবং বিকৃতি। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অণ্ডকোষের রক্তনালি ফুলে ওঠা, যা ‘ভেরিকোসিল’ নামে পরিচিত। এ রোগের কারণে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সুস্থ-সবল স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে কম থাকে। যে কারণে বাহ্যিক তাপমাত্রার সাথে সাথে অণ্ডকোষের থলির আকৃতির পরিবর্তন হয়। ভেরিকোসিল একপাশে অথবা উভয় পাশেই হতে পারে।

অন্য কারণ
শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা প্রদাহ হওয়া। শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া। বিকৃত ও দুর্বল শুক্রাণু ও শুক্রাণুর গতি কমে যাওয়া। অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে না থেকে পেটের মধ্যে বা অন্য কোনো স্থানে থাকা। অণ্ডকোষের ও প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ। পিটুইটারি গ্রন্থিসহ শরীরের অন্যান্য গ্রন্থির হরমোনের তারতম্য হওয়া। আঘাত বা প্রস্টেট গ্রন্থির অস্ত্রোপচারের কারণে বীর্য মূত্রথলির দিকে যাওয়া। অতি দ্রুত বীর্যস্খলন। বিকৃত পুরুষাঙ্গ বা যথাযথভাবে পুরুষাঙ্গ উত্থিত না হওয়া। এ ক্ষেত্রে স্বামী মিলনে অক্ষম হয়। কিছু ওষুধ যেমন কেমোথেরাপি, সিমিটিডিন, অ্যানাবোলিক স্টেরয়েড, সপাইরেলোলেক্টন, ফেনিটোয়েন, নাইট্রফুরান্টয়েন ইত্যাদি। যৌনরোগ, নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, লিভার ও কিডনি রোগ। অত্যধিক তাপ, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ড্রাগ ও পরিবেশজনিত বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা অণ্ডকোষের শুক্রাণু তৈরির ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া। শুক্রনালি ও অণ্ডকোষে অপারেশন যেমন ভেসেকটমি। অত্যধিক বাইসাইকেল বা ঘোড়ায় চড়া।

শিশুর হাঁপানি এড়াতে সতর্কতা
আমাদের দেশে অনেক শিশু হাঁপানি নামক কষ্টকর রোগে ভোগে। কাজেই ছোট শিশুর হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাকে অ্যালারজেন্ট বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বস্তু থেকে দূরে রাখতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো ঘরের কার্পেট। তা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে। পরিষকার পর্দা, বিছানা এবং পোশাক ব্যবহার করতে হবে। ঘরে কুকুর বিড়াল এ জাতীয় লোমশ কোনো প্রাণী না পোষাই এ ক্ষেত্রে ভালো। এমনকি লোমওয়ালা কোনো খেলনাও শিশুকে কিনে দেয়া উচিত হবে না। এর কারণ হলো এসবে প্রচুর ময়লা জমে থাকলেও টের পাওয়া যায় না এবং এই লোমজাতীয় অংশ বা তন্তু ওই শিশুর জন্য অ্যালার্জির উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। এরপরও দরকার পর্যাপ্ত আলো-বাতাসসমৃদ্ধ ঘর। তবেই না শিশু ঝুঁকিমুক্ত হবে হাঁপানি থেকে।

ত্বকের চিকিৎসায় লেজার সার্জারি
ডা. দিদারুল আহসান
অবাঞ্ছিত লোম ও চুল অপসারণে লেজার
শ্যামলা রঙের ত্বকের জন্য নির্মিত ফ্লুক্স ১০০০ ডাইওড মেশিন বাংলাদেশেও রয়েছে। ত্বকের কোনো ক্ষতি না করেই ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে অবাঞ্ছিত লোম ও চুলকে অঙ্কুরে ধ্বংস করে। অন্যদিকে আধুনিক কুলিং ব্যবস্থা চিকিৎসাকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করে। কিউ সুইচড এনডি ইয়াগ নামক লেজার দুিিট ভিন্ন ধরনের মিশ্রিত রশ্মির সৃষ্টি করে ত্বকের গভীরে অবাঞ্ছিত চুলের ওপর কাজ করে। বাংলাদেশে ইনটেল পালস্‌ লাইট নামের অত্যাধুনিক লেজার মেশিন রয়েছে, যা একই নিয়মে কাজ করে। কিন্তু-সময় অনেক কম লাগে। কারণ এর চিকিৎসা সপষ্ট, সাইজ অনেক বড়। এ ক্ষেত্রে চার সপ্তাহ পরপর চারটি সিটিংয়ের প্রয়োজন হয়। সব পদ্ধতিই ব্যথামুক্ত ও রক্তপাতবিহীন। চুল অপসারণে এটি একটি বিস্ময়কর আবিষকার ও শতভাগ কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

ব্রণ নির্মূলে লেজার ফোটন রশ্মির ব্যবহার
দশ বছর ধরে ব্রণ চিকিৎসায় ফোটন রশ্মি বিশ্বব্যাপী সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যে ব্যাকটেরিয়া ব্রণের জন্য দায়ী তা এ রশ্মি শোষণ করে জীবাণুকে ধ্বংস করে। তাই এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। এ চিকিৎসার সময়কাল ছয় থেকে আট সপ্তাহ এবং সপ্তাহে এক থেকে দুবার করতে হয়। এটি খুব সহজ ও ব্যথামুক্ত একটি পদ্ধতি, তবে রোগীকে ধৈর্যসহকারে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ত্বকের দাগের চিকিৎসায় লেজার
কিউ সুইচড এনডি ইয়াগ দুটি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে কাজ করে এর সমাধান দেয়। ত্বকের কালো ও জন্মদাগ এবং মুখের ত্বকের উপরিভাগের লোম ও রক্তনালির সমস্যায় এ চিকিৎসা খুবই ফলপ্রসূ।

ত্বকের টিউমার অপসারণে লেজার
কার্বন-ডাই-অক্সাইডযুক্ত লেজার ত্বকের টিউমার ও ক্যান্সার, আঁচিল ও বয়সের ভাঁজের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এতে অ্যানেস্থেসিয়ার প্রয়োজন হয় না। ব্যথামুক্ত এ পদ্ধতিতে এক থেকে দুবার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ত্বকের ঘা ও অপারেশন-পরবর্তী ঘা শুকানোর জন্য লেজার ইনকোহারেন্ট ফোটন রশ্মির সাহায্যে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থায় ডায়াবেটিস, আলসার, ত্বকের প্রদাহ ও অপারেশন-পরবর্তী ঘা শুকানোর জন্য লেজার ব্যবহৃত হয়।

কানের সংক্রমণ রোধে দসত্মা
পিতা-মাতা মাত্রই জানেন মধ্যকর্ণের সংক্রমণ শিশুদের একটি সাধারণ এবং ভীষণ বেদনাদায়ক সমস্যা। চার ভাগের তিন ভাগ শিশুই এ রোগে আক্রানত্ম হয়ে থাকে। গবেষকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে এর সমাধান রয়েছে দসত্মার মধ্যে। দসত্মায় রয়েছে ঠাণ্ডা প্রতিরোধী উপাদান। এটি একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ দসত্মা দেহের জন্য আবশ্যক। অনেকের ধারণা, দসত্মা অনাক্রম্য পদ্ধতিতে পোক্ত করে এবং সংক্রমণ রোধ করে।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এ বক্তব্যের সমর্থনে কোনো জোরালো প্রমাণ খুঁজে পাননি। এ লক্ষ্যে দশটি ট্রায়ালের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। কানের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের সপ্তাহে অনত্মত একদিন দসত্মার সম্পূরক দেয়া হয় এক মাস ধরে। তারা বিশ্বাসযোগ্য কোনো ফলাফল পাননি। শিশুরাও ছলৌষধির তুলনায় কোনো ভালো ফলাফল দেখাতে পারেনি। ঈসধভড়থষপ উথয়থদথঢ়প-এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে একটি ক্ষেত্রে। দেখা গেছে, অপুষ্টিগ্রস্ত শিশুরা দসত্মা গ্রহণের পরে তাদের মধ্যকর্ণের সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঝুঁকি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গবেষকরা বলেন যে শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে কানের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এমনিতেই সেরে যায়। যদি না সারে, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।

সাধারণভাবে বলতে গেলে, শিশুদের কানের সংক্রমণ রোধে দসত্মা কোনো উপকারে আসে বলে মনে হয় না।

আপেল যখন মাউথওয়াশ
ডা. ফারজানা চৌধুরী
অনেকক্ষণ মুখে কিছু না দিলে মুখ শুকিয়ে যায়। সবচেয়ে বড় যে সমস্যা হয় তা হলো মুখে একটা খারাপ গন্ধ হয়, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এসব ক্ষেত্রে আপনি একটি আপেল খেয়ে নিতে পারেন। মাউথওয়াশের কাজ হবে। মুখে সজীবতা ফিরে আসবে। অস্বস্তিকর গন্ধও থাকবে না। তা ছাড়া আপেলের পুষ্টি তো পাচ্ছেনই।

ঝাল খাবার শক্তি জোগায়
দূরপাল্লার দৌড়বিদরা দৌড়ানোর ৩০ মিনিট আগে যদি কোনো ঝাল খাবার খান তাহলে বাড়তি শক্তি পান শরীরে। কারণ ঝাল খাবার শরীরে অ্যাড্রেনালিন নামক অতি জরুরি হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এই অ্যাড্রেনালিন শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়, জোগায় বাড়তি শক্তি। আর এ তথ্যগুলো জানিয়েছেন কোরিয়ার ইনকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

গলাব্যথায় ডালিম চিকিৎসা
পুষ্টিকর ফল হিসেবে ডালিমের বেশ নামডাক আছে। অসুখ-বিসুখে পথ্য হিসেবে ডালিমের সমাদর অনেক আগ থেকেই। গলাব্যথা সারাতেও ডালিম দারুণ কার্যকর। গলাব্যথা বা সোর থ্রোট হলে ডালিমের খোসা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি খেলে সোর থ্রোট সারে। ইসরাইলে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়। আসলে ডালিমের খোসায় থাকে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট নামের বিশেষ উপাদান, যা গলার প্রদাহ দূর করতে বেশি কার্যকর। সেই সাথে এই খোসা সিদ্ধ করা পানির ভাপ নিলে সাইনোসাইটিসের উপশম হয়।

রোগমুক্তি ফল সবজিতে
ফলমূল, শাকসবজি আমাদের দেহকোষের সাধারণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা এর জন্য কোষপ্রাচীরের অন্যতম প্রধান উপাদান ‘পেকটিন’কে কৃতিত্ব দিয়েছেন। পেকটিন হলো এক ধরনের জটিল কার্বোহাইড্রেট তন্তু। যদিও পেকটিন বাজারে খাদ্য অনুপূরক হিসেবে বিক্রি হয়। বিজ্ঞানীরা কিন্তু পেকটিনের জন্য বেশি করে টাটকা ফলমূল, শাকসবজি খেতে বলেন। কারণ ফলমূল থেকে আমাদের শরীর সহজে পেকটিন সংগ্রহ করতে পারে। ফলের রস তৈরি শিল্পে ফেলে দেওয়া লেবুজাতীয় ফলের শুকনো খোসা বা আপেল ইত্যাদির ছিবড়ে থেকে পেকটিন বের করে নেওয়া হয়। তবে নানা কারণে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত পেকটিনের কর্মক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ক্যান্সার হওয়ার জন্য ৩০ শতাংশ দায়ী করে হয় বাজে খাবারকে। বিকাশশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ২০ শতাংশ অর্থাৎ শুধু বাজে খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের মতো দেশে অনেক মানুষ ক্যান্সারের শিকার হয়। তামাক সেবনের পর বদ খাদ্যাভ্যাসই ক্যান্সারের আরো একটি কারণ যা কিন্তু সহজেই রোধ করা যেতে পারে বেশি বেশি করে ফলমূল শাকসবজি খেয়ে।

আরো ১০০+ প্রশ্নোত্তরে যৌনতা

প্রশ্নঃ আমি ক’দিন আগে একটা Sexy মেয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। এরপর আমরা আমাদের ঘরে গেলাম। যৌনসঙ্গমের জন্য কাপড় খুলছি তখন সে শুধু আমার পায়ের দিকে তাকাচ্ছিল। এক সময় বলে উঠল তোমার পা না চাটলে আমার যৌন উত্তেজনা আসবে না। তাড়াতাড়ি আমি আমার মোজা খুললাম। তক্ষুণি সে আমার পায়ের আঙ্গুল চাটতে শুরু করল, বেশ উত্তেজিত হলো এরপর আমরা সঙ্গমে লিপ্ত হলাম। সে বেশ তৃপ্তি পেল, এটা কি অস্বাভাবিক ব্যাপার?
উত্তরঃ যৌন উত্তেজনা এক একজন এক একভাবে আনে। পায়ের আঙ্গুল চেটে উত্তেজিত হওয়া ব্যাপারটা সাধারণত শোনা যায় না। তবে এটা ক্ষতিকর কিছু না। তার সাথে সঙ্গম চালিয়ে যেতে পারেন।
প্রশ্নঃ যৌনসঙ্গমের সময় বীর্যপাত হওয়ার আগে আমার লিঙ্গ যতদূর সম্ভব যোনির গভীরে ঢুকিয়ে দিই এবং এটা না করে আমি পারি না। কেন এমন হয়?
উত্তরঃ এতে আপনার যৌন তৃপ্তি বেড়ে যায়। যেভাবে ভালো লাগে সেভাবেই মানুষ সঙ্গম করে।
প্রশ্নঃ সঙ্গমের পর সঙ্গিনীর মুখের ওপর বীর্য ঢেলে দিলে তৃপ্তি পাই, সেও তাতে আনন্দ পায়, অন্যরা কি এরকম করে?
উত্তরঃ হ্যাঁ অনেকেই এরকম করে। তবে সঙ্গিনী তা পছন্দ করে কি না তা জেনে নিতে হবে।
প্রশ্নঃ Stop and go পদ্ধতিতে সঙ্গম করে আমার বীর্যপাত পিছিয়ে দিই। এভাবে আমরা ঘণ্টাখানেক যৌনসঙ্গম চালিয়ে যেতে পারি। এটা কি ঠিক?
উত্তরঃ এ পদ্ধতিতে সঙ্গম করে বীর্যকাল পিছিয়ে দেয়া ভুল কিছু নয়। আপনার স্ত্রী এতে অভ্যস্ত হলে আপনারা দীর্ঘসময় সঙ্গম চালিয়ে যেতে পারবেন।
প্রশ্নঃ অনেকেই যৌনকেশ শেভ করে থাকে। কিন্তু আমার ভালো লাগে না, যৌনকেশ দেখতে ভালোই লাগে। আমি কি ঠিক করছি?
উত্তরঃ যারা শেভ করে তারা মনে করে তাদের লিঙ্গের ওপরটা পরিষকার দেখায়। ঘাম হলে সমস্যা হয় না। না করলে কোনো ক্ষতি নেই।
প্রশ্নঃ গতদিন আমি আমার স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম করেছি। আজ দেখি লিঙ্গ লাল হয়ে গেছে, কী হতে পারে?
উত্তরঃ সম্ভবত ঘর্ষণ বেশি হয়েছে। সে কারণেই লাল হতে পারে।
প্রশ্নঃ কী করে যৌনসঙ্গমকাল বাড়াতে পারি?
উত্তরঃ Stop and go পদ্ধতি ব্যবহার করে সঙ্গমকাল বাড়ানো যায়। এছাড়া মাঝে মাঝে লিঙ্গ চোষা, হাত দিয়ে লিঙ্গ নাড়াচাড়া, হস্তমৈথুন করা এবং সঙ্গম পূর্ব শৃঙ্গার করে করে সঙ্গমকাল বাড়ানো যেতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভ্যাস, ধৈর্য্য এবং সঙ্গিনীর সাথে যোগাযোগ করেই সঙ্গমকাল দীর্ঘ করা যায়। এটা রাতারাতি হবে না, দীর্ঘ চর্চার পর হবে।
প্রশ্নঃ মলদ্বারে যৌনসঙ্গম থেকে কি আঘাতের সম্ভাবনা আছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ হতে পারে। রক্তপাত, কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্যথা হতে পারে। যৌনরোগও ছড়ায় এ যৌনসঙ্গমে।
প্রশ্নঃ একটা মেয়েকে আমার খুব ভালো লাগে। কী করে জানব আমাকে তার সমান ভালো লাগে কি না?
উত্তরঃ এ প্রশ্নের উত্তর জানতে সময় নিন। তার সাথে কথা বলুন। কথার ফাঁকে তাকে জানতে পারবেন আপনার জন্য তার অনুভূতি কেমন। একদিনের এক আলাপে এটা জানা যাবে না।
প্রশ্নঃ আমার বাবীর সাথে প্রথমবার যৌনসঙ্গমের সময় আমার লিঙ্গ ততটা শক্ত হচ্ছিল না। কনডম পরার সময় আরো নরম হয়ে গিয়েছিল। অবশ্য ওইসময় আমি খুব ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত ছিলাম। সে চলে যাওয়ার পর আবার শক্ত হচ্ছিল। পরে আবার সে এলে শক্ত হয়েছিল। কেন এমন হলো?
উত্তরঃ প্রথমবারে যৌনসঙ্গমে সাফল্য না আসাটাই স্বাভাবিক। এ সময় উত্তেজনা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মনে ভিড় করে। সঙ্গমে পটু হওয়াটা সময়ের ব্যাপার। বেশ কিছুবার পার না হলে সঙ্গম করার পদ্ধতিটা রপ্ত হয় না। সুতরাং সময় নিন। ঠিক হয়ে যাবে। তার কাছে মন খুলে সব প্রকাশ করুন। সে আপনাকে সঠিকভাবে বুঝলে তখন সব ঠিক হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ মাসিক চলাকালীন সময়টাই কি যৌনসঙ্গমের জন্য উৎকৃষ্ট সময়?
উত্তরঃ বিষয়টা সঙ্গিনীর ওপর নির্ভর করে। উৎকৃষ্ট সময় ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো না।
প্রশ্নঃ সঙ্গিনীর যোনি থেকে যে রস বের হয় এটা খেলে কি কোনো ক্ষতি হয়। আমি খুব চিন্তিত। Side effects আছে নাকি?
উত্তরঃ যোনিরস ক্ষতিকর কোনো তরল পদার্থ নয়। এর জন্য কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।
প্রশ্নঃ আমি নিয়মিত হস্তমৈথুন করি। কিন্তু আমার সঙ্গিনী যখন আমার লিঙ্গ চোষে তখন বীর্যপাত হয় না। শুনেছি বেশি হস্তমৈথুন করলে এরকম হয় না। সে কি ঠিকমতো চুষতে পারছে না।
উত্তরঃ অত্যধিক হস্তমৈথুন করলে সঙ্গমের সময় বীর্যপাত হতে দেরি হতে পারে। চুষতে পারছে না এটা ঠিক নয়, এটা ব্যক্তিবিশেষের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। নিজেরা আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করে নেয়া যায়।
প্রশ্নঃ সতীত্ব হারানোর জন্য কি লিঙ্গ যোনিপথে সম্পূর্ণ প্রবেশ করাতে হয়?
উত্তরঃ সতীত্ব হারানোর জন্য লিঙ্গ যোনিপথে সম্পূর্ণ ঢোকানোর প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর কাছে এর সংজ্ঞা বিভিন্ন রকম।
প্রশ্নঃ Pulling out বা লিঙ্গ বের করে আনা বলতে কি বোঝায়?
উত্তরঃ ওটা বলতে বোঝায় বীর্যপাতের আগে যোনি থেকে লিঙ্গ বের করে আনা।
প্রশ্নঃ আমার পুরুষ বুটি শান্ত স্বভাবের, মৃদুভাষী এবং বিছানায় বেশ ভদ্র। কিন্তু বীর্যপাতের সময় সে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে গালাগালী দেয়। এটার কারণ কি ব্যাখ্যা করবেন?
উত্তরঃ এটা ঠিক লটারি জেতার মতো- আনন্দে চরম উল্লাস করা। অনেকেই এরকম করে। আপনার খারাপ লাগলে বিষয়টি তাকে খুলে বলুন। চেঁচাক কিন্তু গালাগালী যেন না দেয়।
প্রশ্নঃ আমার বু হস্তমৈথুনের সময় বীর্যপাত করে। কিন্তু আমি যখন তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করি সে তখন বীর্যপাত করে না।
উত্তরঃ নানা কারণ হতে পারে। সংকোচ, জড়তা থেকেও এটা হতে পারে। তাকে আরো কাছে টেনে নিন, নির্ভয় করুন ঠিক হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ আমি অবিশ্বাস্য রকম দ্রুত বীর্যপাত করি। সঙ্গিনীকে জড়িয়ে ধরলেই বীর্যপাত হয়ে যায়। আমি চিন্তিত। আমি সপ্তাহে একবার হস্তমৈথুন করি।
উত্তরঃ আপনি আপনার সঙ্গিনীর সাথে আরো বেশি মিলিত হওয়ার চেষ্টা করুন। বারে বারে মিলিত হতে থাকলে সপর্শকাতর ভাবটা কমতে থাকবে এবং বীর্যপাত সময়টা পিছিয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ যৌনসঙ্গমের সময় বীর্যপাত হতে অনেক দেরি হয়। এতে আমার যৌনসঙ্গিনী ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সমাধান বলে দিন।
উত্তরঃ আপনি মূল যৌনসঙ্গম করার আগে শৃঙ্গারে বেশি সময় ব্যয় করুন এবং যখনই পর্যাপ্ত উত্তেজিত হবেন এবং বীর্যপাত হওয়ার মতো মনে হবে তখন যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশ করান। তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হবে-সঙ্গিনী ক্লান্ত হবে না।
প্রশ্নঃ যৌনসঙ্গমকাল কতক্ষণ দীর্ঘ হওয়া উচিত?
উত্তরঃ এ ব্যাপারে ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। তবে স্বাভাবিক হলে গড়ে ৫ মিনিট।
প্রশ্নঃ আমার লিঙ্গ বেশ লম্বা, আমার লিঙ্গ আমি চুষতে চাই কিন্তু জানি না স্বাস্থ্য সমস্যা হবে কি না। এটা কি ভুল হবে?
উত্তরঃ বিষয়টা আপনিই সিদ্ধান্ত নিন। তবে এটা অস্বাভাবিক। এ বিষয়ে বিশদ কিছু গবেষণা বা আলোচনা হয়নি, একে auto fellatio বলে।
প্রশ্নঃ MILF মানে কি?
উত্তরঃ সাধারণভাবে বলতে গেলে জাকালো বয়স্ক নারী। তবে অশ্লীল অর্থে এটা হলো Mother id like to F * * K . সাধারণত ৩০-৪০ বয়সের মহিলাদের উদ্দেশ্যে এটা বলা হয়- যাদের দেখলে সেক্স করতে ইচ্ছা করে। শারীরিকভাবে সক্ষম যৌন উত্তেজক মহিলাদের এসব বলা হয়।
প্রশ্নঃ কুকুরের সাথে যৌনসঙ্গম করতে ইচ্ছা করে, কী করব? ছোটবেলা গরুর সাথে করতে ইচ্ছা করত।
উত্তরঃ কাজটা ঠিক হবে না। কুকুর কামড় দিতে পারে। ইচ্ছাটা স্বাভাবিক নয়। আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ পুরুষ কেন মলদ্বারে যৌনসঙ্গম পছন্দ করে?
উত্তরঃ বাস্তবে অনেক পুরুষই ওইভাবে যৌনসঙ্গম পছন্দ করে না। কেন তারা পছন্দ করে এটা তাদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। তবে এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ।
প্রশ্নঃ চরমপুলক মানে কি?
উত্তরঃ যৌনসঙ্গমের সময় সবচেয়ে সুখকর অবস্থাটাই চরমপুলক। তবে সব সঙ্গমেই চরমপুলক আসে না। অনেকে চরমপুলককে ততটা আনন্দদায়ক মনে করে না। বীর্যপাতের সময় চরমপুলক অনুভূত হয়।
প্রশ্নঃ আমার যৌনসঙ্গিনী আমার লিঙ্গ চুষলে বীর্যপাত হয় না। কিন্তু আমি যখন নিজে হস্তমৈথুন করি তখন বীর্যপাত হয়। কী করে চুষিয়ে বীর্যপাত করানো যায়?
উত্তরঃ প্রথমে নিজে হস্তমৈথুন করুন এবং তাকে দেখতে দিন আপনি কিভাবে করেন, এরপর যখন বীর্যপাত হওয়ার সময় আসবে তখন তাকে চুষতে বলুন-বীর্যপাত হয়ে যাবে। বিষয়টা হলো আপনার নিজস্ব স্টাইল ও তার স্টাইলের সমন্বয় ঘটানো। এরপর একটু একটু করে বেশি সময় তার কাছে ছেড়ে দিন। তবে লক্ষ্য রাখবেন সে যেন অবহেলিত না হয় এবং যৌনকলা যেন একপেশে না হয়।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে আমার বীর্যপাত হয় কিন্তু যৌনসঙ্গমে আমার বীর্যপাত হয় না। কেউ কেউ বলছে যে আমি হস্তমৈথুনে এতটা অভ্যস্ত হয়েছি যৌনসপর্শে কোনো কাজ হচ্ছে না।
উত্তরঃ আপনি ধীরে ধীরে যোনিপথের সপর্শে নিজেকে উত্তেজিত করুন। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে এগোন। এক সময় আপনি যোনিসপর্শে উত্তেজনা খুঁজে পাবেন এবং আপনার বীর্যপাত হবে। মনে রাখবেন আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন হস্তমৈথুন ব্যাপারটা আয়ত্ত করতে আপনারও সময় লেগেছিল। তেমনি যৌনসঙ্গিনীর শরীর, স্তন, নিতম্ব যোনির সাথেও অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রথম দিকে তাকে দিয়ে হস্তমৈথুন করান, এরপর আপনার লিঙ্গ তার যোনিপথে ঢুকিয়ে দিয়ে সঙ্গম করতে থাকুন, আস্তে আস্তে যোনির স্বাদ পেতে থাকবেন।
প্রশ্নঃ আমার যৌনসঙ্গিনীর মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি এলো। সে ভাবল সে যদি আমাকে বিছানায় ভীত অথবা অপমানিত করে তাহলে আমার প্রচুর বীর্য নির্গত হবে এবং সেভাবে সে করে যাচ্ছে কিন্তু মাঝে মাঝে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। এ পদ্ধতিটা কি ঠিক?
উত্তরঃ বীর্য উৎপাদন শরীরের ভেতরের কর্মকাণ্ড। বাইরের কোনো কর্মকাণ্ড বীর্য উৎপাদন বাড়াতে বা কমাতে পারে না। সুতরাং এরকম যতকিছুই করা হোক না কেন বীর্য যেটুকু তৈরি হওয়ার সেটুকু তৈরি হবে, তার বেশি নয়।
প্রশ্নঃ ভাই, বোনে যৌনসঙ্গম কি অবৈধ?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ১৬। আমি কি ভায়াগ্রা খেতে পারি?
উত্তরঃ লিঙ্গ শক্ত না হলে তা ঠিক করার জন্য ভায়াগ্রা ব্যবহার করা হয়। যদি লিঙ্গ শক্ত না হয় ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ আমি হাতে বীর্যপাত করে বীর্য গিলতে চাই। এতে কোনো অসুখ হবে এটা কি ঠিক?
উত্তরঃ বীর্য খাবার জন্য নয়। খাবেন কি না আপনার ব্যাপার। বীর্য খেলে যতদূর জানি অসুখ হয় না।
প্রশ্নঃ মলদ্বারে লিঙ্গ ঢোকালে কি ক্যান্সার হতে পারে?
উত্তরঃ না। ক্যান্সার যৌনবাহিত রোগ নয়। তবে এইডস বা অন্যান্য এসটিডি বা যৌনবাহিত রোগ হতে পারে।
প্রশ্নঃ মদ খেয়ে বীর্যপাত করলে লিঙ্গের মাথায় ব্যথা হয়, না খেলে হয় না কেন?
উত্তরঃ মদ খারাপ। খাবেন না।
প্রশ্নঃ নগ্ন নারী দেখলে আমার লিঙ্গ শক্ত হয়, কিন্তু আমার যৌনসঙ্গিনীর সাথে সঙ্গমের সময় লিঙ্গ শক্ত হয় না।
উত্তরঃ দুশ্চিন্তা, যৌনভীতি এর কারণ। তাকে বিষয়টি জানান। পর্যাপ্ত শৃঙ্গার করুন, সমস্যা দূর হবে।
প্রশ্নঃ আমি পর্নোছবি দেখতে ভালোবাসি। আমার ছুটির দিন ওই ছবি দেখে কাটাই। জানি ব্যাপারটা ঠিক না কী করব?
উত্তরঃ যদি জানেন ভালো না তাহলে দেখা ব করুন। একসময় পেরে যাবেন।
প্রশ্নঃ লিঙ্গ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত শক্ত রাখা কি ঠিক?
উত্তরঃ না। দীর্ঘ সময় লিঙ্গ শক্ত রাখলে বেশ ব্যথা হতে পারে। তবে এ ধরনের নেশা ছেড়ে দেয়া ভালো।
প্রশ্নঃ সুইমিংপুলে হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত করলে কি মেয়েরা গর্ভবতী হয়ে যাবে?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ গতরাতে আমার শোয়ার ঘরে সমকামীদের ব্যবহারের কিছু যন্ত্র ও পত্রিকা পেয়েছি। আমি চমকে গেছি। আমার স্বামীকে প্রশ্ন করলে প্রথমে এড়িয়ে গেলেও পরে স্বীকার করেছে তার। সে ড্রাইভার, বাইরে বাইরে রাত কাটায়। ইদানীং যৌনসঙ্গমেও তার আগ্রহ কমে গেছে, খুব চিন্তিত, কী করব?
উত্তরঃ এক্ষেত্রে আপনার স্বামীকে যৌন বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। তার পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করুন। আশা করি সমাধান একটা কিছু হবে।
প্রশ্নঃ বেশি হস্তমৈথুন করলে বীর্যপাত হতে কি দেরি হতে পারে।
উত্তরঃ যত কম বীর্যপাত হবে অর্থাৎ হস্তমৈথুন যত কম করা যাবে পরের দিকে তত তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হবে। এটাই স্বাভাবিক।
প্রশ্নঃ আমার যৌনসঙ্গিনীর সাথে প্রায় ১ বছরের বেশি হলো সপ্তাহে ৬ বারের বেশি যৌনসঙ্গম করেছি। ইদানীং যৌনসঙ্গম করার ইচ্ছা একেবারে কমে গেছে। এতে সে খুব অসন্তুষ্ট, এটা কি মানসিক না শারীরিক সমস্যা?
উত্তরঃ মানসিক সমস্যা মনে হচ্ছে। বোধহয় যৌনকলায় নতুনত্ব আনতে হবে। নতুন শৃঙ্গার পদ্ধতি, পূর্বরাগ প্রয়োগ করে দেখুন।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ১৬ বছর। আমার বুর মা খুব সেক্সি। একদিন সে আমার হস্তমৈথুন করে দেয়। এর পর তার সাথে চরম যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হই। এখন সে বলছে তাকে গর্ভবতী করতে, কী করব?
উত্তরঃ সম্পর্কটা একেবারেই স্বাভাবিক নয়। সেও প্রাপ্তবয়স্ক, তাকেই ভাবতে বলুন বিষয়টা ঠিক হবে কি না।
প্রশ্নঃ মলদ্বারে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে কোনটি সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি? কেউ যদি করে দিত? কী করে করব?
উত্তরঃ এটা ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার। আঙ্গুল ব্যবহার করাটা নিরাপদ। তবে গাজর বা কলা ব্যবহার করে অনেকে। এতে মলদ্বারের ভেতরের পর্দা ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। মলদ্বারে কখনো কখনো ওগুলো ভেঙে গিয়ে ঢুকে থাকে, হাসপাতালে যেতে হয় বের করার জন্য। নিজেই চিন্তা করুন কী করবেন।
প্রশ্নঃ মলদ্বারে সঙ্গম করার আগে কি পিচ্ছিলকারক ব্যবহার করতে হবে। কলায় কনডম পরিয়ে করেছি ব্যথা লাগে।
উত্তরঃ করলে ভালো। না করলে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কলায় কনডম পেঁচানো মন্দ না- ব্যথা ধীরে ধীরে চলে যাবে।
প্রশ্নঃ কনডম পরে বীর্যপাত করার পরও যৌনসঙ্গম চালিয়ে গেলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উত্তরঃ শুধু যৌনসঙ্গম না করলেই গর্ভবতী না হওয়ার সম্ভাবনা ১০০%। এ ছাড়া কোনো জন্ম নিরোধক ব্যবস্থাই ১০০% কার্যকরী না। শুক্রাণু ধ্বংস করে এমন রাসায়নিক মাখানো কনডম ব্যবহার করা নিরাপদ।
প্রশ্নঃ ইদানীং আমার স্বামী যৌনসঙ্গমের পরিবর্তে আমাকে দিয়ে হস্তমৈথুন করাচ্ছে। এটা কি স্বাভাবিক?
উত্তরঃ যৌন সম্পর্ক ঠিক ও টিকিয়ে রাখতে গেলে দু পক্ষের মতামত দরকার। আলোচনা করুন আপনার ইচ্ছার কামনার কথা তাকে জানান।
প্রশ্নঃ আমি পর্নোগ্রাফিতে খুব আসক্ত। ভবিষ্যতে কি সমস্যা হতে পারে?
উত্তরঃ জুয়া, মাদকদ্রব্যের নেশার মতো এটিও নেশাতে পরিণত হতে পারে। তেমন হওয়ার আগেই এ অভ্যাস ত্যাগ করা ভালো।
প্রশ্নঃ যে কোনো রকম, সুন্দর বা অসুন্দর মেয়েদের দেখলেই আমার স্বামীর লিঙ্গ শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর মানে কি সে তাদের সাথে যৌনসঙ্গম করতে চাচ্ছে?
উত্তরঃ সব সময় ঠিক না। তবে যৌনচিন্তা না করলে এরকম হওয়ার কথা না। সব পুরুষের কমবেশি এটা হয়- সবাই তাদের স্ত্রীদের কাছে এটা খুলে বলে না। তবে এটা উদ্দেশ্যমূলক নাও হতে পারে। সব সময় ছোটখাটো বিষয়কে খুব অস্বাভাবিক না ভাবাই ভালো।
প্রশ্নঃ আমার স্বামীর বয়স ২৭, আমার ২২ বছর। বীর্যপাতের সময় ইদানীং সে ঘেমে যায়, আমার গায়ের ওপর ঢলে পড়ে, যেন Collapse করেছে। এরপর শ্বাসকষ্ট হয়। বীর্যপাতে কি এত কষ্ট হতে পারে? না কি সে দুর্বল?
উত্তরঃ ৫ মিনিট দৌড়ালে বা জগিং করলে যে কষ্ট হয় বীর্যপাতে ততটা কষ্ট হওয়ার কথা না। তবে বীর্যপাতে বেশ শক্তির প্রয়োজন হয়। তবে এরকম প্রায় শোনা যায় না।
প্রশ্নঃ ইদানীং প্রায়ই যখন তখন আমার লিঙ্গ শক্ত হয়ে যাচ্ছে। তখন বাথরুমে না যেয়ে পারি না। হস্তমৈথুন করতে হয়। এতে আমার কি কোনো সমস্যা হবে।
উত্তরঃ এটা স্বাভাবিক। কারো কারো কখনো এ রকম হয়। এ থেকে কোনো সমস্যা হয় না।
প্রশ্নঃ আমি কোকেইন সেবন করি। মাঝে মাঝে সমকামিতা করি। এটা কি ঠিক হচ্ছে?
উত্তরঃ কোকেইন একটা মাদকদ্রব্য। এটা খেলে শারীরিক ও মানসিক নানা রকম সমস্যা হয়। এ থেকে দূরে থাকা ভালো। আর সমকামিতা এটা আপনার যৌন মানসিক সমস্যা, এর চিকিৎসা প্রয়োজন। আপনি উভয় চিকিৎসার জন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।
প্রশ্নঃ একাধিকবার বীযপাত কি অসুখের কারণ হতে পারে?
উত্তরঃ এতে শারীরিক কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় না। কখনো কখনো ব্যথা হতে পারে, তবে সেটা কমে যায়।
পুরুষ যৌনতাবিষয়ক প্রশ্ন
প্রশ্নঃ আমি ও আমার পুরুষ বু একে অপরের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করি। বিষয়টা নিয়ে আমরা আলাপ করিনি, এটা কি স্বাভাবিক?
উত্তরঃ আমরা কেউই স্বাভাবিক না। পুরুষের মধ্যে এ ধরনের আবেগ কোনো না কোনো সময় তৈরি হয়। এই অনুভূতি মনে জেগেছে তার মানে এই নয় যে তাই বাস্তবে করতে হবে।
প্রশ্নঃ বিকিনি পরা মেয়ে দেখলে উত্তেজনা আসে না আমার কিন্তু জাঙ্গিয়া পরা ছেলে দেখলে আসে। আমি কি সমকামী?
উত্তরঃ এর মানে তাই না। এরকম হচ্ছে বলেই আপনাকে সমকামী ঘোষণা দেয়া যাবে না। নানাভাবে মনে উত্তেজনা আসে। যৌন বিষয়ে উত্তেজক হিসেবে কোনটা অগ্রাধিকার পাবে তা নিশ্চিত করার ব্যাপার আপনার। এছাড়াও অনেক কিছু আছে যা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এখন যৌনতার ধরন নির্দিষ্ট করতে হবে এমন কিছু না। সময় নিন আরো ভাবুন।
প্রশ্নঃ ১২ বছর বয়স থেকে আমি দ্বিধাগ্রস্ত। আগেও কয়েকবার হয়েছে কিন্তু গত গ্রীষ্মকালে এক পুরুষ বুর সাথে যথেষ্ট সিরিয়াস যৌনসঙ্গম করেছি। কোনো মেয়ে দেখলে আমার উত্তেজনা আসে না এবং আমি বুঝতে পারছি- আমি সমকামী। কিন্তু কিভাবে আমি পরিবারে একথা প্রকাশ করব?
উত্তরঃ যখন প্রকাশ করার, যে সব সমস্যা হবে সেগুলোর সামনাসামনি হওয়ার ও সমাধান করার মতো সামর্থ্য হবে তখন বলতে হবে, এর আগে নয়। তাড়াহুড়া করার দরকার নেই, সময় নিন। ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে কাজ করুন।
প্রশ্নঃ আমরা ৫ বু মিলে এক সাথে ঘুমাই। রাতে আমরা ৫ জন একসাথে হস্তমৈথুন করি। পর্নোছবি দেখি, এটা কি স্বাভাবিক।
উত্তরঃ বেশিরভাগ পুরুষ কোনো না কোনো সময়ে এ কাজ করে থাকে। যদি এ কাজে আনন্দ আনে তাহলে হয়তো এটা স্বাভাবিক। এ ধরনের কাজ করে যদি সমস্যার সৃষ্টি না হয় তাহলে ঠিক আছে। এ ধরনের কাজে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। অন্যের ও নিজের সমস্যা না হলে হয়তো ভুল নয়।
প্রশ্নঃ সহপাঠীদের নিয়ে যৌনচিন্তা কি স্বাভাবিক?
উত্তরঃ বাতিকে পরিণত না হলে অস্বাভাবিক কিছু নয়।
প্রশ্নঃ আমি ছোটবেলা মায়ের পোশাক পরে হস্তমৈথুন করতাম। এই পোশাকে যেসব পুরুষ দেখতাম তাদের নিয়ে যৌন কল্পনা করতাম। কিন্তু এখন আমি ১৯ বছর বয়সী। আমি আর পুরুষ দেখে উত্তেজনা পাই না। মেয়ে দেখলেই উত্তেজনাবোধ করি। আপনি কি মনে করেন আমি সমকামী ছিলাম। কিন্তু এখন আর নেই। আমার মানসিক রোগ ছিল?
উত্তরঃ ওসব ছোটবেলার ঘটনা। ওই সময় কত কিছু করে সবাই, বড় হলে সেসব আর থাকে না। যৌন পছন্দগুলোও সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। যখন নিজেকে চেনা যায় তখনই তার পছন্দগুলো নির্বাচিত হয়ে যায়। আমার মনে হয় আপনার পছন্দগুলো আপনি ঠিক করতে পেরেছেন এখন। তবে অনেক মানুষ আছে যারা জানে না যৌন পছন্দ কী হওয়া উচিত।
প্রশ্নঃ যদি যৌন মনন পরিবর্তন হয় বয়সের সাথে সাথে তাহলে এমন কোনো কোনো উপায় আছে যা দিয়ে খারাপ দিকে পরিবর্তন ঠেকানো যায়?
উত্তরঃ মনে হয় এই পরিবর্তন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ নিয়ে বহু কিছু লেখা হলেও মনে হয় আধ্যাত্মিকতা দিয়েই মনকে সঠিক পথে ধরে রাখা যায়।
প্রশ্নঃ আমার বয়স তখন ১৩ বছর। আমার বু ও আমি মিলে মেয়েদের নগ্ন ছবি দেখছিলাম। আমার বুটি হস্তমৈথুন করা শুরু করল। দেখে আমিও শুরু করলাম। এরপর আমরা একে অপরকে করে দিলাম অনেকক্ষণ, এটা কি স্বাভাবিক?
উত্তরঃ এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা স্বাভাবিক। তবে যদি এ ধরনের কাজ আপনাকে বিচলিত করে তাহলে এসব থেকে দূরে থাকা ভালো। তবে ছোটবেলার ছোট একটা ঘটনা দিয়ে যৌনতা ও যৌন পছন্দ নির্ধারিত হয় না।
প্রশ্নঃ পুরুষ দেখলে আমার লজ্জা করে। কী করে নিষকৃতি পাব।
উত্তরঃ ধীরে ধীরে পুরুষের সাথে মেলামেশা করুন। তাদের সাথে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করুন, ক্লাবে যাওয়া অভ্যাস করুন।
প্রশ্নঃ পুরুষ দেখলে আমি উত্তেজিত হই কিন্তু সঙ্গম করি মেয়েদের সাথে। আমি কি সমকামী?
উত্তরঃ শুধু ওইটুকু আচরণ থেকে এটা বলা যায় না। আপনার যৌন পছন্দ কি সেটা আপনিই নির্ধারণ করে দেখুন, আপনার পছন্দ কি ধরনের।
প্রশ্নঃ আমি সমকামী। সব সময় আমি মলদ্বারে ঢুকিয়ে থাকি। কিন্তু কিছুদিন আগে আমার মলদ্বারে একজন তার লিঙ্গ ঢুকালে এবং বীর্যপাত না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে গেল। যখন সে লিঙ্গ দিয়ে সজোরে চাপ দিচ্ছিল আমার তখন চরম ভালো লাগছিল। আমার লিঙ্গ বিশাল আকার ধারণ করল এবং প্রচুর বীর্যপাতের সাথে আমার চরমপুলক হলো। কেন এমন হলো।
উত্তরঃ লিঙ্গ প্রস্টেট গ্রন্থিকে চাপ দিলে এ ধরনের উত্তেজনা ও বীর্যপাত হতে পারে। চাপে গ্রন্থি থেকে বেশিরভাগ রস বেরিয়ে এসেছিল।
প্রশ্নঃ আমি পুরুষ দেখলে নার্ভাস হয়ে পড়ি। যে কেউ আমাকে এরকম দেখলে ভাববে আমি সমকামী। আমি বুঝতে পারছি না আমি কী?
উত্তরঃ আপনার মতো অনেকেই এরকম নার্ভাসনেস বা অস্বস্তি অনুভব করে। কী ধরনের যৌন পছন্দ এটা বুঝতে না পারলে পুরুষদের সাথে ধীরে ধীরে মেলামেশা করুন, এক সময় আপনার অবস্থান বুঝতে পারবেন।
প্রশ্নঃ Solo Sexual শব্দটার মানে কী?
উত্তরঃ যে ব্যক্তি যৌন তৃপ্তি পাওয়ার জন্য একা একা হস্তমৈথুন করে।
প্রশ্নঃ আমি কিশোর। আমার লিঙ্গ চুষতে ইচ্ছা করে পুরুষের। কী করে তেমন কোনো একজনকে পাব?
উত্তরঃ এটা ভালো চিন্তা নয়। যৌনতা হলো একটা বুত্ব, সম্পর্ক ভালোবাসা, পারসপরিক, আকাঙ্ক্ষাকে বুঝে নেয়া- একটা দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। দেখতে ইচ্ছা করছে কেমন তাই কাজটা করাটা বোধহয় ঠিক না।
প্রশ্নঃ ছোটবেলা ছেলেদের দেখে আকর্ষণ পেতাম। কিন্তু সেই সাথে মনে হতো ব্যাপারটা খারাপ। তাহলে আমার যা মনে আসে তাই করব না বিষয়টা খারাপ জেনে দূরে থাকব? আমি কি সমকামী?
উত্তরঃ এখন আপনার বয়স বলেননি। চিন্তা করলেই সমকামী হয় না। জীবন আরো কিছু দূর পার করুন, অভিজ্ঞতা বাড়ুক তখন একসময় নিজের যৌন পছন্দ আপনি জানতে পারবেন।
প্রশ্নঃ আমি আমার বাবার লিঙ্গ দেখেছি। এতে মাঝে মাঝে উত্তেজিত বোধ করেছি। আমি কি সমকামী?
উত্তরঃ এরকম হতেই পারে। যৌন পছন্দ গাঢ় হতে অনেকটা বয়স ও অভিজ্ঞতা পার করতে হয়। ডাক্তার আগে থেকেই বলতে পারবে না কেউ সমকামী কি না।
প্রশ্নঃ আমার নিজেকে সমকামী মনে হয়। আমার বয়স ১৬ বছর। কী করে বুঝব?
উত্তরঃ যৌনতা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে যেমন-শারীরিক আকর্ষণ, ভালোবাসা, জীবনের লক্ষ্য, লিঙ্গ শনাক্তকরণ, সংস্কৃতি, সঙ্গী বা সঙ্গিনীর নিকট থেকে আশা, বনের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা। যৌন পছন্দ হলো বিবিধ যৌন অবস্থানের মধ্যে (Spectrum of sexualtion) থেকে যে কোনো একটা অবস্থান। সুতরাং এত অল্প বয়সে যৌন অবস্থান বুঝে নেয়াটা সহজ নয়।
প্রশ্নঃ আমি পুরুষ কিন্তু নিজেকে মেয়ে মনে করি (Transsexual)। বয়স ৩০ বছর। আমার লিঙ্গ পরিবর্তন করতে চেয়েছি, হরমোন চিকিৎসা নিতে চেয়েছি। কিন্তু আমি মেয়েদের সাথে সেক্স করতে ভালোবাসি। কিন্তু সম্প্রতি লিঙ্গ শক্ত হচ্ছে না, এটা কি মানসিক সমস্যা।
উত্তরঃ খুব স্বাভাবিক হয়তো। নিজেকে সারাক্ষণ মেয়ে ভাবতে থাকলে আপনি স্বাভাবিক কাজ করবেন কিভাবে। আপনি মনোচিকিৎসক, লিঙ্গ চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নিন- লিঙ্গ নির্ধারণ করে নিন, সমস্যা দূর হবে।
প্রশ্নঃ আমি মেয়ে দেখলে উত্তেজিত হই। কিন্তু আমার এক পুরুষ বু তার মলদ্বার দেখিয়েছে দুইবার। আমি লিঙ্গ ঢুকাতে চাই কী করব-বুঝতে পারছি না।
উত্তরঃ না বুঝলে-না করাই ভালো।
প্রশ্নঃ আমার বাবাকে মাঝে মাঝে উলঙ্গ অবস্থায় দেখেছি। মাঝে মাঝে তাকে নিয়ে যৌন কল্পনা হয়। আমার কোনো কিছু হলো নাকি?
উত্তরঃ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যৌন কল্পনা ঠিক নয়। হস্তমেথুনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তার কথা মনে না করাই ভালো।
প্রশ্নঃ ৩ জন মেয়ের সাথে আগে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন আমি Strip ক্লাবে যাই। ওখানে মেয়েরা নাচতে নাচতে শরীরের কাপড় খুলে ফেলে। টেবিলের ওপর ওদের নাচ আমাকে প্রচণ্ড আকৃষ্ট করে। মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করি না। আপনি কি মনে করেন এ ধরনের নেশা মন থেকে ভালোবাসা ও অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক দূর করে দেবে- আমি কি Sexaholic.
উত্তরঃ হ্যাঁ তাই তো মনে হচ্ছে।
প্রশ্নঃ মেয়ে ও ছেলেদের সাথে আমার যৌন সম্পর্ক আছে। সে অর্থে আমি উভকামী (Bisexual)। কিন্তু মেয়েদের দেখলে তেমন আর উত্তেজনা আসে না। অথচ ছেলে দেখলে আমার প্রচণ্ড উত্তেজনা আসে এবং তাদের সাথে যৌনসঙ্গমে আনন্দ পাই। আমি কি সমকামী।
উত্তরঃ শুধু এটুকু থেকেই একজনকে সমকামী বলা যায় না। তবে যেহেতু ছেলেদের সাথে সম্পর্কে আপনার তৃপ্তি বেশি সে দিক থেকে বলা যায় হয়তো কিছুটা সমকামিতা আপনার আছে।
প্রশ্নঃ Heterosexuality এবং Metrosexuality কি?
উত্তরঃ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ ও যৌন সম্পর্ক স্থাপন হলো Heterosexuality, Metrosexuality হলো যে নিজের লিঙ্গ গুণাবলী বাদ দেয় না অথচ অন্য লিঙ্গের আচরণের সুবিধাজনক দিকগুলো ব্যবহার করে। যেমন মেয়েরা ভ্যানিটি ব্যাগ ব্যবহার করে তেমন একজন পুরুষ একটা মানিব্যাগ কিনল যা খানিকটা ভ্যানিটি ব্যাগের মতো। অনেক কিছু রাখা যায়। এ ধরনের আচরণ তারা করে। এরা উভকামী, সমকামী, বিপরীতকামী যে কোনো যৌন আচরণের হতে পারে।
পুরুষ হস্তমৈথুন বিষয়ক প্রশ্ন
প্রশ্নঃ আমার লিঙ্গের ওপরের শিরাগুলো ভেসে উঠেছে। ডাক্তার বলেছেন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট দিয়ে-আপনার কিছু হয়নি। কিন্তু আমি আয়না দিয়ে লিঙ্গ দেখি, আমার সন্দেহ দূর হচ্ছে না।
উত্তরঃ লিঙ্গের ওপরের শিরা ভেসেই থাকে। এটা আপনার বাতিকে পরিণত হচ্ছে।
প্রশ্নঃ পাকিস্তানে হাতুড়ে ডাক্তারগণ বলে হস্তমৈথুন করলে যৌনাঙ্গ দুর্বল হয়। এর জন্য তারা ওষুধ দেয়? ওরা কি ঠিক জিনিস দিচ্ছে।
উত্তরঃ ধোঁকাবাজি! যৌনাঙ্গ ঠিক করার ওষুধ নেই। হস্তমৈথুন করলে যৌনসঙ্গমের ইচ্ছা কমে আসে কিন্তু কয়েকদিন পরে ওটা ঠিক হয়ে যায়।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করতে করতে একঘেয়েমি ধরে গেছে। এখন নতুন নতুন পদ্ধতি চেষ্টা করতে গিয়ে মলদ্বারে আঙ্গুল ঢোকানো শুরু করেছি। তাও ভালো লাগে না। কলা দিয়ে চেষ্টা করছি, কী ধরনের সাবান ব্যবহার করব?
উত্তরঃ রান্নার তেল ব্যবহার করা যায়। মলদ্বারে এমন কিছু ঢোকানো ঠিক না যাতে আঘাত লাগতে পারে। বোতল, কাঠের দণ্ড, মার্কার, লিপস্টিকের বোতল কোনোটাই নিরাপদ নয়।
প্রশ্নঃ আমার স্ত্রী চার মাসের গর্ভবতী। তার এখন কোনো যৌন ইচ্ছা নেই। আমি হতাশ হয়ে গেছি। বীর্যপাত করিনি অনেকদিন হলো।
উত্তরঃ স্ত্রীর সাথে সম্ভব না হলে হস্তমৈথুন করুন আপাতত।
প্রশ্নঃ ১৫ বছর ধরে হস্তমৈথুন করেছি। সামনে বিয়ে। ভয় হচ্ছে সফল হতে পারব তো? ডাক্তারের পরামর্শ নেব?
উত্তরঃ মধ্যমমাত্রায় হস্তমৈথুনের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন হয় না।
প্রশ্নঃ আমি থেমে থেমে হস্তমৈথুন করি। বীর্যপাত এভাবে পিছিয়ে দিয়ে শেষে যখন বীর্যপাত করি তখন প্রচুর বীর্যরস ক্ষরণ ও বীর্যপাত হয়। এটাই কি নিয়ম?
উত্তরঃ হ্যাঁ এরকমই হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে অণ্ডকোষের কি কোনো ক্ষতি হয়?
উত্তরঃ তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে কারো কারো অণ্ডকোষ সামান্য বড় হতে দেখা যায়।
প্রশ্নঃ আগে দিনে ৯ বার হস্তমৈথুন করতাম ২০ বছর বয়স পর্যন্ত। এখন ৩ বার করি। তবে ইদানীং ১ বারের বেশি পারি না। অণ্ডকোষ নরম হয়ে গেছে, ঝুলে গেছে। উপরে ওঠে না। মনে হয় সব শেষ হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছেন সব কিছু ঠিক আছে। আর কি কোনো আশা আছে?
উত্তরঃ মনে হচ্ছে সব ঠিক আছে। অতবার না করে ১ দিন পর পর করুন। মনে হচ্ছে হস্তমৈথুনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ভালো হলো এবার অন্য কাজে মন দিন। আরো অনেক কিছু করার আছে জীবনে।
প্রশ্নঃ আমি থেমে থেমে হস্তমৈথুন করি। এ সময় আমি লিঙ্গের মাংসপেশি দিয়ে লিঙ্গ নাচাই। এটা কি লিঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে? এর জন্য আমার লিঙ্গ কি ছোট হয়ে যাবে?
উত্তরঃ লিঙ্গের মাংসপেশি লিঙ্গকে নাড়ানোর জন্য। এতে লিঙ্গের আকারের কোনো পরিবর্তন হয় না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন কি লম্বা হওয়া থামিয়ে দেয়?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ দীর্ঘ সময় ধরে হস্তমৈথুন করলে আমার লিঙ্গে ও অণ্ডকোষে ব্যথা হয় এবং প্রস্রাবের সময় সামান্য জ্বালা করে। কোনো সমস্যা কি এটা? তাড়াতাড়ি করলে এমন হয় না।
উত্তরঃ অনেকেরই অভিযোগ এটা। এটা খুব সাংঘাতিক কোনো সমস্যা না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করার সময় মেয়েদের নিয়ে চিন্তা করি। যে মেয়েদের নিয়ে চিন্তা করি তাদের একটা তালিকা রেখেছি, এটা কি কোনো অসুখ?
উত্তরঃ এটা একটা অবসেশন হতে পারে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত না এ কাজ আপনার অন্য কাজকে ব্যাহত করছে অথবা অন্যের ওপর প্রভাব ফেলছে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা ঠিক আছে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুনটা নেশার মতো হয়ে গেছে। যদিও মনে হয় অপরাধ হচ্ছে তার পরও পর্নো দেখলে ঠিক থাকতে পারি না। মাঝে মাঝে স্বপ্নদোষও হয়। হস্তমৈথুন করলে কি স্বপ্নদোষ হয়?
উত্তরঃ পর্নো দেখা ছেড়ে দিন। হস্তমৈথুন কমিয়ে আনুন। হস্তমৈথুন করলে স্বপ্নদোষ কম হয়।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি চোখ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত ব করার জন্য লিঙ্গের মাংসপেশি সংকোচন করি। এটা কি ক্ষতিকর কিছু। এটা কি চরমপুলক ও সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা কমাতে পারে?
উত্তরঃ ওভাবে বীর্যপাত বরে চেষ্টায় ক্ষতি হয় না- তবে যদি আঙ্গুল দিয়ে লিঙ্গ চেপে ধরে লিঙ্গের ভেতরেই বীর্যপাত ঘটানো হয় তাহলে পরে ক্ষতি হতে পারে।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ২৫ বছর। এখনো হস্তমৈথুন করিনি। পিচ্ছিলকারক ছাড়া কি হস্তমৈথুন করা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ। হস্তমৈথুন না করাটা অস্বাস্থ্যকর নয়।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ৭০ বছর। আমি বিবাহিত এবং এখনো হস্তমৈথুন করি। এতে কি হার্টের অসুখ হতে পারে?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ আমার লিঙ্গের নিচে গুটি গুটি কি যেন দেখা দিয়েছে। আমি নিয়মিত প্রতিদিন ৩ বার হস্তমৈথুন করি। এটা কি হস্তমৈথুনের ফল?
উত্তরঃ ঘনঘন হস্তমৈথুন করলে চামড়ায় ক্ষত হতে পারে, তবে গুটি হবে না। কিছুদিন দেখুন, না সারলে ডাক্তার দেখান।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি তালপাতার সেপাই হয়ে যায়?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি ওজন, শক্তি, দীর্ঘ সময় কষ্ট পরিশ্রম করার ক্ষমতা কমে যায়?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুনের সময় লিঙ্গ মুণ্ড কি বড় হয়? কি পিচ্ছিলকারক ব্যবহার করব। ভ্যাসলিন কি ভালো?
উত্তরঃ হ্যাঁ হতে পারে। রান্নার তেল, বেবি লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ভ্যাসলিন বেশ আঠালো ধরনের, ততটা সুবিধা হবে না।
প্রশ্নঃ লিঙ্গ দেখে কি বলা যায় যে সে হস্তমৈথুন করে কি না?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে তরল কোনো কিছু বেরিয়ে আসে, আমার সেটা হয় না।
উত্তরঃ আপনার বয়স এখন কম হতে পারে।
প্রশ্নঃ আমি স্ত্রী সঙ্গম করি সপ্তাহে ৩ বার এবং ৪ বার হস্তমৈথুন করি। এতে আমরা খুব সুখে আছি। সমস্যা হচ্ছে না। অনেকেই মনে করে হস্তমৈথুন ক্ষতিকর। মনে হয় তাদের জানানো দরকার।
উত্তরঃ হ্যাঁ বিষয়টা নিয়ে লিখুন। যারা ক্ষতিকর মনে করে তারা কিছুটা তথ্য পাবে।
প্রশ্নঃ একটা মেয়ে বলে সে হস্তমৈথুন করে কিন্তু পুরুষের কথা চিন্তা করে না। আমরা তো কোনো নারী কল্পনা করে তা করি। এটা কি সম্ভব? সে আরো বলেছে চরমপুলক কি সে জানে না।
উত্তরঃ সাধারণত মেয়েদের বেলায় এটা দেখা যায়, তারা হস্তমৈথুনের সময় কোনো পুরুষ নিয়ে চিন্তা করে না। ছেলেদেরও এই গুণ অর্জন করা উচিত। চরমপুলক সম্বন্ধে ধারণা তার নাও থাকতে পারে। যৌনশিক্ষামূলক বই পড়লে সে ধারণা পেতে পারে।
প্রশ্নঃ আমি প্রতিদিন হস্তমৈথুন করি। আমার লিঙ্গ মুণ্ডের গোড়ায় কিছুটা এলাকায় ফুসকুড়ির মতো হয়েছে এবং কালো হয়ে গেছে। আমি কোনো তেল ব্যবহার করি না, ডাক্তারকে বলতে লজ্জা করে। জানি না কী করব।
উত্তরঃ ছোট থাকতেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা ভালো। চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। পিচ্ছিলকারক হিসেবে রান্নার তেল, বেবি লোশন ব্যবহার করতে পারেন।
প্রশ্নঃ আমি এখন ৩০ বছর বয়সী। ১১ বছর বয়স থেকে প্রতিদিন হস্তমৈথুন করি। বীর্যপাতের সময় প্রচণ্ড চিৎকার করে উঠি। কেন এমন হয়। আমার হাঁপানি আছে। একবার বীর্যপাতের পর আমার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল, কেন হলো?
উত্তরঃ অনেকেই বীর্যপাতের আগে চিৎকার-চেঁচামেচি করে এটা স্বাভাবিক। বীর্যপাতের পর হাঁপানির টান- হয়তো তখন দুটো ঘটনা একসাথে ঘটেছিল। বীর্যপাতের জন্য কখনো হাঁপানির শ্বাস টান হয় না। হস্তমৈথুনের আগে ইনহেলার নিয়ে দেখতে পারেন।
প্রশ্নঃ আমি প্রতিদিন ২ বার হস্তমৈথুন করি। যদি ১ সপ্তাহের জন্য ব রাখি তাহলে কী লক্ষণ দেখা দেবে?
উত্তরঃ যৌন আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যাবে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন ১-২ বছরের জন্য ব করলে কি স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে?
উত্তরঃ ছাড়াটা হয়তো আরামদায়ক হবে না। তবে ছেড়ে দিলে কেউ মরে যাবে না।
প্রশ্নঃ কদিন হস্তমৈথুন ব রাখার পর বীর্য অনেক দূরে ছিটকে যায়- কারণ কি?
উত্তরঃ বীর্য কতদূর ছিটকে যাবে তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। (১) শরীরে কতটা পানি আছে (২) কোন ভঙ্গিমায় বীর্যপাত করা হচ্ছে (৩) শেষ হস্তমৈথুনের কয়দিন পর (৪) মাংসপেশি কতটা শিথিল বা রিলাক্সড (৫) দুশ্চিন্তা, মনের অবস্থা, আশা, দিনে-রাতে কোন সময়ে (৬) অন্যান্য তারতম্যসমূহ।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন অভ্যাসটা ক্রনিক হয়ে গেছে। আমি সমাজে মেলামেশা করতে আর আগ্রহ পাই না। এখন ঠিক করেছি বীর্যপাত ব করব আঙ্গুল দিয়ে লিঙ্গ চেপে ধরে- ভেতরেই বীর্যপাত হবে। এটা কি ক্ষতিকর কিছু?
উত্তরঃ লিঙ্গের ভেতরে বীর্যপাত আটকানো ক্ষতিকর। হস্তমৈথুনের জন্য সামাজিক মেলামেশায় অনীহা ব্যাপারটা বোধহয় ঠিক না। আপনার জন্য কোনো সমস্যা হতে পারে। মানসিক সমস্যাও হতে পারে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করার পর আমার অণ্ডকোষ ঝুলে পড়ে- কেন এমন হয়। মনে হয় সব বীর্য ওখান থেকে বেরিয়ে গেছে।
উত্তরঃ হস্তমৈথুনের সময় শরীর গরম হয়ে ওঠে। এই গরম শরীর থেকে অণ্ডকোষ দূরে সরে যায়, তাই অণ্ডকোষ দুটো ঝুলে পড়ে। বীর্যপাতের সময় অণ্ডকোষ থেকে কোনো বীর্য আসে না। বীর্য অন্য জায়গায় জমা থাকে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি একজন সমকামী হয়ে যায়?
উত্তরঃ না। উভকামী ও সমকামী সবাই হস্তমৈথুন করে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে লিঙ্গের বেড়ে ওঠা কি থেমে যায়?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে আমার সারা শরীরে অ্যালার্জি শুরু হয়। বীর্য বেরিয়ে এলে কি এরকম হয়?
উত্তরঃ এরকম সচরাচর শোনা যায় না। যৌনসঙ্গম করলে যা হয় হস্তমৈথুন করলে তাই হয়, তবে অ্যালার্জি হয় না। আপনার অ্যালার্জি রোগ থাকতে পারে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি সন্তান বিকলাঙ্গ হতে পারে?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ পিচ্ছিলকারক ছাড়া হস্তমৈথুন করলে লিঙ্গ জ্বালা করে, কোন পিচ্ছিলকারক ব্যবহার করব?
উত্তরঃ রান্নার তেল বা বেবি লোশন ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
প্রশ্নঃ অধিক হস্তমৈথুন করলে কি চরমপুলক ব হয়ে যায়?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি সতীত্ব নষ্ট হয়?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন ও যৌনসঙ্গম কি দুটো পৃথক জিনিস?
উত্তরঃ শরীরের জন্য পৃথক কিছু না। তবে যৌনসঙ্গমে যৌনসঙ্গীর প্রয়োজন হয়। তখন শৃঙ্গার করা হয়, হস্তমৈথুনে যেটা হয় না। যৌনসঙ্গমে সঙ্গীর মনের অবস্থাটাকে গুরুত্ব দিতে হয় কিন্তু হস্তমৈথুনে তার প্রয়োজন হয় না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি অ বা কানা হয়ে যায় কেউ?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ আমি সবসময় হস্তমৈথুন করে এসেছি। কিন্তু ২ মাস হলো করি না। এখন আমার ক্লান্তি লাগে, বমি আসে, বুক, হাত অবশ হয় ও ব্যথা করে এবং লিঙ্গ শক্ত হয় না। এটা কি উইথড্রয়াল সিম্পটম?
উত্তরঃ হস্তমৈথুনে এ ধরনের লক্ষণ শোনা যায় না।
প্রশ্নঃ লিঙ্গ পুরুষ বু দিয়ে চোষালে কি সমকামিতা হয়?
উত্তরঃ সমকামী হতে গেলে দীর্ঘদিনের পুরুষ যৌনসঙ্গমের অভ্যাস, ইচ্ছা, পছন্দ থাকতে হবে। এক-দুইবার ওরকম করলেই সমকামিতা বলা যায় না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি অণ্ডকোষ বড় হয়?
উত্তরঃ যদি বাড়ার বয়স থাকে তাহলে অণ্ডকোষ আকারে বাড়বে। অণ্ডকোষ বাড়ার সাথে হস্তমৈথুনের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রশ্নঃ আমার যৌনসঙ্গিনী আমার সাথে সবরকম যৌনকর্ম করে থাকে। কিন্তু কিছুদিন আগে সে যখন আমার লিঙ্গ চুষছিল তখন সেটা শক্ত হলো কিন্তু যোনিতে প্রবেশ করানোর সময় নরম হয়ে গেল। অবশ্য এর দু ঘণ্টা আগে আমি হস্তমৈথুন করেছিলাম, সে জন্য কি এরকম হলো?
উত্তরঃ হ্যাঁ হতে পারে। হস্তমৈথুন করার পর কিছুক্ষণের জন্য যৌন ইচ্ছা কমে যেতে পারে।
প্রশ্নঃ Circle Jerk কাকে বলে?
উত্তরঃ এক সাথে অনেকে মিলে হস্তমৈথুন করাকে Circle Jerk বলে।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ৫২ বছর। ১১ বছর বয়স থেকে আমি হস্তমৈথুন করি। আমার স্ত্রীর যৌন ইচ্ছা খুবই কম, ফলে এখন আমি প্রতিদিনই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হস্তমৈথুন করি। ইদানীং আর শক্ত হচ্ছে না। এতে আমার স্ত্রী অসন্তুষ্ট। কী করব।
উত্তরঃ কেন শক্ত হচ্ছে না এর কারণ অনেক। আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ সবাই কি হস্তমৈথুনের সময় তার বাবীর কথা চিন্তা করে?
উত্তরঃ কেউ করে, কেউ করে না।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ২৩ বছর। ১১ বছর বয়স থেকে হস্তমৈথুন করি। আমি মাঝে মাঝে গোপনে পর্নোছবি দেখি এবং আমি বিবাহিত। কিন্তু আমার স্ত্রীকে তা জানাইনি। এ নিয়ে আমি সবসময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকি। স্ত্রী শুনলে মনে কষ্ট পাবে ভেবে মিথ্যা বলি, তাতে আরো খারাপ লাগে আমার।
উত্তরঃ বিষয়টা শান্তভাবে আপনার স্ত্রীকে জানান। কেন পর্নো দেখেন ও হস্তমৈথুন করেন তাকে বুঝতে দিন। হয়তো সমাধান হতে পারে।
প্রশ্নঃ আমি দিনে ২-৪ বার হস্তমৈথুন করি। গত ২ সপ্তাহ ব রেখেছি। এখন তলপেটে ব্যথা হচ্ছে, এমন হচ্ছে কেন?
উত্তরঃ দীর্ঘদিন হস্তমৈথুন করার পর হঠাৎ ব করলে এমন হয়। একেবারে ব না করে মাঝে মাঝে করুন।
প্রশ্নঃ আগে যখন হস্তমৈথুন অভ্যাস ছিল না তখন পর্নো দেখলে লিঙ্গ পাথরের মতো শক্ত হতো। কিন্তু হস্তমৈথুন করার পর ততটা শক্ত হয় না।
উত্তরঃ বারেবারে হস্তমৈথুন করলে যৌন ইচ্ছার তীব্রতা কমে যায়, তখন এরকম হতে পারে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন না করলে ঘুম আসে না। কিভাবে স্বাভাবিক জীবন পাব?
উত্তরঃ এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করুন।
প্রশ্নঃ আমি হস্তমৈথুন করি। আমার লিঙ্গ ডান দিকে বেঁকে যাচ্ছে কেন?
উত্তরঃ লিঙ্গ ডানে বা বামে বাঁকা হতে পারে স্বাভাবিকভাবে। হস্তমৈথুন করলে এটা হয় না।
প্রশ্নঃ আমার মুখে কালো কালো দাগ দেখা দিয়েছে। এটা কি হস্তমৈথুনের ফল?
উত্তরঃ হস্তমৈথুনের ফল এটা না।
প্রশ্নঃ স্ত্রী রাতে ঘুমানোর পর আমি পর্নো দেখি। একদিন ধরা পড়ে যাই এবং সে নানাভাবে আমাকে গালাগালী দেয়। তাকে ছুঁতে নিষেধ করেছে, আমি কি ভুল করছি?
উত্তরঃ অনেকেই এরকম করে। দুজনে মিলে আলোচনা করে সমাধান করা যায়।
প্রশ্নঃ গত ৩ বছর যৌনসঙ্গম করি না আমি। হস্তমৈথুন করতাম, এখন লিঙ্গের অনুভূতি পাই না।
উত্তরঃ হস্তমৈথুনের সময় ঘষাঘষির জন্য এটা হতে পারে। তবে আপনার ডায়াবেটিস আছে কিনা পরীক্ষা করে নিন।
প্রশ্নঃ যৌন ক্লান্তি থেকে কিভাবে উদ্ধার পেতে পারি। গত ১৪ বছর ধরে প্রতিদিন আমি হস্তমৈথুন করি।
উত্তরঃ অত্যধিক যৌনকর্ম থেকে যৌনক্লান্তি আসতে পারে। যৌনকর্ম কমিয়ে দিয়ে যৌন ইচ্ছাটাকে জীবিত রাখুন। যৌনক্লান্তি থেকে যৌন হতাশা অনেক কষ্টদায়ক।
প্রশ্নঃ মাসে ১০ বার হস্তমৈথুন কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এটা কি অসুস্থ বা স্নায়বিক উন্মাদনার সৃষ্টি করে?
উত্তরঃ মাসে ১০ বার হস্তমৈথুন স্বাভাবিক গড়ের মধ্যে। এর চেয়েও অনেকে বেশি করে। তবে দিনে ১০ বার করলে অন্যান্য কাজ করার সময় থাকবে না।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ২২ বছর। আমি সপ্তাহে ৩-৪ বার হস্তমৈথুন করি। এখন দেখতে পাচ্ছি আমার মূত্রনালী ফুলে গেছে এবং বীর্যপাতের পর জ্বালা করে। এটা কি বারেবারে হস্তমৈথুন করার জন্য। বীর্যপাত না হলে ব্যথা হয় না। বীর্যপাতের পরই ব্যথা ও অস্বস্তি। কেন এটা হচ্ছে? আমি জানি আমার এসটিডি (যৌনবাহিত রোগ) হয়নি কারণ আমি নিরাপদ যৌনকর্ম করি গত ২ বছর। কোনো সমস্যা হয়নি।
উত্তরঃ ভুল করে কোনোভাবে ঘষা লেগেছে। কখনো কখনো এরকম হয়, আবার সেরেও যায়। তবে যদি না যায় তাহলে ইউটিআই (মূত্রনালীর সংক্রমণ) এবং ডাক্তার দেখানো ভালো।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কী শরীরের ভেতর যে নানারকম রসক্ষরণ হয় তা কি কমে যায়? খুব অতিরিক্ত ব্যায়াম করে শুক্রাণুকে কি শক্তিতে রূপান্তর করা যায়? হস্তমৈথুন না করলে মনোনিবেশ করাটা আরো বেড়ে যায়?
উত্তরঃ কেউ কেউ বলে বীর্যপাত করে কোনো কাজ করলে তারা বেশি মনোনিবেশ করতে পারে, কাজে মনোযোগ বেড়ে যায়। অন্যরা এ জাতীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করে না। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে ভিন্ন অর্থ দাঁড়ায়। শারীরিকভাবে বলতে গেলে সে রকম কোনো পরিবর্তন হয় না। কেউ বলে বীর্যপাত না করলে কাজে মনোযোগ বাড়ে, কেউ বলে বীর্যপাত করলে বাড়ে। এটা আপনাকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনটা আপনার জন্য ঠিক।
প্রশ্নঃ আমার স্ত্রী আমার হস্তমৈথুন করাকে সমর্থন করে না। তার সাথে পরিচয়ের আগে দিনে ২ বার করতাম। মাত্র ১৫ মিনিট সময় ব্যয় হতো। আমাদের মধুর সম্পর্ক, যদিও তার যৌন ইচ্ছা কম। সে সপ্তাহে দুইবার সঙ্গম করতে চায়। সে আমার হস্তমৈথুনে বিরক্ত, বলে আমি ধর্ষকদের মতো। জানি না কি বলব। আমার হস্তমৈথুন তার যৌনসঙ্গমে বাধার সৃষ্টি করে না। সে আমাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলেছে। আমি কি কোনো অপরাধ করছি?
উত্তরঃ আপনার কোনো অপরাধ হচ্ছে না।
প্রশ্নঃ পর্নো দেখার পর আমি হস্তমৈথুন করি, যৌনসঙ্গম করি না কেন?
উত্তরঃ কোনো পেশাদার কাউন্সিলরের নিকট থেকে আপনার হস্তমৈথুনের উদ্দেশ্যটা জেনে নিন। তবে সাধারণভাবে বলা যায় হস্তমৈথুনে যদি সমস্যা সৃষ্টি করে তাহলে এটা আপনাকে মনোপীড়া দিচ্ছে।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন ও চরমপুলকের পর এত ক্লান্তি আসে কেন?
উত্তরঃ যৌনসঙ্গম ও হস্তমৈথুনের সময় হৃদসপন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যায়। রক্তের চাপ বেড়ে যায়। ৫ মিনিট দৌড়ালে শরীরে যে পরিবর্তন আসে এতেও তাই আসে। শরীর শিথিল হওয়ার জন্য ক্ষণিকের ক্লান্তি আসে কিন্তু সারা দিনের জন্য অবসন্নতা আসে না।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুনের পর আমার অণ্ডকোষ ব্যথা করে, লিঙ্গ ফুলে ওঠে। তলপেট ব্যথা করে, পিঠের নিচের দিকে ব্যথা করে। এটা কি হস্তমৈথুনের ফল? আমি অন্য কারো সাথে যৌনসঙ্গম করিনি। অনেক আগে পিঠে ব্যথা পেয়েছিলাম।
উত্তরঃ ভঙ্গি ও পদ্ধতি পাল্টে দেখুন। বারে বারে অণ্ডকোষে হাতের আঘাত লাগলে ওগুলো ব্যথা হতে পারে। লিঙ্গের সামনের অর্ধেক অংশে হাতের চালনা সীমাবদ্ধ রাখুন। ধীরেসুস্থে শান্তভাবে করুন, ব্যথা কমে যাবে। পিঠের নিচের দিকের ব্যথা হয়তো শরীরের ভঙ্গির জন্য হতে পারে।
প্রশ্নঃ কী করে হস্তমৈথুন ছাড়তে পারি। নিজে নিজে হস্তমৈথুন করলে কি কোনো অসুখ হতে পারে? এসটিডি হতে পারে? Amoxycillin কি এসটিডি সারাতে পারে?
উত্তরঃ এমন কোনো নিয়ম নেই যে হস্তমৈথুন করতেই হবে অথবা হস্তমৈথুন একেবারেই করা যাবে না। আপনার জন্য যেটা আরামদায়ক হবে সেটাই করুন। যদি হস্তমৈথুনে সমস্যা হয় ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে পরে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। তবে খুব কম লোকই সেটা পারে। গনোরিয়া রোগের ক্ষেত্রে অ্যাম্পিসিলিন ব্যবহার হয় কিন্তু অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহার করা হয় না। অন্য কোনো এসটিডি অ্যামোক্সিসিলিনে সারে না। নিজে নিজে হস্তমৈথুন করলে এসটিডি হয় না। এ পদ্ধতিই যৌনকর্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
প্রশ্নঃ আমি প্রতিদিনই হস্তমৈথুন করি। তবে আমার পদ্ধতিটা একটু আলাদা। আমার নরম লিঙ্গকে দুই উরুর মধ্যে চেপে ধরে ঝাঁকুনি দিতে থাকি। অনুভূতিটা অদ্ভুত। কিন্তু ভয় হচ্ছে নারী সঙ্গম বোধহয় মজা লাগবে না এবং আমি বোধহয় সন্তানের পিতা হতে পারব না।
উত্তরঃ আপনার পদ্ধতির জন্য যৌন অক্ষমতা অথবা সন্তান জন্ম দেয়ার অক্ষমতা হবে না। তবে যেভাবে করছেন তাতে লিঙ্গে রক্ত সঞ্চালনে বাধা পাচ্ছে এবং লিঙ্গ শক্ত হতে পারছে না। এতে ভবিষ্যতে লিঙ্গ শক্ত হতে বেগ পেতে পারে। পদ্ধতিটা পাল্টে ফেলুন।
প্রশ্নঃ লিঙ্গ মুণ্ডের ঠোঁটের মতো দুটো অংশ হস্তমৈথুনের পর ফুলে যায়। এভাবে ১-২ ঘণ্টা থাকে। পরে স্বাভাবিক হয়। এটা কি স্বাভাবিক?
উত্তরঃ এটা নিয়ে চিন্তা করবেন না, এটা স্বাভাবিক।
প্রশ্নঃ ঘর্ষণজনিত জ্বালাপোড়ার চিকিৎসা কি?
উত্তরঃ অ্যান্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন করলে কি পরের দিন ঘুম ঘুম ভাব ও ক্লান্তি থাকে? এতে কি ব্রণ হতে পারে?
উত্তরঃ হস্তমৈথুন করলে প্রশান্তি আসে। তেমন হওয়ার কথা না। হস্তমৈথুন করলে মুখে ব্রণ হয় না, এ ধরনের গুজবে কান দেবেন না। দুটো দুই জিনিস। একটার সাথে অন্যটার কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন ছেড়ে দিয়েছি একটানা ৭-৮ বছর করার পর। কিন্তু এখন কোঁত দিলে ধাতু বের হয়, এতে বিবাহিত জীবনে কি সমস্যা হবে। কোনো ট্যাবলেট আছে কি? নাকি হস্তমৈথুন আবার শুরু করব?
উত্তরঃ কোনো সমস্যা হবে না। না, কোনো ট্যাবলেট নেই। শুরু করতে পারেন।
প্রশ্নঃ আমার স্বামী পর্নো ছবি ও প্রতিদিন হস্তমৈথুন করে। আমার সাথে সঙ্গম করতে চায় না। একদিন পর পর সঙ্গম করতে চাই আমি। সে দিনে ৩ বার হস্তমৈথুন করে কিন্তু আমার সাথে মাসে ১ বার কি দুইবার সঙ্গম করতে চায়। এটা কি স্বাভাবিক?
উত্তরঃ অবশ্যই স্বাভাবিক না। আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুনের পর আমার অণ্ডকোষ থলি আঠালো হয় কেন?
উত্তরঃ হস্তমৈথুনের সময় শরীর ঘেমে যায়, এতে আঠালো হয়।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুনের পর লিঙ্গে ঘা হয় কেন?
উত্তরঃ সবার হয় না। আপনি তেল ব্যবহার করুন। অথবা আলতোভাবে করুন।
প্রশ্নঃ ডাক্তার কি বলতে পারে আমি হস্তমৈথুন করছি কি না? প্রস্রাবে যৌনরস আছে কি না তারা তা বলতে পারবে?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ১৫ বছর। আমি দিনে ২ বার হস্তমৈথুন করি। আমার যখন বয়স হবে তখন আমার সন্তানেরা কি মানসিক প্রতিবী বা বিকলাঙ্গ হতে পারে?
উত্তরঃ হতে পারে। তবে সেটা হস্তমৈথুনের জন্য নয়।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন ব করেছি কয়দিন যাতে আমার বীর্যপাত দেরিতে হয়। এরকম কি হয়?
উত্তরঃ এর উল্টোটা হয়। হস্তমৈথুন ব করলে পরে বীর্যপাত তাড়াতাড়ি হয়।
পুরুষ যৌনতাবিষয়ক বিশেষ প্রশ্ন
প্রশ্নঃ আমার বয়স ৪৫ বছর। মানসিক প্রতিবী। মায়ের সাথে থাকি। বাথরুমের দরজা খুলে গোসল করি এবং সে সময় হস্তমৈথুন করি। মানসিক প্রতিবীরা কি এরকম করে?
উত্তরঃ ঘরে মা থাকে। এ অবস্থায় দরজা খুলে হস্তমৈথুন করা ঠিক না। দরজা ব করে করুন। আপনি লিখতে পড়তে পারেন, নিজের অস্বাভাবিক আচরণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিবীকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাবেন না। কারণ এর জন্য কিন্তু আপনি দায়ী।
প্রশ্নঃ আমাদের বিয়ের বয়স দেড় বছর। আমার স্বামীর যৌন ইচ্ছা কম, তারপরও মাসে ১ বার করে সঙ্গম হচ্ছিল। শেষবার হয়েছে ৯ মাস আগে। তাকে আমি খুব ভালোবাসি। বলেছি যে, যৌনসঙ্গমই হলো তোমাকে ভালোবাসি বলার সবচেয়ে সঠিক মাধ্যম। তার বয়স ৪৭ বছর। এখন এর জন্য সে টেস্টোস্টেরন খাচ্ছে প্রায় ১ মাস। এখন সমস্যা কার মধ্যে। বাবা-মা কি তার সামনে সামান্য আদর-সোহাগ প্রকাশ করেনি। যৌন নেশা আমার নেই, কি করা উচিত এখন।
উত্তরঃ আপনার যৌন ইচ্ছা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ আপনার প্রিয় হস্তমৈথুন পদ্ধতি কোনটি। বীর্যপাত না করে কতদিন আপনি থেকেছেন একটানা। কোন যৌন ভঙ্গিমা আপনার ভালো লাগে?
উত্তরঃ Stop and go পদ্ধতি। আমার বয়স যখন ১৫ তখন একটানা ২ সপ্তাহ। অর্ধনগ্ন বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় যৌনসঙ্গম ভালো লাগে। শরীরে কাপড় কিছুটা থাকলে যৌন আবেগ বাড়ে বলে মনে হয়।
প্রশ্নঃ মেয়েদের ভগাঙ্কুর বা ক্লাইটোরিস উত্তেজিত করলে তারা চরমপুলক পায়। কিন্তু লিঙ্গ-যোনির যৌনসঙ্গমে ভগাঙ্কুর ততটা উত্তেজিত হয় না। আবার লিঙ্গ-যোনির যৌনসঙ্গমের চেয়ে ভগাঙ্কুরের উত্তেজনা আরো সুখকর- এরকম কেন হলো?
উত্তরঃ এটাই জীববৈচিত্র্য।
প্রশ্নঃ বয়ঃপ্রাপ্তির পর থেকে মেয়েদের ভালো লাগত, তাদের নিয়ে কল্পনা করতাম। সমকামিতা আমার মাথায় ছিল না। কিন্তু ওই সময় কোনো মেয়ের সাথে যৌনসঙ্গম করার সুযোগ হয়নি। কোনো মেয়ের সাথে সম্পর্ক না থাকায় সবাই আমাকে সমকামী ভাবত। কিন্তু একসময় একটা মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক শুরু হলো। কিছুদিন ভালো চলার পর আমার মধ্যে ওই সমকামিতা সংক্রান্ত কথাগুলো বেশ জোরেশোরে কাজ করতে থাকল। ওই চিন্তা আমি দূর করতে পারতাম না। আমার রোগ নির্ণয় করা হলো ওসিডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এখন বারে বারে সমকামের চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। ছেলে দেখলেই উত্তেজিত হই। আমার মনে হয় অসমকামিতা (হেটেরোসেক্সুয়ালিটি) হারিয়ে ফেলেছি। আপনার কোনো পরামর্শ?
উত্তরঃ নিজেকে এভাবে সরিয়ে পৃথক করে ফেলা ঠিক না। মানুষের সাথে স্বাভাবিক মেলামেশা করুন। পর্নোছবি, যৌন কল্পনা চিন্তা থেকে ব্যক্তি যৌনতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। কাগজের ছবি দেখে উত্তেজিত না হয়ে মানুষের সাথে মিশে যৌন ভালোলাগা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করুন। যৌনতার অপর নাম হলো- ভাগাভাগি করে নেয়া, দেয়া-নেয়া, গ্রহণ করা, ভালোবাসা ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ আমি ছোটবেলা যৌন অত্যাচারের শিকার। তবে এখন আমার বাবী আছে যাকে খুব ভালোবাসি। আমার যৌনক্ষুধা আগের মতো রয়ে গেছে। প্রতিদিন ২ বার হস্তমৈথুন অথবা যৌনসঙ্গম আমাকে করতে হয়। কিন্তু তার যৌনসঙ্গমে ততটা আগ্রহ নেই। আমি লিঙ্গ চোষাতে ও মলদ্বারে যৌনসঙ্গমে আগ্রহী কিন্তু এসবে তার আগ্রহ নেই এবং আমাকে যৌন অভাবে রেখে শাস্তি দিয়ে যাচ্ছে। আমি কি অসুস্থ না সে যৌন জড়?
উত্তরঃ এখনই এতটা বিচলিত হওয়ার দরকার কি? তার সাথে আলাপ করে আপনার ইচ্ছাগুলো বলুন। তাতে সে সমমত না হলে এ যৌন সম্পর্ক আপনার জন্য সুবিধাজনক বলে মনে হচ্ছে। এ সামান্য কটা বাক্যে সে যৌন জড় কিনা বলা যায় না।
প্রশ্নঃ আমার স্বামী পর্নো দেখে হস্তমৈথুন করে। বিষয়টা তার সাথে অনেক আলাপ করেছি। কেউ কারো কথা আমরা শুনছি না। আমি ভাবছি এটা খারাপ কাজ, এর মানে হলো সে আমাকে চায় না। সে অন্য কোনো মেয়ে চায়। আমি এ নিয়ে চিন্তিত। আমি চাই না সে লুকিয়ে করুক, কারণ তাহলে সে আরো অনেক কিছু লুকিয়ে করতে পারে। আমার ফিগার খুব সুন্দর, চাকরি করি। অনেক টাকা আয় করি। আমার যৌন কামনা প্রচণ্ড। আমি যৌনসঙ্গমকে বিয়ের একটা অপরিহার্য অঙ্গ মনে করি এবং সেভাবে চলি। কিন্তু যখন ওসব দেখি তখন মনে হয় আমি যথেষ্ট নই। অবহেলিত বলে আমার ভবিব্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়ি। সব রকম চেষ্টা করে তাকে সন্তুষ্ট করতে পারছি না দেখে খুব খারাপ যাচ্ছে।
উত্তরঃ হস্তমৈথুন মানে আপনাকে সে ভালোবাসে না তা নয়। স্ত্রীও যথেষ্ট নয় এটাও না। ছোটবেলা এই অভ্যাস শুরু হয়। অনেকেই এটা ছাড়তে পারে না। মনে হয় আপনাদের আরো কোনো সমস্যা আছে। আপনারা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ আমার পুরুষ বুর সাথে একসাথে থাকি। সে সপ্তাহে ৩ বার হস্তমৈথুন করে। এতে আমার খুব খারাপ লাগে। মনে হয় আমি তার জন্য যথেষ্ট না। অনেকবার যৌনসঙ্গম করি কিন্তু তারপর এরকম দেখলে মনে হয় আমি বোধহয় যোগ্য না।
উত্তরঃ যদি মনে হয় আপনি অবহেলিত তাহলে আপনি তার হস্তমৈথুনে যোগ দিন। তাকে সাহায্য করুন গোলমাল না করে। যদি তেমন না পারেন তাকে তার মতো থাকতে দিন। সপ্তাহে ৩ বার মানে তো সপ্তাহে প্রচুর সময় থাকে যৌনসঙ্গম করার। এতে সমস্যা হওয়ার কথা না।
প্রশ্নঃ কেন যৌনসঙ্গম করার পরও হস্তমৈথুন করে?
উত্তরঃ যৌনসঙ্গম ও হস্তমৈথুন দুটো দুই ধরনের অভিজ্ঞতা। কখনো কখনো যৌনসঙ্গম করার ইচ্ছা হলেও তেমন সঙ্গী বা সঙ্গিনী পাওয়া যায় না। ফলে তাৎক্ষণিক যৌন ইচ্ছা হস্তমৈথুন দিয়ে সারা যায়।
প্রশ্নঃ সম্প্রতি আমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। আমার নতুন সঙ্গিনীর সাথে যৌনসঙ্গমের সময় লিঙ্গ শক্ত হচ্ছে না। অর্ধেক শক্ত হয়। সে নানাভাবে নাড়াচাড়া, হস্তমৈথুন, মালিশ করে দেয়। অনেকক্ষণ পর আমার লিঙ্গ কিছুটা শক্ত হয়, তারপর তার যোনিপথে সহজে ঢুকতে চায় না। কিন্তু আমার স্ত্রীর সাথে এরকম হতো না। লিঙ্গ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে লিঙ্গে ঘা হয়ে গেছে। আমাকে পরামর্শ দিন।
উত্তরঃ ভালো পিচ্ছিলকারক ব্যবহার করুন। যেমন- রান্নার তেল, বেবি লোশন। আপনার সমস্যা মানসিক বলে মনে হচ্ছে, বোধহয় কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। তবে একেবারে ঠিক না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ হস্তমৈথুনের সময় পত্রিকার সুন্দর মেয়েদের দেখি। সে সময় ভাবি আমি তাদের একজন। এরকম ভাবলে আমার দ্রুত বীর্যপাত হয়। এরকম ভাবা কি ঠিক? নিজেকে অপরাধী মনে হয়।
উত্তরঃ প্রতিটা মানুষই হস্তমৈথুনের সময় যৌন কল্পনা করে এবং সে সব কল্পনা নানা ধরনের। সে রকম আপনারটাও আপনার নিজের মতো। এ নিয়ে নিজেকে অপরাধী ভাবা ঠিক না।
প্রশ্নঃ আমার বাবীর মেয়ের বয়স ১৩ বছর। ইদানীং লক্ষ্য করছি সে আমার লিঙ্গ, বুকের দিকে তাকায়। আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করে। সে দুইবার হস্তমৈথুন করার সময় আমার সামনে পড়েছে। তার মাকে বলেছি সে আরো ক্ষিপ্ত হয়। কী করব?
উত্তরঃ ১৩ বছর বয়সের মেয়ে আপনার জন্য একটা শিশু। তাকে বুঝিয়ে বলুন। এমন আচরণ করুন যাতে সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সবাই এরকম হয় না। সুতরাং আচরণটা স্বাভাবিক না। বলুন যে আমি তোমার বাবা স্থানীয়। এর কাছে একজন আদর্শ পুরুষ হওয়ার সুন্দর সুযোগ আছে আপনার।
প্রশ্নঃ আমার বয়স ৫২ বছর। ৯ বছর আগে স্ত্রী মারা গেছে। এরপর বেশ হস্তমৈথুন করে যাচ্ছি। বীর্যপাত ইদানীং আগের মতো জোরালো হয় না। তবে খুব হস্তমৈথুন করে যাচ্ছি। এর জন্য কি এরকম হতে পারে?
উত্তরঃ আপনার বয়স ৫২ বছর। এ সময় এমনিতেই জোরালো বীর্যপাত তেমন হয় না। হস্তমৈথুন কমিয়ে আনুন, জোরালো বীর্যপাত হবে।
প্রশ্নঃ যৌনতা ও যৌন উত্তেজিত হওয়া বলতে কি বুঝি?
উত্তরঃ Fetichism হচ্ছে কোনো বস্তু হতে যৌন আকর্ষণ অনুভব করা। এক এক জন এক একটা জিনিস দেখে যৌন আকর্ষণ অনুভব করে যেমন- চুল, জুতা, কাপড়, শরীরের বিভিন্ন অংশ, শরীরের বক্রতা। কেউ মেয়েদের কাশি শুনলে বা সিগারেট খেতে দেখলে যৌন আকর্ষণ অনুভব করে। অনেকে বিপরীত লিঙ্গের কাপড় পরে এরকম অনুভব করে (ট্রান্সসেক্সুয়ালিটি)। তেমনি ট্রান্সসেক্সুয়াল যারা তারা লিঙ্গ পরিবর্তনের মধ্যে যৌন আকর্ষণ খুঁজে পায়। তারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে অপারেশন করাতে চায়। অনেকে পা দেখে যৌন উত্তেজনা পায়। অনেকে মেয়েদের প্যান্টি, ব্রা দেখেও ওরকম অনুভব করে এবং ওইসব নিয়ে হস্তমৈথুন করে। এ ধরনের মানুষের মনের মধ্যে একটা বাধা কাজ করে। সেই বাধার জন্য তারা সরাসরি যোগাযোগ বদলে অন্যান্য বস্তুর দ্বারা যৌন উত্তেজনা পাওয়ার বিকল্প পথ খুঁজে নেয়। এসব ক্ষেত্রে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বস্তুটা পুরোপুরি একটা নারীদেহের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। তবে এ ধরনের গুণাবলী সব মানুষের মধ্যেই কমবেশি আছে।

Recent Posts

Categories

Unordered List

Sample Text

Pages